হাসিনার পদত্যাগের চার মাস পরেও উত্তাল বাংলাদেশ। জায়গায় জায়গায় জ্বলছে আগুন। ভেসে আসছে আর্তনাদ। এই আবহে বড় খবর সামনে আসছে। বাংলার কাছে তুরস্কের কোনও ড্রোন মোতায়েন করা হয়নি। জল্পনার মধ্যেই এই ইস্যুতে মুখ খুললেন প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ইউনূসের প্রেস উইং। তাঁর দাবি, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সংক্রান্ত যে খবর নাকি করছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিএসএফের তরফে কোনও বার্তা পাওয়া যায়নি। তবে সূত্রের খবর, চিন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পরিকল্পনা করছে ইউনূস সরকার। এবার একেবারে গুপ্তচরবৃত্তি শুরু করল বাংলাদেশ। সূত্রের খবর বলছে, সীমান্তে গুপ্তচর ড্রোন মোতায়েন করেছে ইউনূসের দেশ। গোপনে গতিবিধি লক্ষ্য করা হচ্ছে ভারতের। আর এই খবর মিলতেই কড়া অ্যালার্ট জারি হয়েছে দেশে। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গে ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত অঞ্চলে গুপ্তচর ড্রোন মোতায়েন করেছে প্রতিবেশী দেশ। এই মুহূ্র্তে বাংলাদেশের বন্ধু পাকিস্তান আর শত্রু ভারত। বাংলাদেশকে এই মুহূর্তে পরমাণু বোমা দিয়ে সাহায্য করার বার্তা পাকিস্তানের। আর তাতেই এই কথা বলছেন কূটনীতিকরা। প্রকাশ্যেই পাক কট্টরপন্থী ধর্মগুরু বাংলাদেশকে পরমাণু বোমা দিয়ে সাহায্য করার বার্তা দিয়েছেন। হাত গুটিয়ে বসে নেই ভারতও। ফ্রান্সের সঙ্গে ২৬টি ‘রাফাল মেরিন’ যুদ্ধবিমানের চুক্তি নিয়ে আলোচনা অন্তিম পর্যায়ে রয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী মাসেই চূড়ান্ত হতে পারে চুক্তি। সোমবার এমনটাই জানালেন ভারতের নৌসেনার প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠি। সোমবার বার্ষিক নৌসেনা দিবস উপলক্ষে একটি সাংবাদিক বৈঠকে দীনেশ বলেন, ‘‘রাফাল-এম সংক্রান্ত আলোচনা এখন অন্তিম পর্যায়ে রয়েছে। এখন শুধু এটিকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা। বেশ কয়েক দফা আলোচনার পর যুদ্ধবিমানগুলির চূড়ান্ত দামও কমানো গিয়েছে। আগামী মাসের মধ্যেই এ নিয়ে রফা হতে পারে।’’ যেহেতু এটি এক দেশের সরকারের সঙ্গে আর একটি দেশের সরকারের চুক্তি, তাই এটি চূড়ান্ত হতে বেশি সময় লাগবে না, এমনটাই দাবি দীনেশের। এর আগে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে ভারতের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ২৬টি রাফাল এম যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। এদিকে ফ্রান্স গত ডিসেম্বরে ভারতীয় টেন্ডারে সাড়া দিয়েছিল। এদিকে ফ্রান্সের থেকে রাফাল কেনার পাশাপাশি ফরাসি সরকারের কাছ থেকে অস্ত্র, সিমুলেটর, খুচরো যন্ত্রপাতি, সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম, ক্রু প্রশিক্ষণ এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য লজিস্টিক সাপোর্ট কেনার চুক্তি হবে। এর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছিল, যতক্ষণ না ভারত নিজস্ব টুইন-ইঞ্জিন ডেক-বেসড ফাইটার তৈরি করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত নৌবাহিনীর প্রয়োজন মেটাতে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসাবে রাফাল এম আমদানি করা হচ্ছে। এদিকে ভারতে তৈরি প্রথম টুইন-ইঞ্জিন ডেক-বেসড ফাইটারের প্রোটোটাইপটি ২০২৬ সালের মধ্যে আকাশে উড়তে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। এবং ২০৩১ সাল থেকেই এই ধরনের বিমানের উৎপাদন শুরু করা যাবে। আবার বাংলাদেশ-মায়ানমারের সীমান্তবর্তী নাফ নদীর মায়ানমার অংশে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আরাকান আর্মি। আরাকান আর্মির এই ঘোষণার পর নাফ নদীতে নৌ চলাচলে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বাংলাদেশের তরফে। নজরদারি বাড়িয়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। এদিকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরগরম পরিস্থিতি বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য নতুন বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই অবস্থায় ঢাকা ও নয়াদিল্লি উভয়েই আশঙ্কা করছে যে, যদি আরাকান আর্মি পুরো রাখাইন প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, তবে সেখানকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে দেশছাড়া করার চেষ্টা হতে পারে। এর ফলে, প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা নতুন করে বাংলাদেশ ও ভারতে ঢুকতে পারে। সেটাই এখন দিল্লি ও ঢাকার কাছে চিন্তার। আবার আরাকান আর্মি নাফ নদীতে নৌ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। সীমান্তের এই নদী দিয়েই বাংলাদেশের প্রশাসনের লোকজন এবং সাধারণ নাগরিকেরা সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাতায়াত করে থাকে। গত তিনদিন ধরে এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সেই কারণে এখন আরাকান আর্মির কারণে বিরাট চাপে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী মায়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে। বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, দিনরাত চলছে টহল।












Discussion about this post