বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ অনেকটাই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মাঝেমধ্যেই তারা বিভিন্ন শহরে ঝটিকা মিছিল করছে। ঢাকা, গুলিস্তান সহ একাধিক রাস্তায় দেখা গিয়েছে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল। বাংলাদেশের পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যে আওয়ামী লীগের সমস্ত ঝটিকা মিছিলকে ঠেকাতে হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হবে। যদি কোনও আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী থাকে, তার নাম, পরিচয়.. তালিকা করে সরকার নিয়ে যাবে। এই ধরণের একটি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরসঙ্গে রয়েছে পুলিশকে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। যেগুলি সবই শেখ হাসিনার দলকে দমানোর জন্য। এদিকে জানা যাচ্ছে, আজব ফতোয়া জারি করেছে ইউনূসের সরকার। আওয়ামী কর্মীদের গ্রেফতারের জন্য বাধ্য করা হচ্ছে পুলিশকে। কেউ কেউ বলছেন, হিটলারি শাসনে ফিরছে ইউনূসের বাংলাদেশ।
কিছুদিন আগেই একজন অনলাইন অ্যাক্টিভেস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছিলেন, তার একটি ইউটিউবের কনটেন্ট বাংলাদেশের সরকার ব্লক করে দিয়েছে। যদিও সেটি প্রবলভাবে সমালোচিত হওয়ার পর সেই ব্লক খুলে দেয়। এদিকে এই পিনাকী ভট্টাচার্য শেখ হাসিনার প্রবল সমালোচক। অন্যদিকে ইউনূসের সরকারের প্রশংসা করতেন। কিন্তু সামান্য সমালোচনাতেই কড়া হয়েছে ইউনূসের সরকার। শুধু পিনাকী ভট্টাচার্য নন, ইলিয়াস হোসেন থেকে শুরু করে বহু ইউটিউবারের কমটেন্ট ব্লক করে দিচ্ছে অন্তবর্তীকালীন সরকার। এমনকি আওয়ামী লীগের মিছিলকে প্রতিহত করতে না পারার কারণে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এরপরই নড়েচড়ে বসেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। জানা যাচ্ছে, রাজধানী ঢাকা ও আশেপাশের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, ফ্ল্যাট ও ছাত্রাবাসে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের কর্মীদের সন্ধান চেয়ে সাধারণ মানুষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। যারা বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কর্মীদের তথ্য দেবেন, তাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পুলিশ। এমনকি কোনও কোনও ক্ষেত্রে আর্থিক পুরস্কারও থাকছে বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
রাজধানী ঢাকার গুলিস্তান, ফার্মগেট-সহ কয়েকটি এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল করেছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নজরুল ইসলাম বুধবার একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন। তিনি দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে ১৪টি ককটেলে, ৭টি ব্যানার-সহ ২৪৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত আওয়ামী লীগের পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে বুধবারের সাংবাদিক সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নজরুল ইসলাম একটি লিখিত বিবৃতি পড়ে শুনিয়েছেন।
এমনকি পুলিশের তরফে বলা হচ্ছে, যারা তথ্য দেবে, তাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। শুধু তাই নয়, পুলিশের উপর সাঁড়াশি চাপ রয়েছে ইউনূস সরকারের পক্ষ থেকে। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনওভাবেই দাবিয়ে রাখা যাবে না, আওয়ামী লীগকে। প্রথম দিকে তারা মিছিল করলে, তেমন লোক হত না। কিন্তু দিনে দিনে মিছিলের বহর বাড়ছে। বোঝাই যাচ্ছে, ভারতে বসে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে ফেরার পথ প্রসস্থ করছে। এতকিছু করেও আদেও অন্তবর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগকে দাবাতে পারে কিনা, সেটাই দেখার।












Discussion about this post