সম্প্রতি আমেরিকা ও ব্রিটেনর তরফ থেকে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁকে দুটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই প্রস্তাবে রাজি হননি বঙ্গবন্ধু কন্যা। এক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আপনাকে নিয়ে পুনরায় আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করা সম্ভব নয়। কারণ বাংলাদেশের মানুষ আপনার বিপক্ষে চলে গেছে। যেমনটা হয়েছে ভারতের বেলায়। গণহত্যা চালানোর দায় আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না। আপনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা চলছে। যা অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফয়সালা হয়ে যাবে। যে মামলায় আপনাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। দালিলিক প্রমাণসহ একাধিক অভিযোগে আপনি দণ্ডপ্রাপ্ত হতে পারেন। এই অবস্থায় আপনার দেশে ফেরা খুব কঠিন। মিরাকল কিছু না ঘটলে অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না।
তাই দ্বিতীয় প্রস্তাবটি বিবেচনা করে দেখতে পারেন। প্রস্তাবটি হচ্ছে, অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন। তাতে করে আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়ানো সহজ হবে। যেমনটা হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। বাকশাল গঠন করে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব বিলুপ্ত করা হয়েছিল। ১৫ই আগস্টের পট পরিবর্তনের পর বাকশালের সমাপ্তি ঘটে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পুনরায় দল গঠনের সুযোগ দেন। সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সংগঠিত হয়। তখনও আপনি ভারতে অবস্থান করছিলেন।
বর্তমান পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। এখন তরুণদের হাতে নেতৃত্ব। বড় রাজনৈতিক দলগুলো চাইলেও আপনার ফেরানোর ব্যাপারে সায় দিতে পারবে না। দুটো পশ্চিমা শক্তি অতি সম্প্রতি এই প্রস্তাব দিয়ে হাসিনা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এমনকী ভারতের অনেকেই মনে করছেন- এটাই এই মুহূর্তের বাস্তবতা। ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যেও এ নিয়ে রয়েছে প্রচণ্ড মতবিরোধ। কেউ কেউ বলছেন, হাসিনাকে রাখতে গিয়ে গোটা বাংলাদেশকেই আমরা হারিয়েছি। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অনেক ঘটনাই ঘটে গেছে। বৃহৎ শক্তিও নেই আমাদের সঙ্গে। ভূ-রাজনৈতিক কারণটাও বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার মতও দিচ্ছেন অনেকে
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমেরিকায় অবস্থানরত একজন আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, বাস্তবতা না মানলে দলের দশা হবে মুসলিম লীগের মতো। মুসলিম লীগ নামে কোনো দল ছিল, এটা এখনো অনেকেই জানেন না। পাকিস্তান গড়তে এই দলটির ভূমিকা ছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের বিরোধিতা করতে গিয়ে একদম বিলীন হয়ে গেছে। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা রেখেছিল আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন এর নেতৃত্বে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শেখ হাসিনা এখন একটি ছায়ার সঙ্গে লড়াই করছেন। তিনি মনে করছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলে গেলে তার ফেরাটা খুবই সহজ হবে। ঢাকায় বলাবলি আছে, একটি রাজনৈতিক শক্তি তলে তলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। অভ্যুত্থানের পর এদের এক শীর্ষ নেতা ক্ষমা করার প্রসঙ্গটি সামনে আনেন। ৩রা সেপ্টেম্বর ২০২৪, ওই শীর্ষ নেতা বলেছিলেন, আমরা প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। রাজনৈতিকভাবে আমাদের ওপর যারা জুলুম-নির্যাতন করেছে, আমরা তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি।
হাসিনাকে কেউ কেই পরামর্শ দিচ্ছেন, তিনি আবার ক্ষমতায় ফিরতে চলেছেন। নেতৃত্বের রাশ হাতে নিয়ে তিনি আবার আওয়ামী লীগকে নতুন করে তৈরি করবেন। সেই আশায় বুক বেঁধেছেন হাসিনা। বাংলাদেশ আগামী কোন দিকে যায়, সে দিকে তাকিয়ে যেমন ভারত, তাকিয়ে আন্তর্জাতিকমহলও। হাসিনাকে কি আবার প্রধানমন্ত্রী পদে দেখা যাবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post