এই মুহূর্তে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীন রাশিয়া ও জাপানের পরই ভারতের স্থান। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে আগামী দু বছরের মধ্যে ভারত জাপানকেও টপকে প্রথম চার বা তিনে চলে আসতে পারে। এর পিছনে অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পের অধীনে একের পর এক বহুজাতিক সংস্থা ভারতেই তাদের উৎপাদন শুরু করতে চাইছে বা অনেকেই ইতিমধ্যে কারখানার সাপোর্ট করে ফেলেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে বিশ্বের প্রথম সারির ফোন নির্মাতা সংস্থা অ্যাপেল চিন থেকে তাদের কারখানা গুটিয়ে ভারতে আসার পরিকল্পনা সেরে ফেলেছে। আবার স্যামসাং ইতি মধ্যেই ভারত ভারত থেকে তাদের মোবাইল ফোন বা অন্যান্য সামগ্রী উৎপাদন করছে। এখানেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে শি জিংপিনের চিন। অন্যদিকে রয়েছে আরেক অর্থনৈতিক সুপার পাওয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের এই অগ্রগতিতে চিন্তিত ওয়াশিংটনও। তাই ভূ-রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই ভারতের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করতে পারলে ফায়দা নিজেদের। কূটনৈতিক মহান এর একাংশ মনে করছেন ভারতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা বা ভারতকে যুদ্ধবিগ্রহের দিকে ঠেলে দিয়ে অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছে চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর তাদের এই পরিকল্পনয় “শিখন্ডী” হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে।
পাকিস্তান প্রথম থেকেই ভারত বিরোধী। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের আঁতুড় ঘর যতই পাকিস্তান হোক না কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগী ইউরোপীয় দেশগুলি কোন সময় ইসলামবাদের দোষ দেখেনি। ফলে এফএটিএ-এর ধূসর তালিকায় নাম আসা বা কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার দোরগোড়ায় এলেও কোন এক অজ্ঞাত কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে বের করে নিয়ে এসেছে বারে বার। অন্যদিকে চিন, তারাও পাকিস্তানকে অন্ধভাবে ভরসা করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অর্থ সাহায্য করে গিয়েছে। পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তান ভারতকে অস্থিতিশীল করে তুলবে সন্ত্রাসবাদের শিকড় বিস্তার করে বা দশকের পর দশক ধরে ভারতের সঙ্গে ছায়া যুদ্ধ করে যাবে। তাতে আর যাই হোক ভারতের অর্থনীতি ঊর্ধ্বগতি পাবে না। এটাই যুক্তরাষ্ট্র বা চিনের কৌশল। কিন্তু নরেন্দ্র মোদির জমানায় ভারত জম্মু ও কাশ্মীরে কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন করে। একদিকে উন্নয়ন ও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ কাশ্মীরের মনোভাব বদলাতে শুরু করে। ৩৭০ ধারা বিলোপ এবং সেখানে সফলভাবে বিধানসভা নির্বাচন করানো পাকিস্তানের পরাজয় হিসেবেই দেখেছে চিন বা যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন ডিপ স্টেট তাই অন্য উপায় খুঁজতে থাকে, এবং তারা বাংলাদেশকে বেছে নেয় ভারতের অগ্রগতিকে বাধা দেওয়ার জন্য। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ভারত বন্ধু হিসেবে পরিচিত শেখ হাসিনা সরকারের পতন ছিল ভারতকে চাপে ফেলার কৌশল। বেজিংও একই কারণে বাংলাদেশকে ব্যবহার করতে চাইছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পালাবদল চিনের সামনে সেই সুযোগটা এনে দেয়। মুহাম্মদ ইউনূসকে তাই এখন চিন নিয়ন্ত্রণ করছে। যদিও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশে মাথা গলিয়েছে মিয়ানমারে রাখাইন মানবিক করিডর দেওয়ার আছিলায়।
