ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ বিরতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ভারতের অন্দরে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে ইদানিং নানা কথা উঠে আসছে। আসলে কি চায় যুক্তরাষ্ট্র?
কোন সমীকরণ সাজাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?
ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকাপাকিভাবে মার্কিন মসনদে বসার পর অনেকে ভারতবাসীই পুলোকিত হচ্ছিলেন। নিসন্দেহে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বন্ধুত্ব রয়েছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন শুল্ক রাজনীতিতে নামল, তখন যে যে দেশগুলিকে তারা টার্গেট করেছে, তারমধ্যে ভারতও রয়েছে। ফলে ট্রাম্প বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বন্ধুত্ব রাখেন না, সেটা স্পষ্ট। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা প্রকট হয়েছিল। তাতে অবশ্য ট্রাম্প করা সুরেই বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় থাকলে এটা হতে দিতেন না। স্বভাবতই আওয়ামী লীগ সহ বহু মানুষের মনে করেছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর মোহাম্মদ ইউনূসের পতন ঘটবে। কিন্তু ট্রাম্পের নীতি মূলত বাণিজ্য। যে বা যারা তাকে বাণিজ্য বা ব্যবসা দেবে, তার সঙ্গেই বন্ধুত্ব করবে ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেটাই মূলত বুঝে গিয়েছেন মহম্মদ ইউনূস। সেই কারণেই তড়িঘড়ি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বন্ধু এবং তার অন্যতম এক উপদেষ্টা ইলন মাস্কের স্টয়েলিং কোম্পানিকে ইন্টারনেটের ব্যবসার ক্ষেত্রে একটা বড় অংশ ছেড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ ইউনূসের টার্গেট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হাতে রাখা। যাতে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারেন ইউনুস।
অন্যদিকে আরও একটি বিষয় ডোনাল্ড ট্রাম কে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে। ভারত পাকিস্তান সংঘর্ষ চলাকালীন আচমকাই শনিবার একটি বিবৃতি দিয়ে জানালেন, দুই দেশ সংঘর্ষ বিরতিতে যেতে রাজি হয়েছে। তারপরই দেখা গেল দিল্লি এবং ইসলামাবাদ থেকে বিজ্ঞপ্তি। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ থামানো ছিল না, এই উপমহাদেশে একটা খবরদারি করার জন্য সুযোগ হচ্ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যাতে তার প্রভাব তিনি দেখাতে পারেন। আর সেটা তিনি পেয়ে গেলেন। তবে ট্রাম্পের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ভারত পাকিস্তান নয়, উপমহাদেশ। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র চেয়ে ছিল বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ হাতিয়ে নিতে। কিন্তু শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকালে সেটা কোনোভাবেই হয়ে ওঠেনি। যাতে তারা খুব সহজেই টিমকে মোকাবিলা করতে পারে এবং এদিকে উদীয়মান শক্তি ভারতকেও দমিয়ে রাখতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ অবস্থানগত সুবিধা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও মার্কিন মুলক থাবা বসাতে পারেনি বাংলাদেশে। ফলে রাষ্ট্রসংঘকে সামনে রেখে বাংলাদেশকে করিডোর হিসাবে ব্যবহার করে আরাকান আর্মিকে মানবিক সহায়তা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অনেকেই বলছে এর মধ্যে দিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তির সেনার সঙ্গে মার্কিন সেনাও ঢুকে পড়বে। এবং তিনটি তারা মোকাবিলা করবে সঙ্গে ভারতকেও দমানোর চেষ্টা করবে।
এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি চলছে, তা নিয়ে অদ্ভুতভাবে যুক্তরাষ্ট্র নীরব রয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের এই মুহূর্তে প্রধান উপদেষ্টাকে দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেদের কার্যসিদ্ধি করতে পারছে। এখন অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার কার্যকলাপ করতে পারতেন না বাংলাদেশে। জো বাইডেন সরকার যেমন পারেনি, ট্রাম্পও পারতেন না। বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে রাখাইন প্রদেশে মানবিক সহায়তা পাঠানোর বিষয়টি অনেকটা ভেবে রাখা উচিত ছিল বাংলাদেশ সরকারের। পাশাপাশি সরকার যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আর চড়ানো উচিত ছিল বিএনপি বা অন্যান্য দলগুলির। আসলে বর্তমানে বাংলাদেশে এরা সবাই সরকারকে সহযোগিতা করে একসঙ্গে কাজ করছে। সরকারকে প্রশ্ন তোলার মতো তেমন কোনো সাহস দেখাতে পারছে না কেউই। এখন দেখার শেষমেষ কি পরিণতি হয় বাংলাদেশের।












Discussion about this post