বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান জাতিসঙ্ঘে ভাষণ দিতে নিউ ইয়র্ক গিয়েছেন। সঙ্গে গিয়েছে তার কয়েকজন পাইক বরকন্দাজ। (পাইক-বরকন্দাজই বটে)। আর তাদের সঙ্গে গিয়েছে বাক্স, প্যাটরা লোটা-কম্বল, সুইটকেস। ইচ্ছা ছিল ফেরার সময় সেখান থেকে কিছু ভরে নিয়ে আসবেন। ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করলে তিনি নিশ্চই কিছু না কিছু উপহার দেবেন। জাতিসঙ্ঘে আসা অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দেখা হলে তারাও কিছু না কিছু দেবেন।
দিয়েছে। একবারে উজার করে দিয়েছে কলাগাছ থেকে সদ্য নামানো কাঁচকলার কাদি। একটা দুটো নয়। মন-প্রাণ ভরে দিয়েছে। একটা কথা আছে যে জন দিবসে মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি, আশু গৃহে তার দেখিবে না আর নিশীতে প্রদীপ ভাতি। এর অর্থ বিনাপ্রয়োজনে টাকা খরচ করলে মানুষের জীবন ধ্বংসের দিকে এগিয়ে চলে। অর্থের প্রয়োজন হলে তখন আর অর্থ মেলে না। তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সময়। যারা সময়কে মূল্যায়ন করতে পারে, কাজে লাগাতে পারে, তাদের জীবন পূর্ণতায় ভরে ওঠে। যাদের হাতে আপামর বাংলাদেশবাসী নির্ভরশীল, যাঁর বা যাঁদের ওপর দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব নির্ভর করছে তারা দেশকে অরক্ষিত রেখে বিদেশে চলে গিয়েছেন।
বাংলাদেশের তহবিলে এখন যে পরিমাণ টাকা আছে, সেই টাকা দিয়ে কোনও আপৎকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। গত এক বছরে নতুন কোনও বিনিয়োগ হয়নি। দেশের চারটি প্রথম শ্রেণির ব্যাংক সোনালী, রূপালী, জনতা এবং অগ্রণী- গত এক বছরে কাউকে ছোটো হোক বা বড় মাপের ঋণ দিয়েছে বলে শোনা যায়নি। পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, তারা ঋণ দেওয়া বন্ধ রেখেছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে মানুষ একরাশ আতঙ্ক নিয়ে রাতে ঘুমোতে যায়। পরের দিন উঠে তারা চিন্তা করে কী খাবে, কী ভাবে রোজগার করবে। দেশের পরিস্থিতি যখন এরকম, সেই সময় দেশের রাষ্ট্রনায়ক কার্যত অর্ধেক মন্ত্রিসভা নিয়ে আমেরিকা গিয়েছেন। বাংলাদেশ এখন অভিভাবকহীন। এটা জেনে গিয়েছেন যে নিউ ইয়র্কে গেলে তাদের বিক্ষোভের মধ্যে পড়তে হবে। জাতিসঙ্ঘের ভাষণ কেউ শুনবে না। তাও যেতে হবে। যে সফরের কোনও অর্থ নেই সেই সফরের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।
কথায় আছে, তোমারে বধিবে যে গোকূলে বাড়িছে সে। ইউনূসের মাথায় এখন আকাশ ভেঙে পড়েছে। ঠিক এইভাবেই হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন বহুবার বিদেশে গিয়েছেন। ইউনূসের সফর নিয়ে এত আলোচনা হওয়ার কারণ, সরকার প্রধান বাংলাদেশকে খাদের কিনারে নিয়ে গিয়েছেন যেখান থেকে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব। দেশে আইনের শাসন বলে কিছু নেই। বিচারব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। গত এক বছরে ইউনূস বহুবার বিদেশে গিয়েছেন। আর ফিরে এসেছেন খালি হাতে। আমেরিকা সফরের ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। এটাই হওয়ার ছিল।
কারণ, এই সরকারকে আন্তর্জাতিকমহল স্বীকৃতি দেয়নি। মেনে নিতে পারেনি ইউনূসকে। তাই, গতবার কিছুটা আন্তর্জাতিক মহল তড়িঘড়ি বাংলাদেশের ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি। তারা দেখতে চেয়েছিল ইউনূস কী করেন। এখন তাদের কাছে ইউনূসের ব্যাপারে একটা নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। ইউনূসের পায়ের তলা থেকে আস্তে আস্তে মাটি সরতে শুরু করেছে। এবার অপেক্ষা সরকারিভাবে ইউনূসের বিদায় ঘোষণা। সেই ঘোষণার দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব। হয়তো বন্ধুরাষ্ট্র পাকিস্তানও।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post