ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের কিভাবে হেনস্তার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদও করেছেন। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে হুংকার ছেড়েছেন। মূলত তার অভিযোগ, বিজেপি শাসিত রাজ্যে এটি করা হচ্ছে। এদিকে ভিন রাজ্যে বাঙালিদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ অস্বীকার করলেন বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি উস্কানির অভিযোগ তুললেন। পাশাপাশি তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন করা হলে তৃণমূল কংগ্রেস ৭০ টা আসনও পাবে না।
ফলে বোঝাই গেল, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ এই রাজ্যেও খুব শীগ্রই শুরু হতে চলেছে। যার আভাস দিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। মনে করা হচ্ছে, এতে খানিকটা চাপে পড়ে গেল শাসক শিবির।
ফলে শাসক বিরোধী তরজা একেবারে তুঙ্গে। বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচনে। তার আগে কোমর বেধে নেমেছে শাসক শিবির। অন্যদিকে বিজেপি শুরু করে দিয়েছে লড়াই। অতি সক্রিয়টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে মিঠুন চক্রবর্তীকে। চারদিন যাবত রাজ্য সফরে এসে করছেন একের পর এক সংগঠনিক বৈঠক। আর সেখান থেকে রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ শানালেন তিনি। তিনি বলেন, যারা বেছে বেছে এখানে এসেছে, তাদের বেছে বেছে ফেলে দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গে সবথেকে বেশি প্রবলেম। ওরা জানেন, বেছে বেছে যারা এসেছে, বেছে বেছে তুলে নিলে এই সরকার ৭০ টা আসনও পাবে না।
অর্থাৎ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভিন রাজ্যে বাঙ্গালীদের ওপর অত্যাচারের ইসুকে কেন্দ্র করে লড়াইয়ে শান দিতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর সেই ইসুকেই পাত্তা দিতে নারাজ বিজেপি। তাই রাজ্য সরকারকে একহাত নিলেন বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও নির্বাচনের দামামা না বাজলেও আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ, হাতিয়ার পাল্টা হাতিয়ারে শান দিতে মরিয়া শাসক ও বিরোধী। সম্প্রতি বঙ্গ সফর করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারও কিছুদিন আগে এসেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মাঝে হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের মহা সমাবেশ। তার আগে বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙ্গালীদের প্রতি হেনস্তা নিয়ে পথে নেমেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে ২৬ এর নির্বাচনে তৃণমূলের এজেন্ডা পরিষ্কার। তাই পাল্টা দাবার চাল দিতে পদ্মফুল এগিয়ে দিল মিঠুন চক্রবর্তীকে। ধীরে ধীরে এর ঝাঁজ এবং পাল্টা ঝাঁঝ বাড়বে,সেটা বলাই বাহুল্য।












Discussion about this post