কেবলমাত্র বুধবার বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়, রাজধানী ঢাকায় একশোরও বেশি ঝটিকা মিছিল করেছে আওয়ামি লিগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে চট্টগ্রাম শহরে খোদ পুলিশ কমিশনারের অফিসের সামনেই বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে বড়সড় মিছিল করেছে ছাত্রলিগ ও আওয়ামি লিগের সমর্থকরা। বুধবার দুপুর নাগাদ ঢাকার গুলিস্তান, ফার্মগেট, পান্থপথ, কারওয়ান বাজার, আগারগাঁও, মিরপুর, তেজগাঁও, শ্যামলী-সহ বেশ কয়েকটি রাস্তায় মিছিল করেছিল আওয়ামী কর্মী সমর্থকরা। তাঁরা শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর নামে স্লোগানও দিয়েছেন।
‘হটাও ইউনূস, বাঁচাও দেশ’, ‘শেখ হাসিনাতেই আস্থা’, ‘শেখ হাসিনা ফিরবেই, বিজয় আসবেই’ এমনই সব প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে আওয়ামী লীগের মিছিল গোটা বাংলাদেশ দাপিয়ে বেরালো। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে নেই প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চাইছে আওয়ামী লীগ। তাই হাসিনার দলের নেতাকর্মীরা বাংলাদেশে একদিনেই চারশোর বেশি মিছিল করে বুঝিয়ে দিল তাঁদের সংগঠন এখন অনেকটাই মজবুত হয়ে গিয়েছে। তাঁদের এক ডাকেই এখন বাংলাদেশের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ জড়ো হচ্ছেন সেটাও বেশ উল্লেথযোগ্য। গোটা ঘটনায় উদ্বেগে ইউনূস প্রশাসন। প্রসঙ্গত, বুধবারই চট্টগ্রাম সফররত বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আওয়ামী লীগের মিছিল প্রসঙ্গে বলেন, ‘মিছিলকারীরা যাতে সহজে জামিন না পান, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। শুধু চট্টগ্রাম নয়, আজ ঢাকায়ও মিছিল হয়েছে। মিছিলকারীদের অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি এরা যেন সহজে জামিন না পায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, মিছিলকারীদের কাছ থেকে ১৪টি ককটেল এবং ৬০টি ব্যানার উদ্ধার হয়েছে । সেই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে ২৪৪ জনকে।
ঢাকার ফার্মগেট, বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স, তেজগাঁও এলাকায় আওয়ামি লিগ বেশ বড়সড় মিছিল করেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন টিম এই তিন জায়গা থেকে ৮০ জনকে আটক করেছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম শহরের শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন এমএম আলি রোডের মুখ থেকে আওয়ামী লীগের মিছিলটি দামপাড়ায় পুলিশ কমিশনারের দফতরের সামনে দিয়েই এগিয়ে যায়। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ চর্চা হচ্ছে। সূত্রের খবর, মিছিলের পরে ওই এলাকায় পুলিশের টহল টিমের দায়িত্বে থাকা একজন আধিকারিককে কর্তব্যে গাফিলতির জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত, আওয়ামী লীগের চার শতাধিক মিছিল একটা ট্রেলার মাত্র। এবার তাঁরা আরও বড় ধরণের কোনও কর্মসূচি নিতে চলেছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের প্রতিটি মিছিলে হাজারের বেশি মানুষ যুক্ত হচ্ছেন। এমনকি মিছিল চলাকালীন পথ চলতি মানুষজনও যোগ দিচ্ছেন। এটাই আতঙ্কের কারণ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের। তাঁরা সবরকম ভাবে চেষ্টা করে চলেছে আওয়ামী লীগকে ঠেকিয়ে রাখতে। আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশগ্রহণ করা কয়েক হাজার মানুষ মিছিল শেষে যেন আচমকাই গায়েব হয়ে যাচ্ছেন। জানা যাচ্ছে, অপারেশন ব্ল্যাক রেইড নামে একটি অভিযানও চালু করেছে ঢাকা পুলিশ। কিন্তু এখনও বড় কোনও সাফল্য তাঁদের হাতে আসেনি।












Discussion about this post