মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ লাগোয়া মংডু শহর দখল করেছে আরাকান আর্মি। এই অবস্থায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অত্যাচারের আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখন বাংলাদেশের জন্য বড় বিপদ আসছে। এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে বাংলাদেশে নতুন করে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার ঢল নামার আশঙ্কা রয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৮ লক্ষ রোহিঙ্গা। বর্তমানে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লক্ষ। তাঁরা বাংলাদেশের কক্সবাজার ও বান্দরবানের ৩৩টি শিবিরে বসবাস করছেন। তবে রাখাইনে এখনও প্রায় ৫ লক্ষ রোহিঙ্গা রয়ে গেছেন। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, কোস্টগার্ড ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সীমান্তে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু তাতেও রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ আটকানো সহজ হবে না। এদিকে আরাকান আর্মির ভয়ে ঘুম উড়েছে ঢাকার। ইউনুস সরকারের মাথাব্যথার নতুন কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই আরাকান আর্মি। ইতিমধ্যে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশের প্রায় নব্বই ভাগ এলাকা এখন এই আর্মির নিয়ন্ত্রণে। মায়ানমারের সেনাবাহিনী বর্তমানে সেখানের সেনা সদর দফতর কোনওমতে রক্ষা করছে। মায়ানমারের সেনাবাহিনীর দশা এখন কার্যত কোণঠাসা। তাতেই বিপদ বাড়ছে বাংলাদেশের। কারণ রাখাইন প্রদেশের ২৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে, যা এখন আরাকান আর্মির অধীনে। এই পরিস্থিতিতে রাখাইন প্রদেশে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় চুপ করে বসে নেই নয়াদিল্লিও। সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ভারত বিরোধিতা নিয়ে ইতিমধ্যেই কড়া বার্তা দিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে সেই প্রতিক্রিয়া পেতেই আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে ইউনূসের সরকার। সীমান্তে জুড়ে মোতায়েন করেছে তুরস্কের পাঠানো ড্রোন। এমন অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিকল্প পথের কথাও ভাবছে ভারত। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, উত্তর-পূর্ব ভারতের অসম-মনিপুর সংলগ্ন বাংলাদেশ সীমান্তে বিপুল সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে বাংলাদেশের চট্টোগ্রাম জেলা সংলগ্ন সীমান্তের কাছেই প্রায় ৩৫,০০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের দিকে তাক করা হয়েছে পিনাকা গাইডেড মিসাইল। যার রেঞ্জ ৭০ থেকে ৭৫ কিলোমিটার। প্রয়োজনে পরমানু অস্ত্র বহনেও সক্ষম এই ক্ষেপনাস্ত্র। ইতিহাসে প্রথমবার বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের এই বিপুল সেনা মোতায়েন নিঃসন্দেহেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে ইউনুস সরকারের। এমন অবস্থায় ভারতের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে ঝগড়া করতে গিয়েই নিঃশব্দে বিপদকে কাছে টেনে আনলো ঢাকা। গত ১০ ডিসেম্বর চট্টোগ্রাম সীমান্ত সংলগ্ন মংডু শহর দখল নিয়েছে মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। চট্টোগ্রাম সীমান্তে বয়ে চলা নাফ নদীর পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এই গোষ্ঠীটি। রোহিঙ্গা অধুষ্যিত রাখাইন প্রদেশ থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এই মুহূর্তে সবথেকে বড় মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এখন বাংলাদেশিদের কাছে আতঙ্কের অপর নাম আর নাফ নদী । কারণ কোনও বাংলাদেশি দেখলেই গুলি চালাতে এক সেকেন্ডও ভাবছে না আরাকাররা। কূটনৈতিকমহলের মতে এমন ভাবে চললে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো চট্টগ্রাম হারাতে হতে পারে বাংলাদেশকে। অন্যদিকে, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ গড়ে তুলতে মায়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়তে চাইছে ভারত। সেই কারণেই মায়ানমারের সিতওয়েতে ভারতের কালাদান বন্দর, সড়ক যোগাযোগ ও গ্যাস পাইপলাইন সহ একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছে নয়াদিল্লি। সেই আর্থিক স্বার্থেই বিদ্রোহীদের সঙ্গে সম্পর্কস্থাপন করেছে সাউথব্লক। কারণ ওই বিনিয়োগগুলির স্বার্থ সুরক্ষিত থাকলে আগামীতে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় ভারতের প্রভাব অক্ষুন্ন থাকবে বলেই মনে করে কূটনৈতিক মহল। চিনকে রুখতে এবার মায়ানমারের বিদ্রোহীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে ভারত। একদিকে চিন মদতপুষ্ঠ মায়ানমারের সামরিক জুন্টা সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খুব একটা সুমধুর নয় নয়াদিল্লির। তারমধ্যে বাংলাদেশে মৌলবাদের উত্থাণ চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে নয়াদিল্লির কপালে। এমন অবস্থায় উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা ও চিনের প্রভাব প্রতিহত করার স্বার্থে মায়ানমারের বিদ্রোহীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চাইছে সাউথব্লক। নাফ নদীর ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এবং বাংলাদেশের জলসীমায় বিদ্যমান দ্বীপের আধিপত্য বিস্তারের জন্য নৌ টহলও জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে আরাকান আর্মির হামলার মুখে কয়েকটি রোহিঙ্গা সংগঠনের নেতারা অস্ত্রসহ বাংলাদেশে আশ্রয়ের পর তাদের আটক করে বাংলাদেশের পুলিশ। বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার স্থানীয় প্রশাসন বলছে, এমন অবস্থায় নতুন করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের এক ধরনের শঙ্কা রয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post