বাংলাদেশের পোশাক নির্মাতারা আজ বিপর্যয়ের মুখে!
দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করে, বাংলাদেশ অন্তরবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুসের দাবী ছিল,আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিটি দেশ বাংলাদেশের শরণাপন্ন হবে, বাংলাদেশ কারোর কাছে মাথা নোয়াবে না। কিন্তু বাস্তব বলছে অন্য কথা। অন্তরবর্তী সরকারের শাসনকালে বাংলাদেশ আজ অসহায় পরিস্থিতিতে। আন্তর্জাতিক স্তরে কোণঠাসা ইউনূসের বাংলাদেশ। দেশজুড়ে অন্তর্দন্দ প্রকট হচ্ছে। সঙ্গে ভারতের কড়া চাপ, তবে কি যে কোন সময় দেশে সেনা শাসন জারি করে মোহাম্মদ ইউনুসকে দেশ ছাড়তে হবে?
সম্প্রতি,বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস পদত্যাগের হুমকি সামনে এনেছিলেন। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী সংস্কারের বিষয়ে একমত হতে ব্যর্থ। এখন অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর নির্বাচন নিয়ে চাপ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। অভিযোগ উঠছে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ইউনুসের সরকার আপস করেছে। সম্প্রতি কক্সবাজারে মার্কিন সেনার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে পাশাপাশি রাখাইন এর উদ্দেশ্যে মানবিক করিডোর নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে সেনাবাহিনীর সঙ্গে অন্তর্ভুক্তি সরকারের। এছাড়া সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিয়েও জোড় চর্চা দেশের অন্তরে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছিলেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আমেরিকা ঘাঁটি গড়তে চায়। এই আবহে এবার সেদেশের সেনা প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান এই নিয়ে ডেডলাইন নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এই আবহে বাংলাদেশে ফের একবার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক অস্থিরতা মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে । দেশের এই অস্থির পরিস্থিতিতে ফের শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
উল্লেখ্য,স্থলপথে বাংলাদেশি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে ভারত। আর এই এক সিদ্ধান্তেই কার্যত ভেঙে পড়ল ওপার বাংলার বস্ত্র বাণিজ্য শিল্প! সূত্রের খবর, ভারতে পোশাক রপ্তানি করতে না পেরে একপ্রকার বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে এদেশের পোশাক নির্মাতারা।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে,ভারতের এই কড়া নিষেধাজ্ঞার কারণে পরিস্থিতির বদল না হলে আগামী দু এক মাসের মধ্যেই বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ টেক্সটাইল ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করলেন সেদেশের টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন। পুরোপুরি ভেঙে পড়তে চলেছে বাংলাদেশের বাণিজ্য এর মূল ভিত্তি।
অন্যদিকে,ইউনুসের গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এবং এর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সংস্থাকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মোহাম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে।
গতবছর হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের মসনদে বসেছিলেন মহম্মদ ইউনুস। এরপর থেকে গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এবং এর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলি বিভিন্ন সুবিধা পেয়েছে, যে গুলি ন্যায্য সুবিধা নয় বলেই অভিযোগ । ঢাকায় মোঃ ইউনূসের অনুমোদনে তৈরি হয়েছে ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় । যেটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম অনুমোদন প্রাপ্ত নয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাঙ্কের কর মাফ করা হয়েছে ও সরকারিভাবে ব্যাঙ্কে শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এদিকে ইউনুসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড লাভজনক জনশক্তি রফতানির লাইসেন্স পায় বলে সূত্রের খবর। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সমস্ত ঘটনাগুলো নিয়ে বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে জোর চর্চা।
প্রসঙ্গত,গত বছর ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল। সরকারি চাকরি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সংরক্ষণ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছাত্ররা এই প্রতিবাদের আয়োজন করেছিল, যা পরে হিংসাত্মক সংঘর্ষে রূপ নেয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর সেনাবাহিনী একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে, সেই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে আসীন হন নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ডঃ মোঃ ইউনুস। তবে বর্তমান সময়ে যখন চারিদিকে অরাজকতার পরিস্থিতি, তখন দেশের সাধারণ মানুষের আস্থা ভরসা এখন দেশের সেনাবাহিনী। সাধারণ নাগরিকের তরফে সেনা কে দেশের দায়িত্ব হাতে তুলে নেওয়ার আর্জি জানানো হচ্ছে। তবে কি আবারো জনগণের রোষে পড়েই যেকোনো সময় দেশ ছাড়তে বাধ্য হবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস, যদিও তা সময়ই বলবে।












Discussion about this post