বিল্ডিং নির্মাণ থেকে শুরু করে হেল্থ সেন্টার,’সিসিটিভি বসানো এবং ফুটেজ সংরক্ষণ, এমনকি আদালতের দৈনন্দিন বহু কাজের জন্যও কোনও অর্থ বরাদ্দ করছে না রাজ্য সরকার। এমনকি প্রিন্ট করার কার্টিজও নেই, আদালত কীভাবে চলবে? এমনই অসংখ্য প্রশ্নের জবাব চেয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে বিদ্ধ করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি সব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ। ক্ষুব্ধ বিচারপতিদের বক্তব্য, রাজ্যের জেল ও নিম্ন আদালতগুলির পরিকাঠামো তৈরিতে অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে না। দিনের পর দিন আটকে কাজ। কম করে ১৭ কোটি টাকার প্রয়োজন থাকলেও, সেই টাকা এখনও দেওয়া হয়নি আদালতকে। সেটা কী হল? ডিভিশন বেঞ্চের সামনে তখন ভার্চুয়ালি হাজির রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। তোপের মুখে পড়ে তিনি বিচারপতিদের আশ্বস্ত করে বলেন, ধাপে ধাপে অর্থ বরাদ্দ হচ্ছে, আজই বিচার বিভাগকে ১০ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। এরকম হাজারো প্রশ্নের মুখে পড়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব স্বভাবতই বিব্রত হন। বিচারপতিরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, “আপনি কবে শেষ প্রধান বিচারপতি এবং প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছেন?” ডিভিশন বেঞ্চ আরও উল্লেখ করেছে, কলকাতা হাইকোর্টের ৫৫টি কাজ বাকি। গত বছর ডিসেম্বর থেকে বাকি সে সব কাজ। সেটা কতদিনে শেষ হবে? সব শুনে রাজ্যের মুখ্যসচিব আদালতকে জানান, অর্থ কোনও সমস্যাই নয়। তিনি কলকাতার বাইরে আছেন, ফিরে সব দেখে সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিয়ে জানাবেন। উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার এরকম প্রায়ই হয় কলকাতা হাইকোর্ট না হয় সুপ্রিম কোর্টের কাছে ভ্রৎসিত হচ্ছে। এরকম হাজারো প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিরোধী দলগুলি এই নিয়ে রোজই প্রায় নিয়ম করে রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন। কিন্তু পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হচ্ছে না কেন।
ওয়াকিবহাল মহল বলছে, এই রাজ্যে আমলাতন্ত্র শাসকদলের অনুগত হয়ে পড়েছে। মুখ্যসচিব-সহ বহু আমলা অবসর নেওয়ার সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের কার্যকাল বাড়িয়েই চলছে নবান্ন। মনোজ পন্থেরও অবসর নেওয়ার সময় পেরিয়েছ, আপাতত তাঁর সময়সীমা ছয় মাস বাড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সরকারের পলিসি মেনে চলতে গিয়ে তিনি বারবার কোর্ট বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের ধমক খাচ্ছেন। বিজেপির দাবি, রাজ্যের শীর্ষ আমলারাই আইন মানছেন না।
কয়েকটি সূত্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের সিইও-কে রাজ্য সরকার প্রস্তাব দিয়েছিল, যে স্বাস্থ্যসাথীকেও এসআইআরের নথি হিসাবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা দেখতে। গত বুধবার সব রাজ্যের সিইওদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল নির্বাচন কমিশন। ওই বৈঠকেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবান্নের প্রস্তাব মেনে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড এসআইআরের নথি হিসাবে গণ্য করা যায় কি না, তা বিবেচনা করতে বলেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে। তাঁর যুক্তি ছিল, স্বাস্থ্যসাথী নাগরিকত্বের প্রমাণ না হলেও তা কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গবাসীদের কেই দেওয়া হয়। যা শুনে নির্বাচন কমিশন পত্রপাঠ তা খারিজ করে দেয়। কমিশন জানিয়ে দেয়, নাগরিকত্বের প্রমাণ হবে এমন নথিই শুধু এসআইআরের নথি হিসাবে গণ্য করা হবে। বিরোধীদের প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার কি দেশের আইনের বাইরে চলে? রাজ্য সরকার, মেলা, খেলা, ভাতা দিতে যতটা উৎসাহী, পরিকাঠামো উন্নয়নে ততটা নয়। কলকাতা হাইকোর্ট সেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল মুখ্যসচিবকে।
সারজিস আলম নাসিরউদ্দিনরা বিএনপিকে হুমকি দিচ্ছে এক মাঘে শীত যায় না। তারা আবার আন্দোলোন করে বিএনপিকেও আওয়ামীলীগের মত দেশ ছাড়া...
Read more












Discussion about this post