অনেকে আগেই বলেছিলেন, মুহাম্মুদ ইউনূস বিদেশে যাচ্ছেন বিশেষ চক্রান্তে। সেই কারণে এমন সফরসঙ্গীদের তিনি বেছে নিয়েছেন। যাদের সঙ্গে বিদেশের মাটিতে থেকে তিনি বিশেষ আলোচনা করতে পারেন। অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ আবার বলছেন, ইউনূস বাংলাদেশের সিংহাসনে বসার পর থেকে তার মুখে শোনা গিয়েছিল, ভারতের সেভেন সিস্টার্স ও চিকেন নেকের কথা। সেক্ষেত্রেও কোনও পরিকল্পনার জন্য তিনি বিদেশের মাটিতে পা দিয়েছেন। কিন্তু আসলে বিষয়টি ঠিক কি, চলুন আলোচনা করা যাক।
২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড লাইনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস আমেরিকার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিশেষ দূত এবং ভারতের মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসাবে মনোনীত সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির আশ্বাস দিয়েছেন ইউনূস। এমনিতেই আমেরিকা চায় দ্রুত নির্বাচন করিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, বন্দর হাতিয়ে নিতে। এই বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতায় এ ছাড়াও আঞ্চলিক সহযোগিতা সার্ক পুনরুজ্জীবন, রহিঙ্গা সম্পদ, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার.. এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এমনকি এই বৈঠকে ইউনূস নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং ভারতের সার্ক উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যের সঙ্গে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন ওই সার্জিও গোরকে। বেশ কয়েক মাসে মহম্মদ ইউনূস কয়েকটি বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন ভারতের উত্তর পূর্ব অঞ্চল নিয়ে। ২০২৫ এর মার্চ মাসে ইউনূস চিন সফরে গিয়ে মন্তব্য করেন, ভারতের সাতটি রাজ্য স্থলবেষ্টিত। সমুদ্রের যাওয়ার কোনও রাস্তা নেই। তাদের বাংলাদেশের উপরে নির্ভর করতে হয়। এবং তারাই হচ্ছেন সমুদ্রের রক্ষক। এমনকি তিনি চীনকে আহবান করেছিলেন, এটা চীনা অর্থনীতির সম্প্রসারণ হতে পারে। এমনকি এমন ইঙ্গিতও করেছিলেন যে, শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেন নেক কেটে দিলে এই সাত রাজ্য আলাদা হয়ে যাবে। এরপর ২০২৫ এর মে তে নেপালের ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান এবং সেভেন সিস্টার্স এর জন্যে একটি সম্পূর্ণ সমন্বিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
একদিকে আমেরিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসাবে ভারতকে এবং অন্যদিকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক, অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। আমেরিকা নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশকে কুক্ষিগত করছে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশ চীনের প্রতি ঝুঁকছে। যেটা ভারতের জন্য হুমকি হতে পারে। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের উত্তর পূর্ব নিয়ে ইউনূসের বারবার এই ধরনের হুমকি এবং চীন পাকিস্তান এর সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের বিষয়ে। এই পরিস্থিতিতে ভারত আমেরিকা সম্পর্কের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। যেটা দুই দেশেরই কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা হবে। সেটা আমেরিকা মনে রাখছে না বা মেনে চলছে না। আর ইউনুস এই ভারত বিরোধিতার যে মানসিকতা সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন না। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন হলে ইউনূস বিদায় নেবেন। কিন্তু ক্ষতি হবে বাংলাদেশের, বাংলাদেশের মানুষের। এরমধ্যেই নিউ ইউর্কে সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠক বিশেষ ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, তার নিউইউর্ক সফর শেষে আর কি কি বিষয় উঠে আসে।












Discussion about this post