থমথমে পরিবেশ ক্যান্টনমেন্ট জুড়ে!
বাংলাদেশে কী ঘটছে, কী ঘটতে চলেছে? দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধান কোন ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন? নানাবিধ প্রশ্ন জমা হয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আঙিনায়। এই আবহে দুটি ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি আন্ত বাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর বা ISPR এর তরফ থেকে একটি তথ্যচিত্র সেদেশের প্রত্যেকটি ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা হয়েছে এবং প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি ISPR এর তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে সেখানে বলা হয়েছে যে সমস্ত ক্যান্টনমেন্ট সেখানে সমস্ত রকম সভা সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ এই দুটি ঘটনা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এই তথ্যচিত্র গুলিকে স্বাভাবিকভাবে একটি সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকাণ্ডের উপর নির্মিত বলেই মনে হবে, আর এই ধরনের সশস্ত্র বাহিনী সংক্রান্ত তথ্যচিত্র এর আগে যে কেউ তৈরি করেনি তেমনটাও নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সবগুলো থেকেই এই তথ্য চিত্রগুলি কিছুটা হলেও ভিন্নধর্মী। কারণ, প্রথমেই এর শিরোনাম, আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। সে দেশের জাতীয় সংগীতের এই দুটি লাইন কে কেন্দ্র করে নতুন সংগীত তৈরি করা এছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকান্ড কে এ তথ্যচিত্রের মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন সময় দেখা যাচ্ছে দেশের জাতীয় সংগীতকে অপমান করা হচ্ছে বাংলাদেশে। কেউ যখন জাতিসংগীত পরিবেশন করছে তখন তাকে বিভিন্ন সংগঠনের দালাল বা এজেন্ট বলে অভিহিত করা হচ্ছে, তাদেরকে অপমান করা হচ্ছে তখন এই তথ্যচিত্রে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এ জাতীয় সঙ্গীতের দুটি লাইন ব্যবহার করাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন এই তথ্য চিত্রটি অত্যন্ত গতানুগতিক। কারণ বিগত বিভিন্ন পরিস্থিতিতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সশস্ত্র বাহিনীর যে ভূমিকা অর্থাৎ নিজেদের প্রাণকে বাজিয়ে রেখে বন্যায় দুর্গতদের উদ্ধারকার্য সম্পন্ন করা এবং উদ্ধার কার্যের পরে তাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া সবটাই এই তথ্যচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে এবং পাঁচ আগস্টে সেনা সদস্যরা যখন সাধারণ মানুষের কাতারে এসে দাঁড়িয়েছিলেন তারও বেশ কিছু দৃশ্য এই তথ্যচিত্রে তুলে আনা হয়েছে। পাঁচ আগস্ট অভ্যুত্থানের পর প্রথম যখন সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য রেখেছিলেন দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন সেই সময়ের বেশ কিছু দৃশ্য এ তথ্যচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে।
এবার বিভিন্ন মহলের প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এই ধরনের অংশগুলিকে তথ্যচিত্রায় তুলে ধরা হলো। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর ইস্যু বাংলাদেশে এখন, রাখাইন প্রদেশের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের মধ্যে দিয়েছে মানবিক করিডোর দেওয়ার বিষয়টি। আরে করিডোর দেওয়া হলে দেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব যে হুমকির মুখে পড়বে সেটাও সাধারণ মানুষ খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছেন। এবারের এই তথ্যচিত্রটিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, দেশের সংকটে সশস্ত্র বাহিনী যেভাবে দেশের নাগরিককে রক্ষা করার জন্য মহড়া চালিয়েছে সেই সমস্ত অংশই রয়েছে এই তথ্যচিত্রে। এবার মনে করা হচ্ছে এই তথ্যচিত্রের মাধ্যমে কি সেনাবাহিনীর মানবিক করে ধরে সহমত নয় সে বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে? সেইবার্তাই কি দেওয়া হল! দেশকে রক্ষা করতে সদা প্রস্তুত সেনাবাহিনী। তবে বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করলে এটা স্পষ্ট যে সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধান রাখাইন প্রদেশে মানবিক করিডোর প্রদানে কোনও ভাবেই সহমত পোষণ করবে না।












Discussion about this post