“উই আর দ্য অনলি গার্জিয়ান অফ দ্য ওশান’, চিনের মাটিতে দাঁড়িয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের এই মন্তব্য নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে। সেই সঙ্গে তিনি ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়েও কার্যত হুমকি দিয়েছিলেন। চিন মুহাম্মদ ইউনূসকে বিশেষ বিমান পাঠিয়ে বেজিং উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল এবং রেড কার্পেট বিছিয়ে জামাই আদর করেছিল, নিশ্চয়ই আপনাদের সেসব কথা মনে আছে। এরমধ্যে গঙ্গা ও পদ্মা দিয়ে বহু জল গড়িয়ে গেলেও ইউনুস সাহেব পাল্টাননি। তিনি ফের ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দরে এক অনুষ্ঠানে তিনি বারে বারে ভারতের সেভেন সিস্টার্সের অর্থনৈতিক উন্নতির রূপরেখা বাতলে দেওয়ার প্রচেষ্টা করলেন।
কূটনৈতিক মহলের দাবি, মুহাম্মদ ইউনূস আসলে বেজিংয়ের মুখের কথাই বলছেন। বেজিং চাইছে, ভারতকে যতটা অস্থির রাখা যায় বা যুদ্ধের মধ্যে রাখা যায় ততটাই তাঁদের লাভ। ভারত পাক যুদ্ধ আচমকা থেমে যাওয়ায় প্রবল ক্ষতির মুখে পড়েছে চিন। এর অনেকগুলি দিক আছে। চিন চেয়েছিল, যুদ্ধ একমাস বা তার বেশি ধরে চললে যে বিনিয়োগ চিন থেকে ভারতে চলে আসছিল তারা আবার চিনেই ফিরে যাবে। এক মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চললে অর্থনৈতিকভাবে ভারত অনেকটাই পিছনে চলে যাবে। তিন ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির ভারত এখন বেজিংয়ের ঘাড়ে নিঃশাস ফেলছে। তাই যেন তেন প্রকারেন ভারতকে যুদ্ধের মধ্যে আটকে রাখো। কিন্তু হিতে বিপরীত হল, বেজিংয়ের কল্পনাতেও আসেনি যে ভারত ৩-৪ দিনের মধ্যে পাকিস্তানের কোমর ভেঙে দেবে। পাকিস্তানকে নতজানু করতে বাধ্য করবে। চিনের তৈরি যুদ্ধাস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধুলিৎসাৎ করেছে ভারত। যা তাদের আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাজারে বদনাম হওয়ার জন্য যথেষ্ট। পাকিস্তান ব্যর্থ হওয়ার পর বেইজিং ভারতকে সরাসরি উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছিল মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে। ভারতও চিনের সরকারি মিডিয়া গ্লোবাল টাইমসকে ব্লক করে উপযুক্ত জবাব দিয়েছে। অন্যদিকে অরুণাচল প্রদেশের বেশ কয়েকটি জায়গার নাম পরিবর্তন করেও বেজিং ভারতকে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনুসকেও কাজে লাগিয়ে ভারতকে ক্রমাগত ক্ষিপ্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বেজিং।
কূটনৈতিক মহল ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশ মনে করছে এটাই সবচেয়ে ভালো সুযোগ ঝিঁকে মেরে বউকে শিক্ষা দেওয়ার। অর্থাৎ যে কায়দায় ভারত পাকিস্তানকে জব্দ করেছে ঠিক একই কায়দায় বাংলাদেশকে জব্দ করুক ভারত। নরেন্দ্র মোদির উচিত ভারতীয় সেনাবাহিনী কে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া, যাতে চট্টগ্রাম ও রংপুর ভারতের ম্যাপে ঢুকিয়ে নেওয়ার জন্য। যে চট্টগ্রামকে সামনে রেখে মুহাম্মদ ইউনূস ক্রমাগত ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে হুমকি দিয়ে চলেছেন সেই চট্টগ্রামই দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ খুঁজছে। এবার সময় এসেছে সেটা করার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখছেন এ কথা বলাই বাহুল্য।












Discussion about this post