ক্যান্টনমেন্টে কি হাসনাত আব্দুল্লাহ নিষিদ্ধ? গণ অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। যেটা ইঙ্গিতপূর্ণ একটি পোস্ট। তিনি লিখছেন, উত্তরের দিকে নজর রাখুন। এখন প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ এমন পোস্ট তিনি দিলেন কেন? এই মুহূর্তে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান মালয়েশিয়াতে রয়েছেন। ২২ সেপ্টেম্বর তিনি দেশের বাইরে গিয়েছেন। সেখানে বিভিন্ন দেশের সেনাপ্রধান বিশেষ করে ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এমনকি অসমর্থিত সূত্র বলছে, ভারতের সেনাপ্রধানের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের। যে মুহূর্তে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান দেশের বাইরে, সেই সময় সেনানিবাসে ঘটেছে একটি নাটকীয় ঘটনা। ক্যান্টনমেন্টের বড় সিদ্ধান্তের মুখে হাসনাত আব্দুল্লাহ। তবে কি বড় ঘটনার সিগনাল দিলেন সেনাপ্রধান?
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা সেনানিবাসে এনসিপির প্রধান সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহকে প্রবেশে নিষিদ্ধ করে সেনাবাহিনীর মিলিটারি পুলিশ। গত ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি মিরপুর গেট দিয়ে সেনানিবাসে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তবে তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
দায়িত্বরত প্রহরীরা হাসনাতকে আটকে দেন। শহরের অন্যতম সুরক্ষিত এই এলাকায় তার প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। তাছাড়া সুরক্ষিত জায়গায় তার প্রয়োজন কী? তিনি সেখানে গিয়ে কী করতেন? জানা যাচ্ছে, মিলিটারি পুলিশের সদস্যরা তাকে সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশে বাধা দিলে সেখানে তর্কাতর্কি হয়।
নাছোড়বান্দা ছিলেন তিনি। অভিযোগ, এরপর গায়ের জোর খাটিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে কল করেন, কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। কোনও ভাবেই এই তাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
এরমধ্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, সেনানিবাসের দিকে নজর রাখুন। গত মার্চে হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সরাসরি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে নিশানায় নিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, জেনারেল ওয়াকার উজ জামান একটি রিফাইন আওয়ামী লীগ আনতে চায়। তখন এই বক্তব্যকে ঘিরে দেশের অন্দরে প্রবল আলোচনা তৈরি হয়েছিল। সেনাবাহিনী সেই সময় হাসনাত আব্দুল্লাহর ফেসবুক পোস্টের পাল্টা বিবৃতি দিয়েছিল। তারা অস্বীকার করে বলে, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের জন্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বা অন্য কোনও ছাত্র সমণয়দের কোনও চাপ দেওয়া হয়নি। হাসনাতের দাবি অস্বীকার করে সেনাবাহিনী বলেছিল যে জেনারেল ওয়াকারের সঙ্গে বৈঠক আব্দুল্লাহ এবং সারজিস আলমের উদ্যোগে হয়েছিল। এরপর থেকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সেনাপ্রধান ছাড়াও অন্যান্যদের সঙ্গে হাসনাতদের যোগাযোগ যথেষ্ট স্থিতি হয়ে যায়। এখন প্রশ্ন, হাসনাতকে সেনাবাহিনী বা সেনানিবাসে কেন প্রবেশ করতে দেওয়া হল না? তবে কি তিনি নিষিদ্ধ হলেন? তিনি এখন ইঙ্গিতপূর্ণভাবে লিখলেন, উত্তরের দিকে নজর রাখতে। এখন প্রশ্ন উঠছে, তবে কি উত্তরে কিছু ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে?
কোনওভাবে বাংলাদেশ সেনানিবাস তাকে নিষিদ্ধ করল? এটাই কি তার গ্রিন সিগন্যাল? অনেকে এর আগে বলেছিলেন, সেনাবাহিনীর সেনানিবাসে ফিরে যাওয়া উচিত। কিন্তু আদেও কি সেই পরিস্থিতি আছে? কারণ সেনার পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, তারা সরকারকে সাহায্য করবে। এখন অবশ্য জেনারেল ওয়াকার দেশের বাইরে। এখন দেখার, তিনি দেশে ফেরার পর কি হয়, সেটাই দেখার।












Discussion about this post