বিগত কয়েকদিনে দেখা গিয়েছে, জাতি সংঘের সঙ্গে ভারতবর্ষের দূরত্ব বেড়েছে। কারণ বিভিন্ন সময় পাকিস্তানকে তোল্লাই দিয়েছে জাতি সংঘ। এমনকি তাদের মঞ্চকে ব্যবহার করে নানা মন্তব্য করেছে পাকিস্তান। এইবার সেই আবহে ভারতের বিদেশমন্ত্রীকে ফোন করলেন জাতি সংঘের প্রধান অ্যান্টোনিও গুতেরেস। কিন্তু হঠাৎ কেন তিনি ফোন করলেন? উঠছে প্রশ্ন।
সম্প্রতি পাকিস্তান একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। যেখানে তারা মনে করছে, ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই ভারত পাকিস্তানকে আক্রমণ করতে পারে। তারা ভারতকে ভয় পাচ্ছে। ভারতীয় সেনাকে ভয় পাচ্ছে। কিন্তু এটা কোথাও ভারতের তরফে বলা হয়নি। এই খবর পাকিস্থানের কাছে এসেছে পাকিস্তান ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে। আর সেই আবহেই ভারতের বিদেশ মন্ত্রীকে ফোন করলেন জাতিসংঘের প্রধান। সূত্রের খবর, জাতি সংঘ এই মুহূর্তে যুদ্ধ চাইছে না। শুধু ভারতের বিদেশমন্ত্রী নয় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়। এখানেই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতিসংঘ যুদ্ধ চাইলো বা চাইল না, সেটাতে ভারতের কিছুতে যায় আসে না। কেউ কেউ বলছেন, জাতিসংঘ পাকিস্তানের মুখপাত্র হয়ে কাজ করছে। যখন কাশ্মীরের এই ভয়াবহ ঘটনায় পৃথিবীর সমস্ত দেশ ভারতের পাশে, এবং পাকিস্তানের পাশে যখন কেউ নেই, তখনই আসরে নেমেছে জাতিসংঘ। অনেকে বলছেন, এই বিশ্বে আরও কয়েকটি যুদ্ধ চলছে। কিন্তু সেই যুদ্ধ থামানোর জন্য কোন ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে না জাতিসংঘের। তবে ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধ নিয়ে এত মাথা ঘামাচ্ছে কেন জাতিসংঘ? ভারতের বিদেশ মন্ত্রী কে ফোন করার পর জাতিসংঘ একটি বিবৃতি দেয়। সেখানে লেখা হয়, জঙ্গি হামলার ঘটনা কখনোই কাম্য নয়। কিন্তু এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত এমন কোনও পদক্ষেপ যাতে না করে তার জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর তরফে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে এই বিষয়ে। সেখানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহাবাজ শরীফ বেশ কিছু বক্তব্য রেখেছেন। তিনি লেখেন, জম্মু এবং কাশ্মীরের সমস্যার সমাধান নিয়ে আরও একবার অনুরোধ জানিয়েছেন জাতিসংঘকে। আমরা শান্তির জন্য দায়বদ্ধ। আমরা আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তি চাই। কিন্তু কেউ যদি আমাদের উপর আক্রমণ হানে, তবে তার পাল্টা জবাব আমরা দেব। তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একটি বিবৃতি। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন, আমরা প্রতিবাদ করব। এবং এর পিছনে যারা মদত যুগিয়েছে, তাদের আমরা ছাড়বো না এবং এর বিচার করব।
পহেল গাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ক্ষোভে ফুসছে গোটা দেশ। এমনকি করা প্রত্যাঘাত। শুধু তাই নয়, ভারতের তরফে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এমনকি আরব সাগরে নৌমহড়া করছে ভারত। যেখানেই কাঁধের যুদ্ধাস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে সেগুলি কিভাবে কতটা শক্তিশালী হিসাবে কাজ করে, সেটাই দেখা হয়। খবর, এতেই ভয় পেয়েছে পাকিস্তান। আর সেই ভয় থেকেই জাতি সংঘ ফোন করল ভারতের বিদেশমন্ত্রীকে। এখন দেখার, শেষমেশ ভারতের পদক্ষেপ কি হয়!












Discussion about this post