২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনে অভিযোগ উঠেছিল, শেখ হাসিনার বাহিনী ছাত্রদের উপর গুলি চালিয়েছে। এমনকি তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিচার চলছে। এমনকি কিছুক্ষেত্রে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। এদিকে শেখ হাসিনা গুলি চালানোর নির্দেশ দিচ্ছেন, এমন একটি অডিও প্রকাশ করেছে বিবিসি। একধরনের অডিও প্রকাশ করেছে আলজাজিরা। তবে তাদের করা রিপোর্টগুলি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রথমত, এর পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্য নেওয়া হয়েছে, চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, নিহতদের কয়েকজনের পরিজন এবং আবু সাঈদ কান্ডে যিনি রিপোর্ট তৈরি করেছিলেন, সেই চিকিৎসক ও সেনাপ্রধানের। এখানে প্রশ্ন উঠছে, সেনাপ্রধান বাদে বাকিদের বক্তব্য থেকে কতটা নিরপেক্ষতা আশা করা যায়? যদিও অনেকে এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বলছেন, সেনাপ্রধানই হতে পারেন মাস্টারমাইন্ড! এদিকে হঠাৎ হাসিনার পক্ষে মাহফুজ আলম।
কারণ কিছুদিন আগে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছিলেন, এই আন্দোলনের প্রতিঘাত ছিল। প্রথমদিকে মেটিকুলাস ডিজাইন এবং পরে ছাত্রদের বিপ্লব। আরও নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র এবং পরের ধাপে শেখ হাসিনা সরকারের বিরোদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্রদের আন্দোলন। যেটা দীর্ঘদিন ধরে পুঞ্জিভূত ছিল মানুষের মধ্যে। তাদের আবেগকে হাতিয়ার করেই এই অভ্যুত্থান।
তবে আলজাজিরা কোটা আন্দোলন নিয়ে মহম্মদ ইউনূসের বক্তব্য নিয়েছে। সেখানে তিনি বলছেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য যে কোটা প্রথা সেটা এতটাই যুক্তিহীন, এতটাই অর্থহীন, তরুণদের জন্য এতটাই ক্ষতিকর যে প্রত্যেকে সেটা ঘৃণা করত। কিন্তু বোঝার কোনও উপায় নেই যে পুরোনো শাসন ব্যবস্থার পতন ডেকে নিয়ে আসবে।
অন্যদিকে বিবিসি যে অডিও প্রকাশ করেছে, সেখানে শেখ হাসিনা ছাত্রদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিচ্ছেন। কিন্তু ওপর প্রান্তে কে রয়েছেন, কাকে নির্দেশ দিচ্ছেন, সেগুলি উল্লেখ করেনি। কিন্তু আলজাজিরা যেটা প্রকাশ করেছে, তাতে অডিও ছিল ধীর্ঘক্ষণের। এবং অপর প্রান্তে কে ছিল, সেটি প্রকাশ করা হয়েছে। তার নাম শেখ ফয়জুর তাপস, যিনি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ হাসিনার নিকট আত্মীয়। তার সঙ্গে নাকি কথোপকথন হচ্ছিল। তাহলে প্রশ্ন, বিবিসি কেন প্রকাশ করল না? তবে কি বিবিসি এই রিপোর্ট প্রকাশ করতে বিতর্কের জন্ম দিতেই নতুন করে সাজিয়ে আলজাজিরা প্রকাশ করেছে? এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে।
এমনকি চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের বক্তব্যে উঠে এসেছে, শেখ হাসিনা নাকি সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানকে বলেছিলেন, গুলি চালাচ্ছে না কেন। পুলিশ খুব ভালো কাজ করছে। মানুষ মারছে। কিন্তু প্রশ্ন, জেনারেল ওয়াকার কেন এটি বললেন না, যখন এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়া হচ্ছিল। এমনকি ওই রিপোর্টের শেষে বলা হচ্ছে, ৫ই অগাস্টের আগে ও পরে ১৪০০ মানুষ হত্যা করা হয়েছে। যেখানে সরকার বলছে, ৫ই অগাস্টের আগে পর্যন্ত ৮৩৪ জন মানুষ নিহত হয়েছে। তবে কেন ১৪০০ মানুষের হত্যা জুলাই আন্দোলনে বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে একই কাজ করেছে বিবিসি। অর্থাৎ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিবিসি এবং আলজাজিরার রিপোর্ট একই সূত্রে গাঁথা। এমনকি তাদের রিপোর্ট নিরপেক্ষতা যে হারিয়েছে সেটা স্পষ্ট।












Discussion about this post