আগামী শুক্রবার মোট তিনটি মেট্রো রুটের উদ্বোধন রয়েছে। উদ্বোধন করবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আমন্ত্রণ গেছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও। কিন্তু সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিচ্ছেন না মুখ্যমন্ত্রী। নীতিগত কয়েকটি কারণই নাকি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন না বলে জানা গিয়েছে। তবে সেই নীতিগত কারণগুলি কি কি? কেন থাকছেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
জানা যাচ্ছে, ২২ অগাষ্ট মোট তিনটি মেট্রো রুটের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অরেঞ্জ লাইনে নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর, গ্রিন লাইনে সেক্টর ফাইভ থেকে হাওড়া ময়দান, এবং ইয়েলো লাইনে নোয়াপাড়া থেকে বারাসত রুটের উদ্বোধন হবে। নোয়াপাড়া থেকে বারাসত পর্যন্ত মেট্রোপথ হলেও আপাতত নোয়াপাড়া, যশোর রোড এবং জয় হিন্দ। এই তিনটি মেট্রো স্টেশনে যাত্রী পরিষেবা চালু হবে। আর সেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, তিনি নাকি উপস্থিত থাকবেন না। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বহু তত্ত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। প্রথমত, বাঙালি অস্মিকা। ভিন রাজ্যে গিয়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষত তার অভিযোগ ছিল, বিজেপি শাসিত রাজ্যে গিয়ে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। এই প্রতিবাদে রাজ্যে চলছে আন্দোলন। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে একই আসনে বসতে চান না মুখ্যমন্ত্রী।
দ্বিতীয়ত, এই প্রকল্পগুলি নাকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেলমন্ত্রী থাকাকালীন পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অর্থ বরাদ্দ নাকি তিনিই করেছিলেন। এতদিন ধরে নাকি ধীরগতিতে করে এখন বাস্তবায়ন করে নিজেদের নাম লেখাতে চাইছে বিজেপি। এমনটাই অভিযোগ রাজ্যের শাসক দলের। এই জায়গায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে স্রেফ একটা চিঠি দিয়েই রুটিন আমন্ত্রণ করতে চাইছে কেন্দ্র।
তৃতীয়ত, এর আগে সাংবিধানিক পদকে সম্মান দিয়ে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু বিজেপি সমর্থকরা কিছু বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করেও মুখ্যমন্ত্রীকে অপমানজনক আচরণ করেছিলেন। সেই কারণে এবারও তিনি উপস্থিত থাকবেন না। উল্লেখ্য, হাওড়ায় বন্দে ভারত এক্সপ্রেস উদ্বোধনের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে বেশ কিছু বিজেপি সমর্থক জয় শ্রীরাম শ্লোগান দিতে থাকে। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী।
অর্থাৎ সরকারি প্রকল্পে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত না থাকার বিষয়টি নির্ভর করছে রাজনৈতিক কারণে। বস্তুত, রাজ্যের শাসক দলের দাবি, বান্দার বিরুদ্ধে সমস্ত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের টাকা না দিয়ে বাংলার মানুষের সঙ্গে বঞ্চনা করা হয়েছে। যদিও সেই টাকা মিটিয়ে দেয় রাজ্য। এবার যোগ হয়েছে, বাংলা ভাষার প্রতি সন্ত্রাস। বাংলা বললেই তাকে বাংলাদেশী বলে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বলা হচ্ছে, অনুপ্রবেশ রোখার দায় কেন্দ্রের। কিন্তু অনুপ্রবেশকারী বলে দাগিয়ে দিয়ে নির্মমভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের। আর এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে এই দিনের অনুষ্ঠানের মুখ্যমন্ত্রী হাজির হবেন না। বরং উল্টে তৃণমূল বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে প্রচার করবে, প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি বিপুল পরিমাণে কাজ করেছিলেন। গোটা বাংলার সমস্ত জেলার জন্য, যে কাজ তিনি করে গিয়েছেন সেগুলি তুলে ধরবে তারা।












Discussion about this post