সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল, রাজ্যের শিক্ষামিত্ররা ৬০ বছর পর্যন্ত কাজ করতে পারবেন। তাঁদের কার্যকাল বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয়েছিল। এর আগে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চে এই বিষয়ে মামলা উঠলে বিচারপতি রবীন্দ্রনাথ সামন্তর একক বেঞ্চের নির্দেশই বহাল রেখেছিল ডিভিশন বেঞ্চ। এবার সেই নির্দেশই বহাল সুপ্রিম কোর্টেও। এদিন বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চেরও স্পষ্ট নির্দেশ, শিক্ষামিত্ররা ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরি করতে পারবেন।
২০০৪ সালে সর্বশিক্ষা অভিযানের আওতায় পিছিয়ে পড়া, স্কুলছুট ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোর দায়িত্ব দিতে শিক্ষামিত্র নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল।
সেই সময় তাদের মাসিক বেতন ছিল ২৪০০ টাকা, এরপর নতুন সরকার আসতে ২০১৩ সাল থেকে শিক্ষামিত্রদের পদ পরিবর্তন করে দিয়ছে রাজ্য। শিক্ষামিত্র থেকে সরকার তাদের স্বেচ্ছাসেবক করে দেন। ২০১৪-র এপ্রিল মাস থেকে শিক্ষামিত্রদের ভাতাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। দেশের শিক্ষকদের যোগ্য সম্মান দেওয়া হয় না উল্টে তাদের অবহেলার শিকার হতে হয়। আদালতের প্রশ্ন, কেউ যদি টানা ২১ বছর কাজ করেন, সেক্ষেত্রেও কেন তাঁকে স্থায়ী করা হবে না? এর সাথে রাজ্য সরকার ৬০ বছরের আগে চাকরি থেকে অবসর নিতে হবে বলে সিদ্ধান্ত নেন। চ্যালেঞ্জ করে হাই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করা হয়। বিচারপতি সেই সংক্রান্ত মামলায় রায় দেন যে বকেয়া বেতন মিটিয়ে দিয়ে সবাইকে কাজে ফিরিয়ে নিতে হবে।
অন্যদিকে সিঙ্গেল নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করা হয়। সেই ক্ষেত্রেও এই মামলাতে শিক্ষামিত্রের পক্ষেই রায় যায়। তবে মামলা এখানেই থেমে থাকে না, মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত এবং সুপ্রিম কোর্ট থেকেও একই রায় বহাল করা হল। সুতরাং ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করার ক্ষেত্রে আর কোন বাধা থাকলো না। রাজ্য সরকারি সুত্রে জানা যাচ্ছে যে, রাজ্যে মোট ৩ হাজার ৩৩৭ জন শিক্ষা মিত্র রয়েছেন।
বিরোধী পক্ষের দাবি রাজ্য সরকার আজ রূপশ্রী কাল কন্যাশ্রী অথবা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো বিভিন্ন রকমের ভাতার খাতায় মুড়ে রাখতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে। মাসে মাসে প্রতিটা ঘরের মানুষজনকে ভাতার নামে , বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ঘরে বসিয়ে রাখতে চাইছে, ভবিষ্যত প্রজন্মকে পঙ্গু করে দিতে চাইছে। বিরোধীদের আরও দাবি, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের রক্ত জল করা করের টাকা নিয়ে নয় ছয় করছে রাজ্য সরকার। উল্লেখ্য, প্রতি বার ভোট আসতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা নতুন প্রকল্প চালু করেন। আবার লক্ষ্ণীর ভাণ্ডারের অনুদান বৃদ্ধি করেন। এবার যেমন পাড়ায় সমাধান প্রকল্প চালু করেছেন তিনি। এই সমস্ত প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাজ্য সরকার। অথচ রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের ডিএ দিতে বলায় নবান্ন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত ছুঁটছে। ফলে ভোটমুখী রাজ্যে কেবলমাত্র ভাতা ও অনুদানেই ভোট কিনতে চায় তৃণমূল সরকার। উন্নয়ন নিয়ে কোনও চিন্তাভাবনা করে না তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ বিজেপির।
আমেরিকা কি ভারতের বন্ধু? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যের নিরিখে বিচার করলে অবশ্যই বলতে হবে তিনি এবং তাঁর...
Read more












Discussion about this post