হিন্দু-সহ দেশের সমস্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের ৷ শুক্রবার প্রতিবেশী দেশ নিয়ে সংসদে এই মন্তব্য করেন বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ৷ আরেকদিকে সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথাই শোনা গেল মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের গলাতেও৷ বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, ইসকন একটি আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত সংস্থা, যা সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে ভারত। চিন্ময় কৃষ্ণের গ্রেফতার প্রসঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “মামলাটি যথাযথ, ন্যায়সঙ্গত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হবে বলে আমরা আশা করছি। এও আশা করা হচ্ছে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের আইনি অধিকার নিশ্চিতভাবে পাবেন।” এদিকে বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সংসদে দেওয়া এক লিখিত জবাবে বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক, বিশেষত সংখ্যালঘুদের জীবন ও স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের ওপর বর্তায়। তিনি আরও জানান, “বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর হিংসা, তাদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং মন্দিরসহ ধর্মীয় স্থান আক্রমণের ঘটনা নিয়ে আমরা একাধিক প্রতিবেদন পেয়েছি। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করা হয়েছে।” ৫ অগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যান ৷ এরপর 8 অগস্ট নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার৷ দেশের অভ্যন্তরীণ অশান্তিতে প্রায়শই খবরের শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশে হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নানাভাবে হিংসা, অত্যাচারের ঘটনা ৷ গত ১৬ অগস্ট মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে ফোনে প্রধানমন্ত্রী মোদির কথা হয়৷ সেখানে মুখ্য উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীকে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন৷ বাংলাদেশের সরকারকে দিল্লি জোরালো বার্তায় আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। এই ইস্যুতে এদিন সংসদে রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে মুখ খোলেন মোদী সরকারের বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং।রাজ্যসভায় এদিন মোদী সরকারের মন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং বলেন,’বাংলাদেশে হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর ও দেবদেবীর অপবিত্রতার নানান ঘটনার কথা রিপোর্ট হয়েছে গত কয়েক মাসে। সরকার এগুলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে ঢাকার তাঁতিবাজারে মণ্ডপে হামলা ও ২০২৪ সালে দুর্গাপুজোর সময় সাতখিরায় যশরেশ্বরী কালীমন্দিরে ঘটনাও এরমধ্যে রয়েছে।’ এই ইস্যুতে ভারতের সাফ কথা, বাংলাদেশ যেন তার সমস্ত নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, বিশেষত সংখ্যালঘুদের। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলছেন,’ভারত সরকার, বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে হিন্দু, সংখ্যালঘুদের এবং তাদের ধর্মীয়স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। সংখ্যালঘু সমেত বাংলাদেশের নাগরিকদের স্বাধীনতা ও জীবনের নিরাপত্তার প্রাথমিক দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের।’ অন্যদিকে, সংসদে দেওয়া বিবৃতিতে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে সতর্ক করল ভারত। এদিন রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, হিন্দু ও বাকি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক বাংলাদেশের ইউনূস সরকার। দিল্লির স্পষ্ট বার্তা, বাংলাদেশের সরকারের উপরেই সে দেশের নাগরিক, বিশেষত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দায়িত্ব বর্তায়। সেটা যেন নিশ্চিত করা হয়, তা ঢাকাকে কড়া ভাষায় এদিন বুঝিয়ে দিয়েছে দিল্লি। পাশাপাশি শুক্রবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে। সূত্রের খবর, শুক্রবার যদি সংসদ অধিবেশন বিরোধীরা চলতে দেন, তা হলে বিদেশমন্ত্রী লোকসভা এবং রাজ্যসভায় বাংলাদেশের অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দিতে পারেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post