বিগত শেখ হাসিনা সরকারকে ফেলতে যে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র হয়েছিল তার নেপথ্যে যে মার্কিন ডিপ স্টেট ছিল তা এখন ওপেন সিক্রেট। বিশেষ করে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন খোলাখুলি মার্কিন ডিপ স্টেটের সেই পরিকল্পনা ফাঁস করলেন, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন মহাম্মদ ইউনূসের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পড়েছিলেন। কিন্তু কুশলী ইউনূস এবং ষড়যন্ত্রী ডিপ স্টেট সেই আশঙ্কা কাটিয়ে উঠে ফের বাংলাদেশে সক্রিয় হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রসংঘকে ব্যবহার করে ঘুরপথে বাংলাদেশে একটা সামরিক স্টেশন তৈরির ছক এগিয়ে নিয়ে যায় ওয়াশিংটন। তবে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। তাঁর তীব্র বিরোধিতায় প্রাথমিকভাবে ধাক্কা খায় যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্খা। এই পরিস্থিতিতে মুহাম্মদ ইউনূস ও খলিলুর রহমান নানা উপায়ে ওয়াশিংটনকে খুশি করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চাইছিলেন পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশকেও কাজে লাগিয়ে ভারতকে চাপে ফেলতে। সেই কারণেই ঢাকা ও চট্টগ্রামে ঘনঘন মার্কিন সেনার আনাগোনা বাড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নরেন্দ্র মোদির চালে ট্রাম্পও এবার বাংলাদেশ থেকে পিছু হটতে শুরু করেছেন বলে মনে করছেন একাধিক মহল।
চিনের তিয়ানজিন শহরে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন নরেন্দ্র মোদি এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ওই বৈঠকে যাওয়ার আগে হোটেল থেকে বেরোনোর পর নিজের গাড়িতেই নরেন্দ্র মোদিকে তুলে নেন পুতিন। তারপর দীর্ঘ ৪৫ মিনিট সেই গাড়িতেই তাঁরা আলাপ-আলোচনা করেন। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ পরে জানান, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুই নেতা গাড়ির ভেতরেই ছিলেন। তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, “প্রেসিডেন্ট আলাপ ভঙ্গ করতে চাননি। আবার লিমোজিনের ভিতরের পরিবেশও যে কোনও বাইরের চাপ থেকে সুরক্ষিত”। ফলে তাঁরা রুশ প্রেসিডেন্টের জন্য নির্দিষ্ট লিমুজিনে বসে কোন বিষয়ে আলোচনা করলেন, তা নিয়ে জল্পনা কল্পনা শুরু হয়ে যায়। পরে রুশ প্রেসিডেন্ট নিজেই খোলসা করে দেন, মোদির সঙ্গে তাঁর কি এমন কথা হয়েছে। পুতিন পরে বলেন, আলাস্কার শীর্ষ বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর যে আলোচনা হয়েছিল, তার বিস্তারিত মোদিকে তিনি জানিয়েছেন। পুতিনের স্পষ্ট কথা “এখানে কোনও গোপনীয়তা নেই। আমরা আলাস্কায় কী আলোচনা করেছি, সেটাই তাঁকে বলেছি”। এখানেই চাপে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুতিন আসলে পরোক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই বোঝালেন নরেন্দ্র মোদিকে তিনি বাদে গোটা বিশ্ব মোটেই হালকাভাবে নিচ্ছে না। মোদি এখন বিশ্ব নেতা। এরপরই কিছুটা হতাশ মর্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতের বিরুদ্ধে শুল্ক নিয়ে কিছুটা পিছু হটার বার্তা দিয়েছেন। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, এবার বাংলাদেশ নিয়ে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সেটা একাই নেবেন নরেন্দ্র মোদি। চিন সফরে সেই ব্যবস্থাই করে এসেছেন তিনি। বাংলাদেশে মার্কিন আধিপত্যকে নিরস্ত্র করতে চিনা প্রেসিডেন্ট এবং রুশ প্রেসিডেন্টকেও পাশে পাবেন তিনি। তাই খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে বড় কোনও পদক্ষেপ নিতে পারে ভারত। তারই তোড়জোড় চলছে। প্রসঙ্গত, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত স্প্ষ্ট করেছেন, ওয়াশিংটন বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাতে চায় না।












Discussion about this post