পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ পুজোর আগে প্রকাশিত করলো ২০২৩ সালের প্রাথমিকের টেটের ফল। ফলাফলে পাশের হার মাত্র ২.৪ শতাংশ। এক থেকে দশের মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন মোট ৬৪ জন। এত কম সংখ্যায় পাশ যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তরজা।
বহু প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে প্রায় দুই বছর পর পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ পুজোর আগে প্রকাশিত করলো ২০২৩ সালের প্রাথমিকের টেটের ফল। এতদিন ধরে লাগাতার ফল প্রকাশের দাবিতে আন্দোলন চলেছে। অবশেষে বুধবার প্রকাশিত হলো ২০২৩ সালের পরীক্ষার ফল। ফলাফলে দেখা যাচ্ছে ২০২৩ সালের প্রাথমিক টেট পরীক্ষায় বসেছিলেন মোট ২ লক্ষ ৭৩ হাজার ১৪৭ জন। যার মধ্যে উত্তীর্ন্ন হয়েছেন ৬,৭৫৪ জন। অর্থাৎ পাশের হার মাত্র ২.৪ শতাংশ। এক থেকে দশের মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন মোট ৬৪ জন। এই হতাশাজনক চিত্র স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষামহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পরীক্ষায় উত্তীর্ন্ন হওয়া চাকরিপ্রাথীদের অভিনন্দন জানিয়ে নিজের সামাজিক মাধ্যমে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানান, সমস্ত সফল পরীক্ষার্থীকে শুভেচ্ছা ও অভিননন্দন জানাই। পূর্ববর্তী টেট পরীক্ষা গুলিতে যারা যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তাদের মধ্যে থেকে নিয়োগের জন্যও মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শীঘ্রই শূন্যপদ পূরণের জন্য বিদ্যালয় শিক্ষা বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চলেছে।
অন্যদিকে, ২০২২ সালের টেটর ফল প্রকাশ হলেও আজ তার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। যা নিয়ে এখনও নিয়োগের দাবিতে টেট উত্তীর্ণরা বিক্ষোভ চালাচ্ছেন। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তরজা। তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে এখনও পর্যন্ত ৫টি টেট পরীক্ষা হয়েছে। সেই আবহে ২০২৩ সালের হতাশজনক ফল প্রকাশিত হয়েছে। যা নিয়ে ২০২২ সালের চাকরি প্রাথীদের প্রশ্ন, নিয়োগ কবে শুরু হবে?
তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ বলেন, যার অসুবিধা হবে সে চ্যালেঞ্জ করুক, কোর্টে যাক, রিভিউ করুক। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, টেট এ এত কম সংখ্যায় পাশ করেছে যা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। এর আগে আরো বেশি পাশ করত। তাহলে কি আগের গুলো জল মেশানো ছিল? নাকি বেকার যুবকদের চাকরি না দেয়ার জন্য এইটা করা হলো।
পাশাপাশি কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী কটাক্ষ করে বলেন, পাশের সংখ্যা কমিয়ে দিলে চাকরি দিতে হবেনা। চাকরি নেই তাই পাশের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে। পুজোর আগে এই ঘোষণা যেমন চাকরি প্রাথীদের মনে আশার আলো দেখাচ্ছে, অন্যদিকে এই ফল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার মান নিয়েও সন্ধেহ সৃষ্টি করেছে।












Discussion about this post