পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ভারতের উপর লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত একটা হামলাও ভারতের মাটিতে এসে পড়েনি। তার আগে আকাশেই পাক ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ধ্বংস করেছে ভারতের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। অপরদিকে, ৭ মে পহেলগাঁও হামলার বদলা হিসেবে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের ৯টি স্থানে মোট ২১টি জঙ্গিঘাঁটিতে একযোগে হামলা চালায়। কার্যত বিনা বাঁধায় ভারতীয় ড্রোন ও মিসাইল পাকিস্তানের মাটিতে চলা একের পর এক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়। যার মধ্যে বাওয়ালপুরের লস্কর হে়ডকোয়ার্টারের দূরত্ব আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অর্থাৎ ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ১০০ কিলোমিটার ঢুকে পড়লেও পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স টেরও পেল না। যা নিয়ে এখন গোটা বিশ্বই হাসাহাসি করছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে তাঁরই দেশের একজন সংসদ সদস্য “কাপুরুষ” বলে তিরস্কার করলেন। পাক সংসদে দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্য ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী একজন কাপুরুষ, তিনি নরেন্দ্র মোদীর নামও নিতে পারেন না”।
এর আগে তাহির ইকবাল নামে আরেকজন পাকিস্তানের সাংসদ সদস্য ভারতীয় হামলার উপর কথা বলার সময় তার কণ্ঠস্বর কাঁপতে থাকে এবং কেঁদে ফেলেন। তাঁর অঙ্গভঙ্গিতে ভয় ও আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট ছিল। তিনি বলতে থাকেন, “আমি প্রার্থনা করি আল্লাহ যেন পাকিস্তানিদের রক্ষা করেন।”
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ সরীফ কোথায় গেলেন, পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনীরকেই বা কেন প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না? শুক্রবার সকাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় রটে গিয়েছিল পাক সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনীরকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও এই খবরের সত্যতা পাওয়া যায়নি এখনও। তবে বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এটা হতেই পারে। পাকিস্তানে সবই সম্ভব। তাঁরা বলছেন, পাক সেনাপ্রধানের জনপ্রিয়তা দ্রুত কমছিল। বিশেষ করে পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের গ্রেফতার নিয়ে পাকিস্তানের একটা বড় অংশের মানুষ ক্ষেপে রয়েছেন। পাক সরকার যা দমন করে রেখেছে গায়ের জোরে। উল্লেখ্য, ৮ মে পাকিস্তানে মিছিল করে ইমরান খানের সমর্থকরা। সেখানে ইমরান খানের মুক্তির দাবি নতুন করে তোলা হয়েছে। কিন্তু আসিম মুনীর যে গ্রেফতার হয়েছেন বা তাঁকে আটক করা হয়েছে এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। যদিও ভারত-পাক সংঘর্ষে প্রতি পদে মার খাচ্ছে পাকিস্তান সেনা। ফলে ক্ষোভ বাড়ছিল। কিন্তু পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায়ের ফলে পাক সেনাপ্রধানের ক্ষমতা এখন আগের চেয়েও অনেকটাই বেড়ে গেল। ৭ মে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানায়, সেনা আদালতেও পাক নাগরিকদের বিচার চলতে পারবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফল মারাত্মক হতে পারে। কারণ গত বছরের ৯ মে ইমরান খানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার প্রতিবাদে কিছু সামরিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই কর্মী-সমর্থকরা। এবার সেনা আদালতে তাদের বিচার শুরু হতে পারে। আবার বালোচিস্তান ও খাইবার-পাখতুনখাওয়াতে সেনার নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে। এবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে মিলিটারি কোর্টে সেই দমননীতিকে আরও জোরদার করতে সাহায্য করবে বলে মত কূটনীতিকদের।












Discussion about this post