HEADER –
VO – বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, “পিপিলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে”। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে দেখলে এমনটাই মনে হতে পারে। তিনি নিজের পদ টিকিয়ে রাখতে এমন সব কর্মকাণ্ড করে চলেছেন, এমন সব মন্তব্য করে চলেছেন, তাতেই বোঝা যাচ্ছে তিনি কতটা মরিয়া। মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি অর্থনীতির অধ্যাপক এবং শান্তির নোবেলজয়ী এক ব্যক্তিত্ব। তিনি খুব ভালো করেই জানেন এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অর্থনীতির কি হাল। তবুও তিনি সেই বিষয়ে খুব একটা কাজকর্ম করছেন বলে মনে হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাঙ্কের কাছে ঋণ নেওয়াই তাঁর এক এবং একমাত্র লক্ষ্য। পাশাপাশি তিনি ইউরোপীয় কিছু দেশ এবং চিনের স্মরণাপন্ন হয়েছেন টাকা জোগাড় করতে। অথচ বাংলাদেশের যে পোশাক শিল্প বিশ্বের সেরা প্রথম তিনে ছিল, সেই শিল্পের এখন সবচেয়ে বেহাল দশা। গত বছরের ৯ আগস্ট বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই তিনি নিজের লক্ষ্যে অবিচল। সেটা হল ভারতের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্রমূলক কাজ করে যাওয়া। আসলে যে মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় এসেছেন, সেই ষড়যন্ত্র অনুযায়ী তাঁকে বাংলাদেশের ক্ষমতায় দীর্ঘদিন থাকতে হবে। কারণ, তিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নন। ফলে তিনি বা তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যা যা সিদ্ধান্ত নেবে তার জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করার দায় তাঁর থাকবে না। কিন্তু ভারত-সহ বিশ্বের কয়েকটি দেশ তাঁকে বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন করানোর চাপ দিচ্ছে। আর নির্বাচন হলে যদি ফের আওয়ামী লীগ জিতে যায়, তাহলে সেই মেটিকুলাস ডিজাইন বিফলে যাবে। এটাই এখন ভয় মুহাম্মদ ইউনূসের।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, মুহাম্মদ ইউনূস এখন চাইছেন দেশের রাষ্ট্রপতি হতে। শুনতে অবাক লাগলেও এর পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। মুহাম্মদ ইউনূস যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপ স্টেটের এক গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্ষমতায় এসেছেন এথন সেটা দিনের আলোর মতোই পরিস্কার। ওই ষড়যন্ত্রের আরেকটি অংশীদার ছিল পাকিস্তানের আইএসআই। কারণ শেখ হাসিনা এবং তাঁর দল আওয়ামী লীগ বরাবরই ভারত বন্ধু হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক স্বার্থে শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে অত্যন্ত সুসম্পর্ক রেখে চলতেন। যা বাংলাদেশের একটা বড় অংশ কখনই মেনে নিতে পারেনি। যেমন বিএনপি, যারা চিনপন্থী এবং জামায়তে ইসলামী, যারা পাকিস্তানপন্থী হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে, শেখ হাসিনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেকে দুরত্ব বজায় রাখতেন এবং চিনের সঙ্গে কেবলমাত্র বাণিজ্যিক সম্পর্ক রেখে চলতেন। যেটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিতে পারছিল না। পূর্বতন জো বাইডেন প্রশাসন শেখ হাসিনার কাছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ চেয়েছিলেন মার্কিন বেস তৈরির জন্য। কিন্তু তিনি তা দেননি। সেটাই শেষ পর্যন্ত তাঁর কাল হল। এক সাজানো গণঅভ্যুত্থানের নামে হাসিনাকে উৎখাত করা হল। তাঁর জায়গায় এলেন মুহাম্মদ ইউনূস। সারাজীবন বিদেশীদের তাবেদারী করা, বিদেশী পাসপোর্টধারী ধামাধরা লোকদের দিয়ে মুহাম্মদ ইউনুস তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাজালেন। তাঁর এবং সরকারের অংশীদারদের কোনও রাজনীতির পাঠ নেই, দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে কোনও সুস্পষ্ট ধারণা নেই এমনকি মাটির সাথে এদের কোনও যোগাযোগ নেই। তাঁরা কেবল এসেছেন নিজেদের আখেড় গোছাতে। কিন্তু বাইডেন প্রশাসন গিয়ে ট্রাম্পের প্র্শাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় আসতেই ব্যকফুটে চলে এসেছিলেন ইউনূস সাহেব। তাই তিনি চিনের স্মরণাপন্ন হলেন এবং ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে লাগাতার হুমকি দিতে শুরু করলেন। এর পিছনে যে চিনের মদত এবং উস্কানি আছে সেটা বলে দিতে হবে না। মঙ্গলবারই চট্টগ্রাম বন্দরের সম্প্রসারণের এক অনুষ্ঠানে গিয়ে ইউনূস ফের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে মন্তব্য করলেন।
ইউনূসের বক্তব্যে লক্ষ্য করে দেখবেন, তিনি সেভেন সিস্টার্স বা ভারতের সাত রাজ্যকে নিয়ে বলছেন অথচ ভারতের নাম পর্যন্ত নিচ্ছেন না। অর্থাৎ তিনি সেভেন সিস্টার্সকে ভারত থেকে আলাদা করেই দেখছেন। এটা ভারতকে একটা স্পষ্ট বার্তা। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, চিনের উস্কানিতে তিনি এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে চাইছেন যে একটা সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হোক। তাহলেই তিনি আরও কয়েকমাস ক্ষমতায় থেকে যেতে পারবেন। তিনি বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে সরিয়ে তাঁর তাঁবেদার কাউকে সেই পদে নিয়ে আসতে সচেষ্ট বলেও খবর। অর্থাৎ, ইউনূস সাহেব চাইছেন, নিজে রাষ্ট্রপতি হয়ে তাঁর অধীনে একটা মন্ত্রিসভা গঠন করে বাংলাদেশে রাজ করতে। এ ক্ষেত্রে তিনি সঙ্গে পাবেন জামাতকে এবং বিএনপিকে। একটা পুতুল সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর মাথার উপর জামাতের আমীর। বাংলাদেশের রাজনীতি এখন সেই দিকেই বইছে।












Discussion about this post