বুধবারও কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণের বিভিন্ন জায়গায় জল জমে ছিল। বুধবার পর্যন্ত সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ছিল বালিগঞ্জের। পার্ক সার্কাসের বহু এলাকা জলমগ্ন থেকেছে। জলযন্ত্রনায় যখন বৃদ্যুৎষ্পিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা চারিদিকে, মানব জীবন স্তব্ধ এবং জমা জলে বৃদ্যুৎষ্পিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনার ২৪ ঘন্টাও কাটেনি তখন অন্যদিকে ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ার এক দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে গিয়ে আনন্দে ডান্ডিয়া খেললেন মুখ্যমন্ত্রী। আজও কলকাতার বেশ কিছু দুর্গাপুজো উদ্বোধন করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বাড়ি থেকে তিনি ভার্চুয়াল উদ্বোধন করবেন জেলার পুজোমণ্ডপগুলির। এরপর তিনি যাবেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পুজো হিসেবে পরিচিত নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘে। সেখানে উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী আলিপুর বডিগার্ড পুলিশ লাইনের পুজোমন্ডপের উদ্বোধনে যাবেন। এইবার সেখানের পুজো মণ্ডপ দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে। যা বহু চর্চিত বিষয়। পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি পুজোমণ্ডপও উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যদিকে বালিগঞ্জ একডালিয়া এভারগ্রিনের পুজো যা মমতা বন্ধোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সতীর্থ ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী প্রয়াত সুব্রত মূখোপাধ্যায়ের পুজো বলে পরিচিত। সেই পুজো মণ্ডপের উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত মন্ত্রীকে স্বরণ করে শোকাহত হয়ে পড়েন। এই পুজোর বরাবরের ঐতিহ্য সাবেকি ঘরানার পুজো। এই পুজো উদ্বোধনের সময় সেখানে স্থানীয় বিধায়ক ও পুজো উদ্যোক্তারা উপস্থিত থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী বারবার প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে তার অভাব বোধ করেছেন।
জমা জলে বিদ্যুৎষ্পিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় সরকার ও সিএসসি র মাঝে শুরু হয়েছে দায় ঠেলাঠেলি। এরই মাঝে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালভিয়া শাসকদল তৃণমূলকে নিশানা করে বলেন, কলকাতা ডুবে গেছে। বৃদ্যুৎষ্পিষ্ট হয়ে এত মানুষের মৃত্যু হয়েছে স্রেফ সরকারের ব্যার্থতার কারণে। এই শোকের আবহে মুখ্যমন্ত্রী মৃতদের পরিবারের পাশে না দাঁড়িয়ে ডান্ডিয়া খেলছেন, আনন্দে মেতে উঠেছেন। একজন মুখ্যমন্ত্রী কতটা নির্দয় হতে পারে?
পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শাসকদলের মুখপাত্র তথা সিনিয়র নেতা কুনাল ঘোষ জানান, চার দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো এত বৃষ্টি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে পৌরসভা, জরুরি বিভাগ ও পুলিশের সহায়তায় কলকাতার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। বিরোধীরা তারপরেও কেন সমালোচনা করছেন? সুরাট, মুম্বাই, দিল্লি জলমগ্ন হলে তখন কেন তাদের কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়না?
শহর ও শহরতলিতে মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এবং বৃদ্যুৎষ্পিষ্ট হয়ে এত মানুষের মৃত্যু ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধীদের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টেও তদন্ত,ক্ষতিপূরণ ও দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতির দাবিতে আবেদন করা হয়েছে।












Discussion about this post