আশঙ্কা ছিল। সেই আশঙ্কা সত্যি হল। প্রথম বাংলাদেশ, পরে নেপাল অশান্ত হওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়া –সহ আন্তর্জাতিক মহলে একটা প্রশ্ন নাগরদোলার মতো চরকিপাক খাচ্ছিল, ডিপ স্টেটের পরের টার্গেট ভারত নয় তো? প্রশ্ন ওঠার সঙ্গত কারণও ছিল। এক নয় একাধিক কারণ। ডিপ স্টেট কূট চালে জ্বলে উঠল লাদাখ। সংবিধানের ষষ্ঠ তফশিলের আওতাভুক্ত করে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে লাদাখ জ্বলছে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত বহু। তাদের সংখ্যা কত, তা এই খবর লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি। অসমর্থিত সূত্রে পাওয়া খবর অনুসারে, ৮০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪০জনের বেশি পুলিশকর্মী। অনেকে বলছে, এটা পূর্বপরিকল্পিত। ছক আগে থেকেই তৈরি ছিল। কার্যকর করার জন্য অপেক্ষায় ছিল। নেপালের আন্দোলনের মতো লাদাখের আন্দোলনকেও জেন-জি-য়ের আন্দোলন বলা হচ্ছে। লাদাখের ঘটনা থেকে স্পষ্ট যে ডিপ স্টেটের ভারত বিরোধিতা চরম জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে।
লাদাখ এমন একটি জায়গায় অবস্থিত যা ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একদিকে চিন, অন্যদিকে পাকিস্তান। কী হয়েছে, সেটা তুলে ধরা যাক।
এই প্রসঙ্গে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ তুলে ধরতে হয়। আমরা সকলেই জানি কেন্দ্র উপত্যকা থেকে ৩৭০ তুলে নিয়েছে। তখন থেকেই কিন্তু লাদাখ চেয়েছিল পৃথক হতে। এই ইস্যুতে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে অনশন শুরু করেন সোনাম ওয়াংচুক। এর বিষয়ে বিশেষ বলার কিছু নেই। কারণ, সোনাম ওয়াংচুককে চেনে না এমন কেউ নেই। সেই ওয়াংচুক মূলত চারটে দাবি তিনি সামনে নিয়ে আসেন। গতকালের আগে পর্যন্ত এই আন্দোলন ছিল অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ। সরকারের সঙ্গে আলোচনায় রাস্তা খোলা ছিল। কিন্তু আচমকাই সেটা হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। আর সব থেকে যেটা বেশি চোখে পড়ছে, তার হল সোনাম ওয়াংচুক তার অনশন আচমকাই প্রত্যাহার করে নেন। ছাত্র-যুবদের তিনি শান্ত থাকারও অনুরোধ জানান। একটি সূত্র বলছে যে দাবিতে সোনম অনশনে বসেন, সেই দাবি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার দিনও নির্ধারিত হয়ে যায়। সেটা ৬ অক্টোবর। তাহলে কী হল।
লাদাখকে অশান্ত করার পিছনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সোনমকেই দায়ী করেছেন। বলা হয়েছে, তাঁর উস্কানিকমূলক বক্তব্যের জন্যই লাদাখ অশান্ত হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনশনস্থল ছেড়ে রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ও সরকারি দফতরে উন্নত্ত জনতা হামলা চালিয়েছে। অশান্তির আগুনে ইচ্ছাকৃতভাবেই ঘি ঢালা হয়েছে।
মূলত চারটে দাবিতে আন্দোলন। প্রথম দাবি পূর্ণ রাষ্ট্রের মর্যাদা। দ্বিতীয় দাবি, লাদাখকে ষষ্ঠ তফশিলে অন্তর্ভুক্তি, তৃতীয় দাবি কর্মসংস্থানের জন্য পৃথক পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন। চতুর্থ এবং শেষ দাবি আরও একটি লোকসভা আসন। একটি আসন ছিল। আরও একটি আসন তারা দাবি করেছে।
কী আছে ষষ্ঠ তফশিলে? ষষ্ঠ তফশিল অনুসারে, কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় স্বশাসিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা তৈরি করা যায়। সে ক্ষেত্রে ওই স্বশাসিত সংস্থা কয়েকটি আইনি, প্রশাসনিক এবং বিচারবিভাগীয় ক্ষমতা পেয়ে থাকে। যেমন পেয়ে চলেছে উত্তর-পূর্ব ভারতের চার রাজ্য – অসম, মেঘালয়, মিজোরাম ও ত্রিপুরা। লাদাখও পৃথক রাজ্যের মর্যাদা দাবি করেছে। একসময় দার্জিলিংও এই দাবিতে উত্তাল হয়েছিল। তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার সেই দাবি খারিজ করে দেয়। পরিবর্তে তৈরি করে গোর্খা ন্যাশাল হিল কাউন্সিল।
কেন্দ্র জানিয়ে দিয়েছে প্রথম দুটি দাবি নিয়ে তারা কোনওভাবেই আলোচনা যাবে না।












Discussion about this post