তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যের পর এসআইআর ইস্যুতে এবার সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি নির্বাচন কমিশনকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলার একটা নামও যদি বাদ যায়, তাহলে লক্ষ মানুষকে নিয়ে কমিশনের অফিস ঘেরাও করব। অর্থাৎ, তিনি সর্বোচ্চ নেত্রীর পথেই হাঁটছেন। কেন এসআইআর নিয়ে শাসকদলের এত ক্ষোভ?
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে একাধিক ‘প্রমাণ’ দেখিয়ে ওই অভিযোগ করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। কিন্তু এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাল্টা রাহুলের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধির ‘বিস্ফোরক’ দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, রাহুল গান্ধি যেন সই করে তাঁর অভিযোগ সংক্রান্ত বিবৃতি জমা দেন। আর যদি তিনি তা না করেন, তাহলে দেশের কাছে রাহুলকে ক্ষমা চাইতে হবে। এমনই বিবৃতি জারি করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। একদিকে যখন কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতা তথা দেশের বিরোধী দলনেতা নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বেকায়দায় পড়লেন, তখন পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর নিয়ে আরও সুর চড়ালো শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার তালিকায় একজনেরও নাম বাদ গেলে নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছিলেন। এবার তাঁরই সুরে ওই একই দাবি করে বসলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবারই তিনি এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “বাংলার একটা নামও যদি বাদ যায়, তাহলে লক্ষ মানুষকে নিয়ে কমিশনের অফিস ঘেরাও করব”।
দিন কয়েক আগেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, বিহারের মতো এই রাজ্যেও যদি ভোটার তালিকায় সমীক্ষার নামে নাম বাদ দেওয়া হয়, তাহলে আমরা মেনে নেব না। আমরা নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি করবো।
এবার এক কদম এগিয়ে তাঁর ভাতুষ্পুত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বাংলার গরিবদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অভিষেকের অভিযোগ, ২০১৪-য় বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলায় টেস্ট, ট্রায়াল চালিয়ে দেখেছে। প্রতিবার হেরেছে। এবার ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ছক কষছে। তাই এনেছে এসআইআর, যাতে গরিবদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায়। নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করে অভিষেকের দাবি, এই এসআইআর আসলে স্যার! বিজেপি নেতাদের কথা মতো চলা। কমিশনের একাংশ সেটাই করছে। এই কারচুপি আমরা বরদাস্ত করব না।
একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে খোঁচা দিয়ে তাঁর বক্তব্য, যদি ভোটার তালিকায় অবৈধ ভোটার থেকে থাকেন, তাহলে এই অবৈধ ভোটারদের দ্বারাই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। সেই হিসেবে প্রধানমন্ত্রীও অবৈধ।
প্রসঙ্গত, শুক্রবারই অভিষেক দিল্লি থেকে ফিরলেন। তিনি বিরোধী ইন্ডি জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সেরেই কলকাতায় ফিরেছেন। তাঁর বক্তব্য, খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনী, বাঙালি হেনস্থা নিয়ে বিরোধী জোট একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। তিনি রাহুল গান্ধির দাবিকেও সমর্থন করেন। তবে তিনি দলের অবস্থানও জানিয়ে দেন এদিন। অভিষেকের কথায়, আমাদের গুরুত্ব হচ্ছে বাংলা। বাংলাভাষাকে যেভাবে বাংলাদেশি বলা হচ্ছে, আমাদের সমর্থনে যারা এক পা হেঁটেছে, আমরা তাদের জন্য হাঁটব। আমাদের কোনও ইগো নেই। আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছি। এই স্বৈরাচারী বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছি। উল্লেখ্য, ইন্ডি জোটের পক্ষে একটি প্রতিনিধি দল আগামী ১১ অগস্ট জাতীয় নির্বাচন কমিশনে যাবে। সংসদ থেকে মিছিল করে বিরোধী সাংসদরা যাবেন। অভিষেক ওই মিছিলে না থাকলেও তৃণমূলের প্রতিনিধি দল থাকবে। অর্থাৎ, এবার কংগ্রেসের সঙ্গে একজোট হয়ে লড়াইয়ের বার্তা দিচ্ছে তৃণমূল। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গে একা লড়বে তৃণমূল, বিধানসভায় একা লড়বে। আর যেই বিপদের গন্ধ পাবে তখন আবার ইন্ডি জোটের ছত্রছায়ায় ঢোকার চেষ্টা করবে। বিজেপির কথায় এটা দ্বিচারিতা।












Discussion about this post