আদি নব্যের দ্বন্দ্ব শুধু বিজেপিতেই নয়, বাংলাদেশের বিএনপিতেও রয়েছে। আদি গোষ্ঠীর শীর্ষে বেগম জিয়া। নব্য গোষ্ঠীর শীর্ষে জিয়া পুত্র তারেক। এবার দেখে নেওয়া যাক জিয়ার আদি গোষ্ঠীতে কারা আছেন। সবার আগে নাম করতে হয় মির্জা ফখরুল আলমগীরের। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি বিরোধী শিবিরের অত্যন্ত ভদ্র নেতা বলেই পরিচিত। দলটির জন্য লড়াই করেছেন, জেল খেটেছেন। দলের জন্য জীবনে বহু স্বার্থ ত্যাগ করেছেন, যা দলের অনেকেই করেননি। তারেক রহমান তাঁর পুত্র সম হলেও নেতা হিসেবে মেনে নেওয়ার কথা মির্জা ফখরুল আলমকে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি। তার নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। ফখরুল ছাড়াও জিয়া গোষ্ঠীতে আছেন, মাহমুদুর রহমান, খন্দেকর মুশারফ, আলতাব চৌধুরী, মেজর (অব) হাফিজুদ্দিন, মেজর (অব) আখতাফের মতো নেতারা। এরা সকলেই জিয়ার খুব ঘনিষ্ঠ। হলে কী হবে তারেক রহমান গোষ্ঠী এদের একেবারেই সহ্য করতে পারে না। এরা কারা। তারেক ছাড়া রয়েছে সানি, ব্যারিস্টার জমিরুদ্দিন সরকারের ছেলে। রয়েছেন বকুল। এদের সঙ্গে সিনিয়রদের সম্পর্ক একেবারে ভালো নয়। কিন্তু এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করে বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছেন মির্জা ফখরুল আলমগীর।
অথচ শেষ বয়সে এসে তারেক রহমানের মতো একজন নেতাকে দলে এভাবে কোণঠাসা হতে হবে, সেটা কেউ অনুমান করতে পারেনি। অথচ বিএনপিতে এমন অনেকে আছেন, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু মির্জা ফখরুল আলমগীরের দিকে কেউ আঙুল তুলে বলতে পারবেন না। না তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত বা দুর্নীতির সঙ্গে সমঝোতা করেছেন। তার মতো মানুষের মহম্মদ ইউনূসের মতো একজন দুর্নীতিগ্রস্তের সঙ্গে নিউ ইয়র্ক যাওয়া ঠিক হয়নি। আলমগীরের যাঁরা শুভাকাঙ্খী, তাঁরাও এখন সেই কথা বলছেন।
অস্বস্তি বাড়িয়েছে নিউ ইয়র্কে জেএফকে বিমানবন্দরের ঘটনা। মির্জা ফখরুল আলমগীর মিডিয়ার সামনে নিজের মতামত অত্যান্ত জোরালো ভাবে তুলে ধরেন। কিন্তু ওই ঘটনার পর বিএনপির তরফ থেকে তেমন জোরালো কোনও বক্তব্য শোনা যায়নি। যদিও তাদের মিত্র দলের অনেকেই এই নিয়ে মুখ খুলেছেন। বিএনপির তরফে মিডিয়ার মুখোমুখি হন সাধারণভাবে মির্জা ফখরুল আলমগীর। তাকে কিন্তু ততটা সক্রিয় হতে কেউ দেখল না। উলটে যেটা হল তা হল যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত দূর্বল সেটা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হল নিউ ইয়র্কে বিএনপির সঙ্গে মির্জা ফখরুলের এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যে কারণে তিনি মিডিয়ায় ডিম-কাণ্ড নিয়ে একপ্রকার নীরব থেকেছেন। আমেরিকা গিয়েছন তিনদিন হল। অথচ মির্জা ফখরুল আলমগীরের কোনও বক্তব্য সামনে আসেনি। এই সব ঘটনা থেকে আরও একটা বিষয় স্পষ্ট। দলে তিনি অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। ইউনূসের সঙ্গে গিয়ে আখেরে ক্ষতি হয়েছে মির্জা ফখরুল আলমগীরের। মিডিয়ার সামনে দলকে তুলে ধরা, দলের কথা বলার মতো লোকের অভাব কিন্তু বিএনপিতে কম নেই। তারা কিন্তু মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তাহলে জিয়া গোষ্ঠী বনাম তারেক রহমান গোষ্ঠীর বিরোধ চরমে উঠেছে?
সম্প্রতি ভারতের একটি পত্রিকায় তিনি একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের ভোট সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বলেছিলেন, সব দলের অংশগ্রহণ জরুরী। তিনি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার বিরোধী। মনে করা হচ্ছে এই বিবৃতিতে অসন্তুষ্ট তারেক গোষ্ঠী।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post