রাজ্যে শিক্ষা দুর্নীতির শিখর কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত, তা ঘিরে এখনও তদন্ত চলছে। তদন্তে জড়িয়ে দফায় দফায় চাকরি দিয়েছে এই রাজ্যের বহু ছেলে-মেয়ের। খবর হয়েছে, তোলপাড় হয়েছে। আবার থিতিয়ে গিয়েছে। কিন্তু সমাধান এখনও অধরা। উল্টে অনেকগুলি দফতরে নিয়োগই হয়নি। কিন্তু কেন? যাদের চাকরি গেল তাদের দায় যেমন কেউ নেয়নি, ঠিক একইভাবে তারা পরীক্ষাতেই বুঝতে পারছে না তাদের দায়ও যে কেউ নেবেন না, সেটা স্পষ্ট। তবে এবার নিয়োগ না হওয়ার বড় দাবী জানাল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ।
২০২২ সালের প্রাথমিক টেটের ফল প্রকাশিত হয় গিয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত নিয়োগ হয়নি। ২০২৩ সালে টেটের ফলাফল এখনো বের করতে পারেনি। এদিকে ২০২৪ সালে কোনও টেট হয়নি প্রাথমিকে। কিন্তু কেন? প্রাথমিক পর্ষদ সূত্রে খবর, ওবিসি সংরক্ষণ মামলায় আজকে রয়েছে প্রাথমিক টেটের ফল প্রকাশ। এমনকি এর জন্যই আটকে রয়েছে নিয়োগ। পর্ষদ সূত্র দাবি করা হয়েছে, রাজ্য সরকারের থেকে শূন্য পদের লিস্ট যাওয়া হলেও তা মেলেনি। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি এই জটে বলি হবেন শিক্ষার্থীরা?
বারে বারে পথে নামতে দেখা গিয়েছে টেট উত্তীর্ণদের। রাজ্যে হাজার হাজার শিক্ষিত তরুণরা রয়েছেন। তারা বছরের পর বছর পড়াশোনা করার পরও চাকরি পাচ্ছেন না। তার ওপর দুর্নীতির জোটে নিয়োগ প্রক্রিয়া অথৈ জলে। কোন ক্ষেত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না। আবার কোন ক্ষেত্রে পরীক্ষা নেওয়া হলেও ফল প্রকাশ হচ্ছে না। ফল প্রকাশিত হলেও নিয়োগ হচ্ছে না। আর এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে পর্ষদ বলছে, ২০২২ এর নিয়োগ এবং ২০২৩ এর ফল প্রকাশ আটকে রয়েছে ওবিসি সংরক্ষণ মামলায়।
এছাড়াও ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেয়, সুপ্রিম কোর্টের ওবিসি সংরক্ষণ মামলাটি বিচারাধীন থাকায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদ্যালয় শিক্ষা অধিকার থেকে শ্রেণীভিত্তিক শূন্য পদের সংখ্যা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণেই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা যাচ্ছে না।
পর্ষদের দাবি, ওবিসি জট অন্যদিকে টেট। তার মধ্যে ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেটের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। যার তদন্ত বার হাতে নেই সিবিআই। ২০২৩ সালের ১৬ই মে দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়। এর নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন কলকাতার হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ।
সেই নির্দেশ কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং চাকরি আলাদা একাংশ। সে ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয় বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। সিঙ্গেল বেঞ্চের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় । প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তিন মাসের মধ্যে ৩২ হাজার পদে নতুন করে নিয়োগ করতে হবে। এমনকি কলকাতা ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশ বল রাখে।
এদিকে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। সেই নিয়োগ পদে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বর্তমানে সেই মামলা বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে। তবে এই সমস্ত জট কাটিয়ে কবে ফের নিয়োগ প্রক্রিয়া হয় সেটাই দেখার।












Discussion about this post