ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচন বা ডাকসু ভোটের প্রচারপর্ব শুরুর প্রথম দিকেই সাবিকুন্নাহার তামান্না নামের এক মহিলা প্রার্থীর হিজাব পরিহিতা ছবি বিকৃতির ঘটনার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছিল। যা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। কিন্তু ডাকসুর ভোটে দেখা গেল, ওই মহিলা শিক্ষার্থী জিতেছেন, সেই সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট বিশাল জয় পেয়েছে। অনেকেই বলতে শুরু করেন, এই জয় হিজাবফোবিয়ার বিরুদ্ধে ব্যালটের জবাব। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থকরা বুঝিয়ে দিল, তাঁরা স্বস্থানেই অবস্থান করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসুর ফলাফল ঘোষণার পরপরই এক সেমিনার কক্ষে হিজাব হিজাব স্লোগান উঠল। আর সেই স্লোগানের স্বর এতটাই প্রবল ছিল যে তাঁর আওয়াজ নাকি পাকিস্তান থেকেও শোনা গিয়েছে।
হিজাব হিজাব স্লোগানের ভিডিও – অ্যাম্বিয়েন্স সহ….
সমাজমাধ্যমে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্ক শুরু হয়। বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে বাংলাদেশ পেছনের দিকে হাঁটতে শুরু করে দিয়েছে কি? অনেককেই আশ্চর্য করে ডাকসুর নির্বাচনে জয়লাভ করেছে জামাতের ছাত্র সংগঠন, ছাত্রশিবির। নির্বাচনে কারচুপি নিয়ে কিছু কিছু অভিযোগ উঠলেও মোটের ওপর এই নির্বাচনের ফলাফল সকলে মেনেও নিয়েছেন। বিশ্লেষকদের দাবি, যে কোনও ভোট জিততে গেলে চাই সাংগঠনিক শক্তি এবং পরিকল্পনা। যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সেই দিক থেকে জামাত টেক্কা দিয়েছে বিএনপি এবং এনসিপিকে। তবে এবারের ডাকসু নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন অংশ নিতে পারেনি। বিএনপির ছাত্রদল ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ বা বাগছাস ডাকসু নির্বাচনে একেবারেই পাত্তা পায়নি। কারণ, তাঁরা অনেকটাই আত্মতুষ্টিতে ভুগছিল সেখানে কিন্তু জামাত ভিতরে ভিতরে তৈরি হচ্ছিল। তাঁরা বুঝেছে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়তে ইসলামীকে দৃঢ়ভাবে স্থাপিত করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রভাব বিস্তার করতে হবে। এরমধ্যেই যে বাংলাদেশে জামাতের ইসলামি কট্টরপন্থা বিস্তারলাভ করতে শুরু করেছে তার জ্বলন্ত প্রমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরই ছাত্রদের হিজাব-হিজাব স্লোগানের তীব্রতা। যদিও এই স্লোগানের কারণ সম্পর্কে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নবনির্বাচিত জিএস এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, ফল ঘোষণার দিন সকালে নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে স্লোগান দেয়া হয়েছে। চারুকলায় তার ছবিতে শিং এঁকে দিয়ে সাবিকুন নাহার তামান্নার হিজাব বিকৃত করা হয়েছিল। সেখান থেকে একটা ভয়েস রেইজ করা হয়েছিল যে আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাবফোবিয়া চলে না।
অন্যদিকে বিষয়টি হালকা করার জন্য ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, আমরা অন্যান্য সব রাজনৈতিক মতাদর্শের ছাত্রদেরও পাশে নিয়ে কাজ করবো। তাঁদের ইশতেহারে যা যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলিও আমরা বিবেচনা করে সকলকে নিয়ে একসাথে এগোবো।
জামাতের ছাত্র সংগঠন মুখে যাই বলুক না কেন, আসলে তাঁরা কট্টরপন্থী ইসলামী সংগঠন। তাঁদের প্যানেলে কয়েকজন নারী জিতলেও তাঁরা হিজাবের অন্তরালেই থাকেন। আগামীদিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী শরিয়তি আইন অনুযায় সকলকে চলার ফতোয়া জারি হলেও কেউ অবাক হবেন না বলে দাবি করছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশ যে ক্রমশ পাকিস্তান, আফগানিস্তানের দিকে এগোচ্ছে তার প্রমান আরও মিলতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ খিলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মওলানা মুজিবুর রহমান হামিদি সম্প্রতি দাবি তুলেছেন, বিদ্যালয়ে নাচ-গানের শিক্ষক সিদ্ধান্ত বাতিল করে অবিলম্বে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষক নিয়োগ করার।
খিলাফতে আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রাইমারি স্কুলগুলিতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের সহিহ শুদ্ধভাবে পবিত্র কোরান শরিফ ও জরুরি মাসআলা-মাসায়েল এবং নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আলেম শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। এই সংগঠন এও দাবি করেন, যদি এটা না হয় তাহলে দেশব্যাপী আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়বে এবং সৃষ্টি পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায় নিতে হবে। এর থেকেই স্পষ্ট বাংলাদেশ কোন পথে হাঁটছে।












Discussion about this post