অনেকে বলছেন, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল উজ জামান নিজের পায়ে নিজেই কুরুল মেরেছেন। মহম্মদ ইউনূসের কথা অনুসরণ করে। বাংলাদেশের জনগণ জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে ভরসা করত। বিশেষত শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি সমস্ত দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে বলেছিলেন, এবার থেকে সমস্ত দায়িত্ব তার। ফলে ইউনূসের সরকার স্বেচ্ছাচারিতা চালালেও সেনাবাহিনীর উপর ভরসা ছিল। কিন্তু গোপালগঞ্জের সাধারণ, নিরীহ মানুষের উপর গুলি চালানোর পর সেই আস্থা ঘুচে গিয়েছে। এমনকি সমালোচিত হয়েছেন আন্তর্জাতিক স্তরে। কেউ কেউ বলছেন, শুধু ইউনূস নন, জামাতকে খুশি করতে গিয়ে বিরাগভাজন হল সেনাবাহিনী।
সেনাপ্রধানের নির্দেশ ছাড়া সেনাবাহিনী গুলি চালাতে পারে না। ফলে জেনারেল ওয়াকারকে এখন ভিলেন চরিত্রে দেখছে দেশ এবং বিদেশের মানুষ।
এমনকি গুলি করা দেহগুলিকে সঙ্গে সঙ্গে সৎকার করে দিয়েছে। কোনও ময়না তদন্ত ছাড়াই। ফলে এমনকি সৎকার করতে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে। এমনটা অভিযোগ উঠে এসেছে। হঠাৎ কেন এই তৎপরতা? সেই প্রশ্ন যেমন উঠেছে, ঠিক একইভাবে প্রশ্ন উঠে কেন সেনাবাহিনী বা ইউনুসের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠবে না? তার কারণ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তেমন অভিযোগ উঠেছিল।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াকার মাঝে মাঝে হুংকার দিতেন দেশের পরিস্থিতি নিয়ে। মনে করা হত, ইউনূসের বিরুদ্ধে তিনি কথা বলছেন। কিন্তু আদতে তিনি নিজের জায়গা দেশের মানুষের কাছে পাকা করতে চেয়েছিলেন। তবে গোপালগঞ্জের পর মানুষের মোহ ভঙ্গ হয়েছে।
অন্যদিকে বন্দর, করিডোর নিয়ে যে বিরোধিতা করেছিলেন সেনাপ্রধান, সেটি যে একেবারেই আইওয়াশ ছিল, সেটি প্রমাণিত হচ্ছে। কারণ সেনাপ্রধানের বিরোধিতা থাকলেও ইউনূস দিনের পর দিন নিজের এজেন্ডা পূরণ করে গেছেন। যেমন বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় খুলতে অনুমতি দিয়েছে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিছু শর্তের বিনিময়ে। এদিকে গোটা বিশ্বে ১৮ দেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় রয়েছে। এই সমস্ত জায়গাতে রয়েছে শান্তি রক্ষা বাহিনী। এমনকি প্রত্যেকটি দেশের দিকে নজর রাখলে বোঝা যায়, গৃহযুদ্ধ থেকে একাধিক অভ্যন্তরীণ সমস্যায় জর্জরিত দেশগুলি। বাংলাদেশও যে সেই দিকে হাঁটছে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এর জেরে বিদেশী বিনিয়োগ আসা বন্ধ হয়ে যাবে। তবে সূত্রের খবর যে শর্তগুলি মেনে নিয়েছেন ইউনূস, তিনি লাভবান হবেন। আদতে যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, সেনাপ্রধান তার হয়েই কাজ করে। এখন মহম্মদ ইউনূস, ছাত্রনেতাদের জমানা, তাই সেই দিকেই ঝুঁকেছেন জেনারেল ওয়াকার।












Discussion about this post