আওয়ামী লীগের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারপর থেকেই প্রশ্ন উঠে আসছিল, এই বিষয়টি নিয়ে ভারত কি কোনও প্রতিক্রিয়া জানাবে? আদেও কি শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়াবে ভারত? যদি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে থাকে, তবে তার ভাষা কি হবে? আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ হয়ে যাবার পর থেকে কোন রাষ্ট্র এই নিয়ে কথা বলেনি। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ভারত এই বিষয়ে কথা বলে কতটা ঝুঁকি নেবে? কিন্তু ভারত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জাসওয়াল সাংবাদিক সম্মেলন করলে, তাকে আওয়ামী লীগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, উপযুক্ত কারণ ছাড়া আওয়ামী লীগের ওপর নিষিদ্ধ ঘোষণা উদ্বেগ জনক বিষয়। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যেভাবে খর্ব করা হচ্ছে রাজনৈতিক পরিষদ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে, তাতে ভারত উদ্বেগ বোধ করছে। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশের নির্বাচন করা যায়, তার পুনব্যক্ত করছে ভারত। এরপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এই উদ্বেগের কথা বলতে গিয়ে কি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করল ভারত?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আওয়ামী লীগের জন্য ভারত যতদূর করা সম্ভব, সেটাই করবে। এই প্রতিক্রিয়া অন্তত এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকলাপকে সমর্থন করে না ভারত, সেটাও একবার প্রমাণিত হল। অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখন ভারতের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। ভারত এর আগে বহুবার স্পষ্ট করে দিয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকার ছাড়া অস্থায়ী সরকারের সঙ্গে কোনও কাজ করবে না ভারত। ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদি থেকে শুরু করে অনেকের কথাতেই সেটা স্পষ্ট হয়েছে। এখানেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ভারত কেন শুধু আওয়ামী লীগের প্রতি এতটা পক্ষপাতিত্ব করছে? আসলে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে দেখা গিয়েছে সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারত হয়তো মনে করে, শেখ হাসিনার দল সরকারে থাকলে তবেই সুরক্ষিত থাকবে সীমান্তবর্তী এলাকা। আর সেই কারণেই হাসিনার দলের উপর এত ভরসা ভারতের। শেখ হাসিনা কতদিন ভারতের আশ্রয় থাকবেন, আওয়ামীলীগ কি নিষিদ্ধ হয়ে গেল, তাতে কি পদক্ষেপ করবে ভারত, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।












Discussion about this post