হাসিনা-উত্তর বাংলাদেশের প্রতিটি ঘটনা নজরে রেখেছিল ভারত। বঙ্গবন্ধু কন্যাকে নিয়ে তাদের নীল নকশা তৈরি ছিল। ঠিক ছিল ঝোপ বুঝে কোপ মারবে। দরকার ছিল মাহেন্দ্রক্ষণের। সেই সময় কিন্তু আসন্ন।
সম্প্রতি একটি সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে ভারতের স্থলসেনা প্রধান মেজর জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর ফোনে কথা হয়েছে। তাদের মধ্যে মাঝে-মধ্যেই ফোনে কথা হয়। তবে কিছুদিন আগে দুই প্রধানের ফোনালাপের বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে। হাসিনার সঙ্গে ওয়াকারের ইতিমধ্যে কথা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যাকে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আর রাস্তায় থাকতে চাইছেন না। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তাদের নয়। তাদের কাজ স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। তদারকি সরকার প্রয়োজন মনে করলে তাদের ডাকলে তারা মাঠে নামবেন। এই সব কিছুই হয়েছে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সৌজন্যে।
একটা বিষয় কিন্তু লক্ষ্য করার মতো। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। তারা আরও বেশি আক্রমণাত্বক হয়ে উঠেছেন। মনে করা হচ্ছে, অজিত ডোভালের দৌত্যে হাসিনা এবং ওয়াকারের ফোনালাপের পরেই কিন্তু আওয়ামী লীগ অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সরকার একদিকে যেমন দমন-পীড়ন নীতি নিয়েছে অন্যদিকে আওয়ামী লীগ আরও বেশি করে তাদের ক্ষমতা দেখাতে শুরু করেছে। প্রতিদিন একটু একটু করে তাদের মিছিলের সংখ্যা বাড়ছে। দলের নেতাকর্মীরা এখন রাস্তায় নামার সাহস দেখাচ্ছেন। তদারকি সরকারের পুলিশকে তারা এখন আর ভয় পাচ্ছে না। অন্যদিকে, পুলিশও কিন্তু আর আগের মতো সক্রিয় নয়।
এই সরকার ভয়ে সব কিছু সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে। তারাও যে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে, এমনটা নয়। ৫ অগাস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর নানা মুনির নানা মত শোনা যায়। কেউ বলেন, পতনের পিছনে ডিপস্টেটের হাত রয়েছে। কেউ বলেন ডিপস্টেট ভারতকে হাতিয়ার করে বাংলাদেশে পালাবদল ঘটিয়েছে। আসল তথ্য হল, বাংলাদেশের জনগণ কিন্তু রাজপথে নেমে পালাবদল ঘটিয়েছে।
বাংলাদেশে হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় দেখতে হলে আওয়ামী লীগকে আরও সক্রিয় হতে হবে। তাদের যদি মনে হয়, ডিপস্টেট বা ভারত বা চিন তাদের সেনা দিয়ে সাহায্য করবে, তাহলে সেটা ভুল ধারণা। তারা এমন কিছু করবে না, যা করলে আন্তর্জাতিকমহল তাদের মাথা হেঁট হয়ে যাবে। যা কিছুই তারা করুক না কেন, সেটা তারা করবে কূটনৈতিকভাবে। যা কিছু করতে হবে আওয়ামী লীগকে। জনগণকে তাদের বোঝাতে হবে, ক্ষমতায় তারা ছিল বলে বাংলাদেশ সুন্দর একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। তাদের আন্দোলনকে সংগঠিত করতে হবে। সুসময়ের জন্য অপেক্ষা করলে তাদের হবে না। দুঃসময়ে দলের জন্য তাদের রাস্তায় নামতে হবে। দাবি আদায়ের জন্য তাদের আন্দোলনকে আরও উচ্চগ্রামে নিয়ে যেতে হবে। এমন কিছু করতে হবে, যা দেখে সেনাবাহিনীও পিছু হঠতে বাধ্য হবে। গত ৫ অগাস্ট বিশ্ব দেখেছিল বাংলাদেশের রাজপথ দখল করেছিল সে দেশের আপামর মানুষ। সেই দৃশ্য রিকাস্ট দেখার জন্য অপেক্ষায় শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশের যত শুভাকাঙ্খী আছে, তারাও দেখতে চায় দেশের রাজপথ দখল করেছে সে দেশের তরুণ সম্প্রদায়।
আওয়ামী লীগ বেঁচে রয়েছে দলের বহু সক্রিয় কর্মী থাকায়। এরা ডাইহার্ড কর্মী। এরাই দলের অক্সিজেন। আর ভারত কী খেল দেখায় সেটাও দেখা দরকার।












Discussion about this post