বাংলাদেশের যা পরিস্থিতি তাতে এটুকু বলা যায়, পরিস্থিতি একেবারে ভালো নয়। অত্যন্ত ঘোলাটে। ৫ই অগাস্টের আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছিলেন, গোটা দেশকে সচেতন থাকতে হবে। এর মধ্যেই দেশ কোন দিকে যাবে স্পষ্ট হয়ে যাবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভবত সেই সময়সীমাটা বাড়ানো হয়েছে। কিছু কিছু ঘটনা প্রবাহ বা বক্তব্য থেকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত খুঁজে পাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, ঘরে বাইরে প্রবল চাপে মহম্মদ ইউনূস। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই কিছু একটা ঘটতে চলেছে।
কিছুদিন আগে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এনসিপি এবং নির্বাচন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলছেন, এনসিপির কথায় কিছু যায় আসে না। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। এনসিপি সম্পর্কে বা জাতীয় নাগরিক পার্টির সম্পর্কে এর আগে কখনও কোনও উপদেষ্টা এই ভাবে কথা বলতে পারেন, সেটা কি কেউ কল্পনা করতে পারেনি। কিন্তু এখন এনসিপিকে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। যে এনসিপি নাকি কিংস পার্টি নামে পরিচিত। এমনকি যে এনসিপি মহম্মদ ইউনূসের খুব কাছের। নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। কিন্তু সরকারের অন্য উপদেষ্টারা সেগুলোর উড়িয়ে দিচ্ছেন। অর্থাৎ এনসিপি এবং সরকারের মধ্যে যে একটা সূক্ষ্ম ফাটল ধরা পরল, সেটা দিন দিন যে আরও চওড়া হবে, সেটা বলাই বাহুল্য।
তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা অনেক আগেই বলেছিলেন, এই সরকারের আমলে নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে দ্রুত নির্বাচন হোক। তবে তাদের এত মাথা ব্যাথা কেন? তাহলে কি মহম্মদ ইউনূসকে দিয়ে যে কাজ হাসিলের কথা তারা ভেবেছিল, সেটা হচ্ছে না? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের তরফেও একটা চাপ বাংলাদেশের উপর। পরিস্থিতি শুধু ঘোলাটের দিকে যাচ্ছে শুধু তাই নয়, প্রশ্ন উঠছে একাধিক বিষয় নিয়ে। এর মধ্যে খবর, আগামী জানুয়ারি থেকে চীনের সঙ্গে তিস্তা মহা প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে। চীন অর্থায়ন করতে চাইছে নিজেদের স্বার্থে। ভারতের চিকেন নেকের কাছে এই প্রকল্প করা হবে।এদিকে ভারত কখনোই চায় না, চিন এই প্রকল্পের অর্থায়ন করুক। ফলে চিন যদি এটি করে থাকে, তবে ভারত চুপ করে বসে থাকবে না। তারাও চাপ তৈরি করবে বাংলাদেশের উপর। অর্থাৎ স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে এগোচ্ছ। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম কিছু একটা ঘটার কথা বলেছিলেন। এবার বোধ হয় সেই দিকেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ।












Discussion about this post