বিভিন্ন মাধ্যমের দাবি এবং বিএনপির সরাসরি দাবির পরেও, মোহাম্মদ ইউনুস তার সরকারের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, যার নাম নাগরিকত্ব ও ডিগ্রি সব নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, তাকে এখনো পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদ থেকে সরানোর বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোন বক্তব্য বা অবস্থান স্পষ্ট করেননি। এখানেই আসল প্রশ্ন মোহাম্মদ ইউনুস ও খলিলুর রহমান সরকারের অবস্থান করলে, সেনাপ্রধান কে দেশে থাকতে পারবেন?
বর্তমানে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী ও দেশের সরকার এখন বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। সেনাপ্রধান ও প্রধান উপদেষ্টার এই সংঘাতের জল্পনা যখন বেশ কিছুদিন ধরে জোরালো হওয়ার পরে গত বুধবার সেনাবাহিনীর জরুরী বৈঠকে যে বিষয়গুলি তুলে ধরেছেন সেনাপ্রধান। সেখানে চর্চা শুরু হয়েছে, তখন তোকে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে হয় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে মোঃ ইউনুস টিকে থাকতে পারবেন নাহলে সেনাবাহিনীতে শীর্ষ পদ গুলিতে বড়সড় কোন বদল আনতে হবে মোহাম্মদ ইউনুসকে। কারণ সেনাপ্রধানের দরবার অনুষ্ঠানে কি কি বিষয় আলোচনা হয়েছে সেগোটি নিয়ে শুরু থেকেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল তবে সেনা প্রধান সেখানে যে বক্তব্যগুলি রেখেছেন সেই বক্তব্য চলমান অবস্থাতেই বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যম সেনাপ্রধানের এই বার্তাগুলিকে সামনে এনেছিল অর্থাৎ এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে সেনাবাহিনী বা সেনাপ্রধান চেয়েছিলেন যে অন্তর্ভুক্তির সরকারকে নিয়ে সেনাবাহিনীর কি মতামত বা সরকারের ভূমিকা নিয়ে সেনাবাহিনীর কি ভাবমূর্তি তার সকলের সামনে খোলামেলা ভাবে স্পষ্ট করা হোক।
কিন্তু ২১ শে মে বুধবার সেনাপ্রধানের এই দরবারের আগেই ২০শে মে তিন বাহিনীর প্রধান বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ইউনূসের বাসভবন যমুনায় গিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়ে এসেছিলেন সামরিক বাহিনীকে অন্ধকারে রেখে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে খলিলুর রহমানকে নিয়োগ করার বিষয়টি ভালো চোখে দেখছে না বাংলাদেশে সেনাবাহিনী। জাতিনেরা পাতা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান সেনাবাহিনীতে বিভক্তি সৃষ্টি করে সেনাবাহিনীর একাংশকে কাজে লাগিয়ে রাখা এনে মানবিক সহায়তা করিডর দেওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন এবং সরকারও তাদেরকে প্রচ্ছন্ন মদত দিয়ে চলেছে।
তবে বাংলাদেশের সেনা বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা প্রতিনিয়ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে , ঠিক যেমন গত বছর, তেশরা আগস্ট এই সেনাবাহিনী ও সেনা প্রধানের নেতৃত্বে একটি দরবারের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে শেখ হাসিনার সরকারের নির্দেশমতো তারা কাজ করবে না, অর্থাৎ সেই সময় দেশজুড়ে যখন ছাত্র জনতার আন্দোলন চলছে সেই আন্দোলনে কোন ভূমিকা রাখবে না সেনাবাহিনী। আর এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করতে দেখা গিয়েছিল সেনাবাহিনীকে এর পরেই আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পতন হতে দেখা গেল শেখ হাসিনার সরকারকে।
উল্লেখ্য, এবার গত সপ্তাহেরসেনা সদর দফতরের ওই বৈঠকে সেনাপ্রধান জানান, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটপর্ব মিটিয়ে, আগামী বছর ১লা জানুয়ারির মধ্যে একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে চান তিনি এবং একটি নির্বাচিত সরকারের হাতেই দেশের দায়িত্ব তুলে দিয়ে সেনারা ব্যারাকে ফিরুক।
উল্লেখ্য এই বৈঠকের বিভিন্ন আলোচনার মাঝে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে দিয়েছে রাখাইনে মানবিক করিডোর দেওয়ার প্রসঙ্গ। এই পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের বিধ্বস্ত রাখাইন প্রদেশে ত্রাণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে করিডর হিসাবে ব্যবহারে সম্মতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে এত দিনের জমা আগ্নেয়গিরিতে যেন বিস্ফোরণ ঘটলো । ইউনূস সম্প্রতি মোহাম্মদ ইউনুস বিদেশ থেকে খলিলুর রহমান কে নিয়ে এসে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা করেছেন। এই কাজেও সেনাপ্রধানের সমর্থনের প্রয়োজন মনে করেনি প্রধান উপদেষ্টা। আর মোহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে অনির্বাচিত সরকার হিসেবে প্রকাশ্যে এনে তার এক্তিয়ার বুঝিয়ে দিয়ে দেশে নতুন শাসন চালু করার বার্তা দিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান।












Discussion about this post