সরকার চালাতে ব্যর্থ অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ ইউনুস। নির্বাচন নিয়ে ক্রমশ চাপ সৃষ্টি হচ্ছে পদ্মাপাড়ে। দ্রুত ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা নিয়ে বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে। নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট বার্তা সেনাপ্রধানেরও। এদিকে, দেশের আর্থিক পরিস্থিতিও একেবারেই তোলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে। বাড়ছে খুন, ধর্ষণের মতো ঘটনা। আর সেই চাপে বিপর্যস্ত হয়েই নাকি পদত্যাগের কথা ভাবছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস? তবে আপাতত স্বপদে বহাল থাকছেন ইউনুস। কিন্তু কেন আবার সিদ্ধান্ত বদল প্রধান উপদেষ্টার? এটাও কি ক্ষমতা লোভী ইউনূসের নয়া রাজনৈতিক কৌশল?
পদত্যাগ করছেন না প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। গত দুদিন আগে থেকেই জোড়ালো হয়েছিল বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুসের পদত্যাগের জল্পনা। এই বিষয়েই আজ শনিবার উপদেষ্টা পরিষদের রুদ্ধদার বৈঠকে বসেন ইউনুস। কিন্তু আলোচনা শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়ে দিলেন, “প্রধান উপদেষ্টা আমাদের সঙ্গে থাকছেন। প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি পদত্যাগ করবেন না। অন্য উপদেষ্টারাও নিজ নিজ পদে বহাল থাকছেন।” ফলে প্রশ্ন উঠছে, ক্ষমতার সিংহাসন ধরে রাখতে এই পদত্যাগ জল্পনা কি ইউনুসের ষড়যন্ত্রের একটি অংশ?
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার থেকে প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের জল্পনায় চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে আজ দুপুরে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। সভাপতিত্বে ছিলেন স্বয়ং মহম্মদ ইউনুস। বৈঠক আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখী হন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা আমাদের সঙ্গে থাকছেন। উনি বলেননি পদত্যাগ করবেন। অন্য উপদেষ্টারাসহ প্রধান উপদেষ্টা সম্পদে নিয়োজিত থাকছেন। এখন আমাদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমরা সে দায়িত্ব পালন করতে এসেছি।”
প্রসঙ্গত, কিন্তু যতই ক্ষমতালোভী ইউনুস একের পর এক পরিকল্পনা করুক না কেন। বাংলাদেশকে একটি কট্টরপন্থী সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার পথ প্রশস্ত করার চেষ্টা করলে তাদের পরিস্থিতিও যে পাকিস্তানের মত হবে তা বারং বার ভারতের তরফে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে। পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের এই অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে। অজিত দোভালের পরবর্তী রাশিয়া সফরের মাধ্যমে ভারত রাশিয়ার কাছে পাকিস্তানের রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষিত সন্ত্রাসবাদের প্রমাণ তুলে ধরবে এবং এই বিষয়ে বৈশ্বিক ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করবে।
তবে বিভিন্ন মহলের দাবি, দেশ চালাতে ব্যর্থ ইউনুস সরকার। তিনি যে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন এখনও পর্যন্ত দশ মাস কেটে গেলেও তার কিছুই করতে পারেননি। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গেও ইউনুসের নেতিবাচক সম্পর্ক। ওয়াকারকে সরিয়ে নিজের পছন্দের সহযোগীকে সেনাপ্রধানের পদে বসাতে পরিকল্পিনা করেছিলেন ইউনুস। যা বুঝতে পেরে গিয়েছিলেন সেনাপ্রধান। তাই এবার সেনাপ্রধান ওয়াকারও দ্রুত নির্বাচন নিয়ে ইউনুসের উপর চাপ বাড়িয়েছেন। পথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপিও সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠন গুলি। ফলে দেশের দ্রুত নির্বাচন করিয়ে একটি স্থায়ী সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া ছাড়া এখন মোহাম্মাদ ইউনুছের সামনে আর কোন পথ খোলা নেই বললেই চলে।












Discussion about this post