গত বছর ৫ই আগস্ট ভয়ঙ্কর পরিকল্পনার শিকার হয়ে ক্ষমতা্যত হয়ে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বর্তমানে অন্তরবর্তী সরকার ও সেনাপ্রধানের মধ্যে অন্তদ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। কিন্তু দেশে পালাবদলের পর যে সেনাবাহিনীর তৎপরতাতে অন্তর্ভুক্তির সরকার গঠন করা হলো এবং সেনাপ্রধানের তরফ থেকে সেই সময় স্পষ্ট জানানো হলো, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করা হবে। কিন্তু অন্তর্ভুক্তির সরকারের শাসনকালের কিছু মাস কাটতে না কাটতেই বিপরীত অবস্থান সেনাপ্রধানের। বারে বারে সেনাপ্রধানের বক্তব্যে উঠে এসেছে সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ। প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ করে কি এমন হলো যে দুই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির মধ্যে বড়সড় একটি ফাটল তৈরি হয়ে গেল?
অন্তরবর্তী সরকারের ১০ মাস কাটতে না কাটতেই সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর দূরত্ব ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে । শুরুতে অন্তর্বর্তী সরকারের ভিত্তি ছিল দেশের সেনা বাহিনী, গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দলের সমর্থন অসাধারণ নাগরিকের প্রত্যাশা।
প্রথম কয়েক মাস রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের একটা সমঝোতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করতেন।
তবে সময়ের সাথে সাথে দূরত্ব বাড়তে থাকে সরকার ও তার মূল ভিত্তি গুলির মধ্যে। গত বুধবার সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার–উজ–জামানের বক্তব্যে বোঝা গেল, সেনা বাহিনীর সঙ্গেও অন্তর্বর্তী সরকারের দূরত্ব প্রকট হচ্ছে। সেনাপ্রধান বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেনাবাহিনীকে অন্ধকারে রেখে।
আবার, বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে সেদেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির শীর্ষ নেতারা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন ও সরকারের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি বজায় রাখতে দুই ছাত্র উপদেষ্টা ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার অব্যাহতি দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ডিসেম্বরে নির্বাচন না হলে সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখা কঠিন হবে।
গত বুধবারই ইশরাক ইস্যুতে যখন বিএনপির নেতা–কর্মীরা আন্দোলন করছিলেন, তখন জাতীয় নাগরিক পার্টি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও সবার আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়ার দাবিতে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। তারা নির্বাচন কমিশনকে বিএনপির আজ্ঞাবহ হিসেবেও অভিহিত করে। এই কমিশন এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচন করেনি, এমনকি সীমানা নির্ধারণের কাজও শেষ হয়নি। তার আগেই কাউকে আজ্ঞাবহ বলা কতটা সমীচীন সেই প্রশ্নও আছে। আর কোন নির্বাচন আগে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সরকার এর, নির্বাচন কমিশন নয়। এনসিপি নেতারা সরকারের তিন উপদেষ্টাকে বিএনপির সমর্থক বলে তাঁদের পদত্যাগ দাবি করেছেন। অর্থাৎ সময় যত এগিয়েছে তত যেন দেখা গিয়েছে, অন্তরবর্তী সরকার ও ছাত্র নেতাদের রাজনৈতিক দল এনসিপির বিরুদ্ধে গিয়েছে দাঁড়িয়েছে একাধিক রাজনৈতিক দল । আর এই পরিস্থিটিতে নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহঃ ইউনুস নিশানা করেছেন সেনাপ্রধানকে। কারণ সেনাপ্রধানের পদত্যাগ ঘটলে, সেনাবাহিনীতে বড়সড় একটি বদল ঘটবে যার ফলে নিজের ক্ষমতা সেনাসক ধরে রাখতে পারবে ক্ষমতালোভী ইউনুস।












Discussion about this post