হঠাৎই বাংলাদেশে সেনাপ্রধানের তৎপরতা! কিন্তু বর্তমানে আদৌ কি বাংলাদেশের মানুষ সেনাপ্রধানের তৎপরতা নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী? কারণ দেখা গিয়েছে দেশের ক্রান্তি ঘাটে যখন চারিদিকে একের পর এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে গিয়েছে তখন সাধারণ মানুষ চাতক পাখির মত সেনাপ্রধানের দিকেই আশা নিয়ে তাকিয়ে ছিলেন! কিন্তু এখন আর সেই আশা নেই, সাধারণ মানুষ আর বিশ্বাস করেন না, যে এই সেনাপ্রধান দেশের এই ক্রান্তি কাল থেকে দেশকে উদ্ধার করে একটি সুন্দর দেশ উপহার দেবে।
একইভাবে বিশেষজ্ঞদের দাবি গত বছর জুলাই আন্দোলনে সরকার পতনের সময় যদি সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধান সেই আন্দোলনে বাধা হয়ে দাঁড়াতেন তাহলে হয়তো আজ বাংলাদেশকে এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হতো না। সেই সময় থেকে সেনাবাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাসহীনতা, আস্থা হীনতা, বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় রয়েছে। কিন্তু সেই সময়ের পর থেকেও বিভিন্ন মহল ও সাধারণ মানুষ হোক সেনাবাহিনীর উপর আস্থা রেখেছিল দেশকে সংকট থেকে উদ্ধার করার বিষয়ে। কিন্তু যখন বৈশ্বিক কোন চাপ আসবে তখন হয়তো সেনাপ্রধান বা সেনাবাহিনীকে নড়েচড়ে বসতেই হবে। বাংলাদেশকে ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না বাংলাদেশ যেমন ছিল ঠিক তেমনি শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে গড়ে উঠবে এমন যদি কোন শক্তির তরফ থেকে নির্দেশ আসে তবে সেনাবাহিনীর বাধ্য সেই নির্দেশ মেনে দেশকে রক্ষা করতে। কিন্তু সেনাবাহিনীর নিজের ইচ্ছাতে এই ধরনের কোন কাজ করার প্রবণতা দেখা না যাওয়াতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে সেনাবাহিনীকে ঘিরে। কারণ প্রতিমুহূর্তে বাংলাদেশ জুড়ে দেখা দিয়েছে একের পর এক ঘটনা ঘটতে। যেমন ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় স্লোগান উঠেছে হাসনাত না ওয়াকার? আবার ক্যান্টনমেন্ট ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও এসেছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে তারপরেও টনক নড়েনি সেনাপ্রধানের। সেনাপ্রধান আবারও ম্যাজিস্ট্রেট পাওয়ার নিয়ে দুমাসের জন্য লড়াই এর মাঠে আছেন, কিন্তু আস্থা বা নিশ্চয়তা নেই সাধারণ মানুষের।
এর মাত্রই হঠাৎ করে সেনাপ্রধানের তৎপরতা শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ জুড়ে। কারণ গত ১০ই মে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে হঠাৎই হাজির হন সে দেশের প্রধান জেনারেল ওয়াকার জামান। তাতে বেশ কিছুটা চাপে পড়তে হয়েছিল সরকারের উপদেষ্টা মন্ডলীকে। এর পরে বলা হয় সেনাপ্রধান প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করবেন তিন বাহিনীর বার্তা আছে। এরপরই প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস এর সঙ্গে বৈঠকে বসেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। আর এই বৈঠকের পর সেনাপ্রধান বার্তা দিয়েছিলেন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা যাবে না। কিন্তু তারপরেও দেখা গেল উপদেষ্টা মন্ডলের এই বৈঠকের শেষে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান যতদিন না পর্যন্ত শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের সমস্ত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশ জুড়ে আওয়ামী লীগের সমস্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ করলো অন্তর্বর্তী সরকার। এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কি জানিয়েছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল শুনুন,,
সূত্র বলছে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরেও নানারকম ভাবে সেনাপ্রধান আওয়ামীলীগকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বাধা প্রদান করেছে। যদিও এগুলোর সত্যতা এখনো পর্যন্ত খতিয়ে দেখা হয়নি।
প্রসঙ্গত, একইভাবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে হঠাৎ সুর চড়িয়ে ছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার। এক অনুষ্ঠানে তিনি দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলে ওঠেন, “আই হ্যাড এনাফ, লাস্ট সেভেন অর এইট মান্থ আই হ্যাড এনাফ।” কি বলেছিলেন সেনাপ্রধান শুনুন এবার,,
নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যে যে হবে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। রাজনৈতিক দলগুলোকে সাবধান করেন তিনি। তবে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারের প্রভাব এখন আর ঠিকভাবে কাজ করছে না, তা মনে হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস যেভাবে চাইছেন, সেভাবেও যে হচ্ছেনা তা বারবার প্রমাণ করছে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আকস্মিক সিদ্ধান্ত এবং তার পরপরই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দলটির নিবন্ধন স্থগিতে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় এই প্রশ্নটিই বড় হয়ে উঠেছে, বাংলাদেশে ক্ষমতা তবে এখন কার হাতে?












Discussion about this post