বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস নিউ ইয়র্কে সফরে গিয়েছেন। সেখানে তার মূল উদ্দেশ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দেওয়া। কিন্তু এছাড়াও এই বিদেশ সফরে অনেকগুলি কারণ রয়েছে। বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। কেউ কেউ বলছেন, তিনি নাকি সেফ এক্সিটের জন্য পরিকল্পনা করছেন। এর মধ্যে আরও একটি খবর উঠে এসেছে, সেটি হল, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদ ছেড়ে দেওয়ার পর জাতিসংঘের মহাসচিব হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন মহম্মদ ইউনূস। এটা তার দীর্ঘদিনের একটি সুপ্ত ইচ্ছে। তবে কেউ কেউ বলছেন, না ঘরকা না ঘাটকা। কিছুই পাবেন না তিনি। তবে জাতিসংঘের মহাসচিব হতে গেলে কি কি যোগ্যতা লাগে? সেই যোগ্যতা কি ইউনূসের রয়েছে?
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড: ইউনূস হলেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। তিনি যেহেতু একজন নোবেল প্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব এবং আমেরিকার সঙ্গে তার একটা গভীর যোগাযোগ রয়েছে। ফলে এখন প্রশ্ন, জাতিসংঘের মহাসচিব হতে গেলে কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত করা হয়? জাতিসংঘের মহাসচিব পদপ্রার্থী হতে গেলে, এক বা একাধিক দেশকে তার নাম প্রস্তাব করতে হবে। এই নাম প্রস্তাব করার পরে সেটি জাতিসংঘের যে নিরাপত্তা পরিষদ রয়েছে সিকিউরিটি কাউন্সিল। তারা এই প্রস্তাবিত নামগুলি নিয়ে আলোচনায় বসবে। সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্য দেশের সংখ্যা ১৫ টি। এদের মধ্যে পাঁচটি হল জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং চীন। এর বাইরে আরও দশটি দেশ নির্বাচিত হয়। এই দশটি দেশের মধ্যে এক একটি দেশ সাধারণত দুই বছর অন্তর নির্বাচিত হয়। একসঙ্গে পাঁচটি দেশ নির্বাচিত হয়। এই ১৫ টি দেশের মধ্যে সংখ্যা গরিষ্ঠ ভোটে জিততে হবে কেউ প্রার্থী হলে। কিন্তু কোনও স্থায়ী সদস্য দেশ যদি ভোট না দেয় তাহলে তার প্রার্থী পদ খারিজ হয়ে যাবে।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব দরবারে ইউনূসের ভাবমূর্তি এখন অনেকটা নেতিবাচক। তিনি প্রায় ১২ থেকে ১৩ মাস বাংলাদেশ শাসন করছেন। কিন্তু তিনি যে যে কর্মকান্ড করেছেন, তাতে বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে। সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নেই, চলছে মব কালচার। যেটা জানে প্রতিটি দেশ। ফলে তিনি প্রার্থী হিসাবে কতটা গ্রহণযোগ্য পাবি সেটা প্রশ্নাতীত। ইতিমধ্যেই দুজন প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন। যদিও মহম্মুদ ইউনূস জাতিসংঘের মহাসচীবের ইচ্ছের বিষয়টি প্রকাশ করেছেন, তার খুব ঘনিষ্ট মহলে। তিনি এর বাইরে প্রকাশ করেননি। কিন্তু অনেকেই বলছেন, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের যে ভাবমূর্তি এবং ইউনূসের যে ভাবমূর্তি সেটির কারণে তার জাতিসংঘের ইচ্ছে, ইচ্ছেতেই থেকে যাবে। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সব কিছু ঠিক থাকলে বাংলাদেশে আগামী ফেবব্রুয়ারিতে নির্বাচন। তারপর প্রধান উপদেষ্টার পদ খুঁইয়ে কি করবেন তিনি, এখন সেটাই দেখার। আসলে শেষমেশ কি পরিস্থিতি হয়, নজর রয়েছে প্রত্যেকের।












Discussion about this post