বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস ভোটের সময় জানিয়ে দিয়েছেন। বাকি আছে তারিখ ঘোষণা। যদিও কোনও কোনও মহল থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের ভোট বানচাল করতে একটা চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আবার কোনও কোনও মহল বলছে, সেনাবাহিনী ফেব্রুয়ারিতে ভোট চায় না। তারা চায় ভোট হোক ডিসেম্বরে। সেটা বোধহয় মহম্মদ ইউনূসেরও ইচ্ছা। কারণ, তিনি এখন পালাতে পারলেন বাঁচেন।
বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ভারতও। দিল্লির সাউথ ব্লক জেনে গিয়েছে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হাসিনা যাতে ভোট দিতে না পারে, তার জন্য তাঁর ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকী হাসিনার দলের যে বা যাঁরা বিদেশে রয়েছেন, তারাও যাতে ভোট দিতে না পারে, তারও পাকা ব্যবস্থা করে রেখেছে নির্বাচন কমিশন। ভারত কিন্তু আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছে হাসিনা বিহীন নির্বাচনকে তারা স্বীকৃতি দেবে না। কিন্তু কেন?
দক্ষিণ এশিয়া ভারত একটি শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক হার্দিক। সেই সূত্রে দ্বিপাক্ষিক স্তরে বাণিজ্য সম্পর্ক, আর্থিক সম্পর্ক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত। কিন্তু হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের পর দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক এখন রীতিমতো সাপে নেউলে। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, ভোট-পরবর্তী সময়ে ইউনূস ভারতে থাকতে চেয়ে সাউথ ব্লকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সাউথ ব্লক পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে। অপর দিকে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সৌজন্যে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে হাসিনার সম্প্রতি কথা হয়েছে। সেনাপ্রধান বঙ্গবন্ধুকন্যাকে জানিয়েছেন, তারা আর মাঠে থাকতে নারাজ। খুব শীঘ্রই তারা ব্যারাকে ফিরে যাবে। সরকার বা দেশ চালানোর দায়িত্ব তাদের নয়। তার জন্য একজন ক্ষমতায় আসে। সেনাবাহিনীর কাজ দেশের স্বাধীনতা –সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা. জবাবে হাসিনা বলেন, যেটা ভালো বুঝবে সেটা করবে।
এই বার্তা থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, সেনাবাহিনীর আর ইউনূসের পাশে নেই। ইউনূসের কাজ এবং তাঁর ভূমিকায় তারা অসন্তুষ্ট। ইউনূস এখন পড়েছেন মহা ফ্যাসাদে। বিএনপি ক্ষমতায় এলেও তাকে ঘাড়ধাক্কা খেতে হবে। আর আওয়ামী লীগ এলে তো শুধু ঘাড় নয়, আরও কত জায়গায় লাথি খেতে হবে ইউনুস সেটা নিজেও জানেন না। দিল্লির সাউথ ব্লক কিন্তু একটা বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা হাসিনা-বিহীন নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেবে না। কিন্তু কেন?
জামায়াত বা তাদের মতো কোনও মৌলবাদী দল ঢাকার মসনদে বসলে সেটা ভারতের পক্ষে কোনওভাবেই শুভ হবে না। অনুপ চেটিয়া, পরেশ বরুয়ার কথা মনে আছে। বাংলাদেশের মাটিতে বসে সেই সময় তারা ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছিল। এরা করছিল জামায়াতের সহযোগিতায়। বিএনপিও তাদের পিছন থেকে মদত দিয়ে চলছিল। হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর প্রথমেই তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার শুরু করেন। বাংলাদেশের মাটিকে হাসিনা সন্ত্রাসের অভয়ারন্য করতে দেয়নি। তাই, বাংলাদেশে কোনও মৌলবাদী শক্তি ক্ষমতায় আসীন হলে তারা প্রথমেই ভারতকে টার্গেট করবে। তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে সেই সব শক্তি যারা হাসিনার আমলে গলায় সাইলেন্সার লাগিয়ে বসেছিল। ইউনূস সরকারকে তাই চাপে রাখতে দিল্লির সাউথব্লক জানিয়ে দিল, হাসিনা-বিহীন নির্বাচনকে তারা কোনওভাবেই স্বীকৃতি দেবে না। ভারতের এই কূটচালে চাপে পড়ে গিয়েছেন মহম্মদ ইউনূস।
জাতিসঙ্ঘের ৮১ তম অধিবেশনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। প্রার্থী পদের প্রচারে তিনি গিয়েছেন তুরস্ক। তুরস্ক থেকে...
Read more











Discussion about this post