বাংলাদেশের ক্যান্টনমেন্টে উত্তেজনার পর থেকে থমথমে পরিবেশ ক্যান্টনমেন্ট চত্বরে! সম্প্রতি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে তার পথ থেকে সরানোর জন্য প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস যে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল, তা নিয়ে এবার তৎপর সেনানিবাস। সরকারের এই পরিকল্পনাকে ঠেকাতে তড়িঘড়ি বাংলাদেশের তিন বাহিনীর প্রধান বৈঠকে বসেন এবং তারা সফল হন। কিন্তু এরপর থেকেই সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রপতি ভবনে সে দেশের রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়। এছাড়াও পাকিস্তানি এজেন্ট যারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কু করার চেষ্টা চালাচ্ছে সনাক্ত করতেও তৎপর তিন বাহিনী।
সেনাবাহিনীর তৎপরতা এখন কোন ঠাসা পাকিস্তানি পন্থী সংগঠন গুলি। মূলত দেখা গিয়েছিল বাংলাদেশ জুড়ে সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস ও তার উপদেষ্টা মহল একটি গভীর ষড়যন্ত্রের সব কষা ছিল। ১০ই জুলাই, জুলাই আন্দোলনের ঘোষণাপত্র এর মাধ্যমে সংবিধানকে মুছে দিয়ে রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান কে তাদের পথ থেকে সরিয়ে দিয়ে, দেশে অন্য ক্ষমতা স্থাপন করে অর্থাৎ জঙ্গি ক্ষমতা দেশজুড়ে বহাল রেখে বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করতে উদ্যত ছিল ইউনুস প্রশাসন।
কিন্তু ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আগেই রাষ্ট্রপতিকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। আর রাষ্ট্রপতি শুক্র সালে সেই চিঠির বার্তা সেনাপ্রধানের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এরপরে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান তৎপর হয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন এবং দেখা করে সু কৌশলে তারা প্রধান প্রতিষ্ঠার এই ষড়যন্ত্র কে প্রতিহত করতে সক্ষম হন। এরপরই ষড়যন্ত্রের অংশীদার হিসেবে কামরুল হাসানকে বরখাস্ত করা হয়। এবং তার অনুগামীদের হেফাজতে রাখা হয়েছে বলেই সূত্রের খবর।
উল্লেখ্য,গত বছর গণঅভ্যুত্থানের সময় সেনা প্রধান ও সেনাবাহিনীর নিরব ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যে নানা রকম প্রশ্ন উঠে এসেছে, কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন সেনাপ্রধান ক্ষমতা নিয়ে দেশে থাকতে চান নি। অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়ের কারণে নিষ্ক্রিয় থাকতে হয়েছে সেনাবাহিনীকে। কিন্তু যখন জুলাই আন্দোলনের সমস্ত পরিকল্পনা পূর্বপরিকল্পিত ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সেখানে সেনাপ্রধান একপ্রকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
উল্লেখ্য গত বছর জুলাই আন্দোলনে বাংলাদেশে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে জারি করা কারফিউ ভেঙে রাস্তায় বিপুলসংখ্যক জনতার নেমে আসার ঘটনায় প্রাণহানি এড়ানোর কৌশল নিয়েছিল সেনাবাহিনী। এমনকি বেসামরিক লোকজনের ওপর গুলি না চালানোর সিদ্ধান্ত নেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এরপরই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনে গিয়ে সেনাপ্রধান স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, তিনি দেশজুড়ে যে কারফিউ দিয়েছেন তা বাস্তবায়নে সৈন্যরা অপারগ।
সেইসময় তিনি শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন, সামরিক বাহিনী আর তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে আর সমর্থন দিতে পারবে না সেনাবাহিনী। সে সময়েই শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ সেই সময় সেনাবাহিনীর অক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মাধ্যমে।
তবে এই গণঅভ্যুত্থান ও সরকার পতনের বেশ কয়েক মাস পর অন্য রূপে দেখা গিয়েছিল সেনাপ্রধান ওয়াকারকে। ঢাকার একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে সেনাপ্রধান সরাসরি সেইসব মানুষকে সতর্ক করেন, যাঁরা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতায় ইন্ধন জোগানোর অপচেষ্টা করছেন এবং বিভাজন ও মেরুকরণের রাজনীতিতে শান দিচ্ছেন। এতে যে আখেরে দেশ এবং দেশবাসীরই ক্ষতি হবে, সেকথা স্পষ্ট ভাষায় বলতে দ্বিধা করেননি সেনাপ্রধান।
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে তাঁকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, ‘আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি। পরে বলবেন যে আমি সতর্ক করিনি! আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি, আপনারা যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি-কাটাকাটি করেন, এই দেশ এবং জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। আপনারা পরে বলবেননা যে আমি আপনাদের সতর্ক করিনি!’
হাসিনা সরকারের পতনের পর যেভাবে বাংলাদেশ কার্যত একটি অরাজকতার দেশে পরিণত হয়েছে, তাতে যে তিনি মোটেও খুশি নন, জেনারেলের মন্তব্যে তাঁর স্পষ্ট বার্তা পাওয়া গিয়েছে। সেই সময় সেনাপ্রধান এর বার্তা ছিল যে,তার একটাই আকাঙ্ক্ষা, দেশ এবং জাতিকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে ছুটি গ্রহণ করা।
অর্থাৎ এখন দেখার পাকিস্তানি পন্থী এজেন্ট ও তাদের মদত দাতা সরকার প্রধান যখন সেনাপ্রধান ও দেশের রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে নানারকম ষড়যন্ত্রের জাল বলছে, তখন সেনাপ্রধান তার কঠোর ভূমিকা অব্যাহত রেখে দেশকে সুস্থ স্বাভাবিক জায়গায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হয় কিনা।












Discussion about this post