মায়ানমারের রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রতিদিনই পরিবর্তন হচ্ছে। দেশটির রাখাইন রাজ্যভিত্তিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি রাজ্যটির অধিকাংশই দখলে নিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে দেশটির জান্তা বাহিনীকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এটি স্পষ্ট যে, আরাকান অবশেষে গণহত্যাকারী মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত হতে যাচ্ছে। তবে রোহিঙ্গারা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারপরনাই শঙ্কিত। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আরাকানে থেকে যাওয়া ৬ লাখ রোহিঙ্গা গণহত্যা, জোরপূর্বক স্থানান্তর, নির্যাতন, ইচ্ছামতো গ্রেপ্তার ও আটক, যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং আরও বহু ধরনের নৃশংসতার শিকার হয়েছে। মায়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির হাতে তারা এই দমনপীড়ন ভোগ করছে এবং দুই পক্ষের সংঘর্ষের মাঝে আটকে পড়েছে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত শহর মংডু ও বুথিডং পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে এবং সেখানকার রোহিঙ্গাদের জোর করে উচ্ছেদ ও অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, বাংলাদেশ সীমান্ত কঠোরভাবে বন্ধ থাকায় রোহিঙ্গারা পালিয়েও যেতে পারছে না। আগে মায়ানমারের সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করার লক্ষ্যে তাদের নির্যাতন করত। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর আরাকানে আরাকান আর্মি আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ইচ্ছামতো কাজ করার সুযোগ পেয়েছে, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে। বর্তমান পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রশ্নই সামনে হাজির করে যে, আরাকান আর্মি যে ‘আরাকান ড্রিমের’ কথা বলে, তা কি শুধুই রাখাইন বৌদ্ধদের জন্য? যদি ‘আরাকান ড্রিম’ সত্যিই আন্তরিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়, তাহলে আরাকান আর্মি অবশ্যই রোহিঙ্গা এবং আমাদের স্বদেশের অন্যান্য জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ বন্ধ করতে হবে এবং একসঙ্গে একটি শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। কিন্তু আরাকান আর্মি তা করছে না। বরং রোহিঙ্গা বেসামরিক লোকদের ওপর তার নৃশংসতা বাড়িয়ে তুলছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে এবং রোহিঙ্গাদের তাদের প্রকৃত পরিচয় আরাকানের স্থানীয় জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করছে। গত কয়েকদিন কিছুটা শান্ত ছিল সীমান্ত। তবে গতরাতে ফের নাকি বিকট বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায় কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, নাফ নদের তীরবর্তী শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দারা এই আওয়াজ শুনতে পান। দাবি করা হচ্ছে, রাত ২টো নাগাদ প্রায় আট থেকে দশ রাউন্ড গুলি চলার আওয়াজ পাওয়া যায় সীমান্তের ওপার থেকে। এছাড়াও মর্টারের আওয়াজও নাকি পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এরই মাধ্যে সামাজিক মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, টেকনাফ এবং বান্দরবনের বেশ কিছুটা অংশ হয়ত আরাকান আর্মি দখল করে নিয়ে থাকতে পারে। যদিও বাংলাদেশ সরকার এই নিয়ে কোনও মন্তব্য এখনও করেনি। এছাড়া বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আরাকান আর্মি পা রেখেছে বলে কোনও পোক্ত প্রমাণও পাওয়া যায়নি এখনও। উল্লেখ্য, বর্তমানে রাখাইন প্রদেশের সিংহভাগটাই আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। এই রাখাইন প্রদেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের ২৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনানুষ্ঠানিকভাবে আরাকান আর্মির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার সম্পর্ক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বাংলাদেশের বৈদেশিক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। এদিকে গত ২০১৭ সাল থেকে এই বছর মংডু দখলের আগে পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছিল মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে। বর্তমানে বাংলাদেশের ৩৩টি শিবিরে মোট ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করে বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে থাকে। এরই মাঝে অভিযোগ উঠেছে, মংডু শহর দখলের পর থেকেই রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার শুরু করেছে আরাকান আর্মির সদস্যরা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post