উত্তপ্ত বাংলাদেশ। লাগাতার মন্দিরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, মারধর, লুঠের ঘটনার মাঝে ফের নতুন করে মন্দিরে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা চট্টগ্রামের পাথরঘাটায়। এই প্রেক্ষাপটে অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্যের সংসদ বব ব্ল্যাকম্যান বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে হাউস অব কমন্সে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বব ব্ল্যাকম্যান যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে এই বিষয়টি উত্থাপন করে বলেছেন যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় চরম সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে। তাদের ঘরবাড়ি ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে, এমনকি তাদের জীবনও হুমকির সম্মুখীন। তিনি এই অবস্থাকে গভীর উদ্বেগজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছেন। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মন্দির, দেবদেবীর মূর্তি ধ্বংস, এবং ধর্মীয় নেতাদের ওপর হামলা একটি সাধারণ চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশে এমন ঘটনা দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। বাংলাদেশের প্রথম আলো সংবাদপত্র সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে শান্তন্বেশ্বরী মাতৃমন্দিরে ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে, মিছিল থেকে কিছু ব্য়ক্তি মন্দিরে হামলা চালায়। ভাঙচুর চালানো হয় পার্শ্ববর্তী বাড়ি এবং দোকানে। কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ইসকন পরিচালিত শ্রীশ্রী হরেকৃষ্ণ নামহট্ট সঙ্ঘে লাঠি হাতে হামলা চালিয়ে আসবাব ও ছবির ফ্রেম ভাঙচুর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পটিয়া উপজেলার ছনহরা এলাকায় বাসুদেব দত্ত, মুকুন্দ দত্ত ধাম ইসকন মন্দিরে ভাঙচুর চালানো হয়। ইস্কনের পুরোহিত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বব ব্ল্যাকম্যান এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, “এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ, যারা যুক্তরাজ্যের এলস্ট্রির ভক্তিবেদান্ত ম্যানর পরিচালনা করে, যা এই দেশের বৃহত্তম হিন্দু মন্দির, তাদের একজন আধ্যাত্মিক নেতা বাংলাদেশে গ্রেফতার হয়েছেন।” বব ব্ল্যাকম্যান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন কেবল স্থানীয় নয়, এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুরা আজ চরম বিপদের মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা।” উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগজনক রিপোর্ট পেশ করেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্স-এর বহুদলীয় গোষ্ঠী ‘অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ ফর দ্য কমনওয়েলথ’। রিপোর্টে বলা হয়েছে, “নতুন জমানায় বাংলাদেশে দু’হাজারের বেশি হিংসার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার বদলা নিতে বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করেছে। আইনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার সংস্কৃতি অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন।” ইতিমধ্যে এই রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে সে দেশের বিদেশমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির কাছে।












Discussion about this post