সম্প্রতি ভারতের তরফ থেকে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে স্পষ্ট জানানো হয় পাকিস্তানের তরফে ভারতের বিরুদ্ধে যে ৩০০ থেকে ৪০০ টি ড্রোন আক্রমণ করা হয় তার অধিকাংশ ড্রোনই তুরস্ক থেকে আমদানিকৃত। ভারত পাকিস্তান সংঘাতিক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আবহে সামনে এসেছে তো যে তথ্য সেখানে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে তুরস্ক এই ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পক্ষে গিয়েই নিজের অবস্থান স্থির করেছে। তবে এদিনের প্রেস কনফারেন্সে ভারতের তরফে কী দাবী করা হয়েছে শুনুন,,
বেশ কিছুদিন আগেই দেখা গিয়েছিল করাচি বন্দরে,একে পর এক যুদ্ধাস্ত্র বোঝাই জাহাজ তুরস্ক পাকিস্তানে পাঠাচ্ছে। শুরুতে তুরস্ক এই ধরনের তথ্যকে মিথ্যে বলে অভিহিত করলেও পরবর্তীকালে তুরস্ক পাকিস্তানকে সমর্থন জানাতে যেমন কিছু হতে নেই তেমনই প্রকাশ্যে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে মদত দিয়ে গিয়েছে পাকিস্তান। এবং যখন দেখা গেল ভারত অপারেশন সিদুরের মাধ্যমে পরপর নটি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছে, তখন পাকিস্তানের পাশে গিয়ে যে দেশটি দাঁড়িয়েছে সেটি হল তুরষ্ক। তুরস্কের তরফে জানানো হয় এই ধরনের অভিযান পাকিস্তানের সর্বভৌমত্বকে বিপন্ন করবে এবং এটি একেবারেই অপ্রত্যাশিত। অর্থাৎ তুরস্ক এই এমন একটি দেশ যে শুরুর থেকে পাকিস্তানের পক্ষে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
কারণ চীন পাকিস্তানকে সমর্থন করলেও সেটা প্রকাশ্যে নয়। আবার প্রকাশ্যে চীনকে পাকিস্তানের বিরোধিতা করতেও দেখা যায়নি কারণ চীনের পরিকল্পনা খানিকটা ছায়া যুদ্ধের সমান। কিন্তু তুরস্ক যে দেশটি জাতিসংঘ, মানবাধিকার কমিশন, সিকিউরিটি কাউন্সিল এমনকি অস্ত্র দিয়ে পাকিস্তানকে সাহায্য করেছে।
আর ঠিক এই কারণেই ভারতে তুরস্কের বিরুদ্ধে বয়কটের দাবি তোলা হয়েছে।কোথাও দেখা যাচ্ছে বয়কট তুরস্ক আবার কোথাও বয়কট আজারবাইজান এই ধরনের বিভিন্ন স্লোগান উঠে এসেছে ভারতে। প্রকৃত অর্থে কি কারনে তুরস্ককে বয়কটের ডাক ভারতের? এবং প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে সমর্থন করে তুরস্ক যেভাবে ভারতকে চাপে থাকার চেষ্টা করল তাতে তুরস্ক কতটা বিপদে পড়লো এখন সেটাই সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক বিষয়।
তবে তুরষ্কের পূর্ণ সমর্থন ও শক্তিশালী যুদ্ধাস্ত্র প্রদানের পরও পাকিস্তান কেন ভারতের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারছে না? ভারতের আক্রমণে ছারখার হচ্ছে পাকিস্তান, অথচ তাঁদের একটা আক্রমণও সফল হচ্ছে না! কেন এই হাল পাকিস্তানের? উত্তরটা লুকিয়ে আছে অস্ত্র আমদানিতে। আসলে পাকিস্তান সিংহভাগ অস্ত্র কেনে চিন থেকে। যা সস্তা ও ইউজ এন্ড থ্রো বলে পরিচিত। তাই চিনা এয়ার ডিফেন্স ভেদ করে ভারত অনায়াসে নির্ভুল আক্রমণ করে চলেছে ভারত। কারণ ভারত অস্ত্র কেনে রাশিয়া, ইজরায়েল, ফ্রান্স ও আমেরিকার মতো দেশ থেকে। আবার ভারতও এখন অস্ত্র তৈরিতে আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে। এখানেই বাজিমাত করছে নয়া দিল্লি। আর ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে ইসলামবাদ।
২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে রফতানি করা হাতিয়ারের ৬০ শতাংশই পাকিস্তানকে সরবরাহ করে চিন। সেই তালিকায় রয়েছে জেএফ-১৭ লড়াকু জেট এবং এইচকিউ-৯পি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো হাতিয়ার। গত ৭ মে থেকে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধলে ইসলামাবাদের দু’টি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে ভারতীয় সেনা। যা চিন থেকে কিনেছিল পাকিস্তান। অন্যদিকে লাহোরে ড্রোন হামলা চালিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয় চিনা এইচকিউ-৯পি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সবমিলিয়ে চিনের অস্ত্র, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যে কতটা ঠুনকো সেটাই প্রমান করে দিল ভারত। পাকিস্তান আর্মির জনসংযোগ বিভাগের ডিজি স্বীকার করেছেন তাঁদের দুটি চিনা জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। জানা যাচ্ছে যা নিয়ে ক্ষুব্ধ বেজিং। কারণ পাকিস্তান চিনের যুদ্ধবিমানের নাম নেওয়ায় তাঁদের মুখ চুন হল। কিন্তু বিগত দুই দিন ধরে ভারত বারে বারে পাকিস্তানে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করছে ক্ষয়ক্ষতিও হচ্ছে ব্যাপক। সেই খবর গোটা বিশ্বেই প্রচার হচ্ছে। এতেও চিনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে দাবি প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের। অন্যদিকে শুক্রবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করা হল, পাকিস্তান বৃহস্পতিবার রাতে অন্তত চারশো ড্রোন হামলা চালায়। যেগুলি তুরস্ক থেকে কেনা বলেই দাবি ভারতের। উল্লেখ্য, এই তুরস্কের ড্রোন বাংলাদেশের হাতেও আছে। যার কয়েকটি গুলি করে নামিয়েছিল ভারত। এবার পাকিস্তানও একই ড্রোন ব্যবহার করে ভারতের কাছে ফের মার খেলো। কিন্তু এদিন ভারত সরাসরি তুরস্কের নাম নেওয়ায় চাপে পড়লো ইউরোপিয় দেশটি।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ভারতের ৩৬ টি জায়গায় হামলার ছক কষে ছিল পাকিস্তান কিন্তু ভারতীয় সেনা পাকিস্তানের চেষ্টা ব্যর্থ করেছে। পাল্টা হামলায় সবাই ভারতের তরফে পাকিস্তানের একাধিক শহর ক্ষত বিক্ষত করে দেওয়া হয়েছে।অর্থাৎ পাকিস্তানের কাছে চীনের ডিফেন্স সিস্টেম এবং তুরস্কের শক্তিশালী ড্রোন থাকা সত্ত্বেও ভারতের ডিফেন্স সিস্টেমের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারল না পাকিস্তান। এই বিষয়টি যেন দুই দেশের সামরিক সক্ষমতার প্রসঙ্গ থেকে আরও একবার উসকে দিচ্ছে।












Discussion about this post