ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের অবহে গোটা জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্ত জুড়ে চলছে ভারী গোলাবর্ষণ। প্রসঙ্গত গত ১০-১১ দিনের বেশি সময় ধরে পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে চলেছে পাকিস্তান। যার জবাব দিচ্ছে ভারতও। সামরিক বিশেষজ্ঞরা দাবি করছিলেন, এলওসি জুড়ে এই ভারী গোলাবর্ষণের পিছনে পাকিস্তানের দুটি কারণ থাকতে পারে। এক, জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ করানোর পুরোনো ছক আর দুই হল বসতি এলাকায় গোলাগুলি ছুঁড়ে একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং সাধারণ মানুষদের টার্গেট করা। যাতে ভারতের অভ্যন্তরে একটা যুদ্ধবিরোধী ভাবধারা তৈরি করা যায়। বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম চেষ্টাটাই করল পাকিস্তান। জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্বা সেক্টরের আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানি জঙ্গিরা ভারতে ঢোকার চেষ্টা করছিল বলে জানা গিয়েছে। আর এই জঙ্গি অনুপ্রবেশ রুখতে সেনাকে প্রয়োজন হল না ভারতের। সীমান্তরক্ষী বাহিনীই সেই চেষ্টা রুখে দিয়ে সাত জঙ্গিকে নিকেশ করেছে বলে দাবি। পাশাপাশি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের এক সীমান্ত পোস্ট। বিএসএফের তরফে ওই সময়ের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।
অপারেশন সিঁদুরে এবার ভারতীস সেনার পাশাপাশি ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ে নেমেছে। উল্লেখ্য, আগে থেকেই যেমন জম্মু ও কাশ্মীর, রাজস্থান, পঞ্জাবের পাক সীমান্তে বিএসএফ মোতায়েন ছিল। এখনও সীমান্ত পাহাড়ায় বিএসএফ রয়েছে। বিএসএফের তরফে জানানো হয়েছে, ৮ এবং ৯ তারিখের মধ্যবর্তী রাতে গোপন সূত্রে জঙ্গি অনুপ্রবেশের খবর মেলে। তখনই সীমান্তরক্ষীরা সাম্বা সীমান্তের কাছে কিছু সন্দেহভাজন গতিবিধি টের পায়। সাম্বা সেক্টর দিয়ে জঙ্গিদের একটি বড় দল অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল। সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে বিএসএফ জওয়ানরা। শুরু হয় ভারী গোলাবর্ষণ। তাতেই গুঁড়িয়ে যায় পাক সীমান্তরক্ষীবাহিনী বা রেঞ্জার্সদের একটি আউটপোস্ট। গোলাগুলিতে মারা গিয়েছে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা সাত জঙ্গি। তবে ওই আউটপোস্টে কোনও পাক জওয়ান ছিল কিনা জানা যায়নি। সেই ভিডিও করে রাখে বিএসএফ, যা তাঁরা পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে।
উল্লেথ্য, পহলগাম কাণ্ডের পর থেকে সীমান্ত ও পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে চুক্তি লঙ্ঘন করে গোলা বর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে পাক সেনা। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, যখনই ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঘটানোর চেষ্টা হয়, তখনই প্রবল গোলাগুলি ছুড়তে শুরু করে পাকিস্তান। এখনও সেই ঘটনা চলছে বলে সীমান্তে অত্যন্ত সজাগ রয়েছে বিএসএফ। ফলে সাম্বা সেক্টরে সেই চেষ্টা রুখে সাত জঙ্গি নিকেশ করতে সক্ষম হল বিএসএফ।
অপরদিকে এলওসি এলাকায় পাকিস্তানের আর্টিলারি ফায়ারিংয়ের মূল টার্গেট থাকছে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলি। মূলত, উড়ি, পুঞ্চ, রাজৌরি সেক্টরে অতি ভারী গোলাবর্ষণ চালাচ্ছে পাক বাহিনী। ভারতও তার জবাব দিয়ে চলেছে পূর্ণ মাত্রায়। কাশ্মীরের বিভিন্ন সেক্টরে এখনও পর্যন্ত ১৫ থেকে ১৬ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। ইতিমধ্যেই সাবধানতা অবলম্বন করে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলি খালি করে দিয়েছে ভারতীয় সুরক্ষাবাহিনী। ইতমধ্যেই আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সজাগ আছে বিএসএফ, ভারতীয় সেনা এবং স্থানীয় পুলিশ। গুজরাট থেকে শুরু করে রাজস্থান, পঞ্জাব, জম্মু ও কাশ্মীরের দীর্ঘ সীমান্তে যতগুলি গ্রাম আছে সবগুলি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীদের যাতে প্রাণহানী না হয়, সে দিকে বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাতেও রাজস্থানের জয়সলমিরে পাকিস্তান মিসাইল হামলা চালিয়েছে। ভারতের এয়ার ডিভেন্স সিস্টেম সেই হামলা পুরোপুরি বানচাল করেছে। একটিও ক্ষেপণাস্ত্র মাটিতে এসে পড়েনি। পাশাপাশি অসমর্থিত সূত্রে জানা যাচ্ছে, পাকিস্তানের একটি ফাইটার জেটও জয়সলমিরের অদূরে ভূপতিত হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে তা কোনও পক্ষই স্বীকার করেনি। ফলে একদিকে ভারতীয় সেনা, অন্যদিকে আধা সেনা অর্থাৎ বিএসএফ, সিআরপিএফ, আইটিবিপি পাকিস্তান সীমান্তে দাপিয়ে কাজ করে চলেছে।












Discussion about this post