মধ্য রাতেই চমকে দেওয়ার মতো একটি ঘটনা ঘটে গিয়েছে বাংলাদেশে। ঘটনাটি যে শুধু চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে তা নয়, দেশের রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়িয়েছে এই একটি ঘটনা। রাতে হঠাৎই সেনাপ্রধানের সঙ্গে জামায়াতের নেতাদের বৈঠক উত্তাপ ছড়ালো পদ্মাপাড়ের রাজনীতিতে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। জামাতের আমির ও নায়েবে আমির এ বৈঠকে অংশ নেন বলে সূত্রের খবর। কিন্তু হঠাৎ করে কি এমন হলো জামাতদের, যে সেনাপ্রধানের সঙ্গে জরুরী বৈঠক ডাকতে হলো? তবে কি বাংলাদেশে নতুন কিছু ঘটতে চলেছে? দেশের সেনার মত এই দলটিও কি সরকারের বিপরীতে? উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি কোন স্বাভাবিক ঘটনা নয়, একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মাঝেই এই বৈঠকটি সম্পন্ন হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই সে দেশের রাজনীতিতে টালমাটাল পরিস্থিতি চলছে এই প্রেক্ষিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি মোহাম্মদ ইউনুস এর সঙ্গে বৈঠক করেছে। যদি ওই বৈঠক থেকে কোন কোন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে সেই বিষয়ে স্পষ্ট কোন বার্তা এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। কিন্তু দেশের বাহ্যিক পরিস্থিতিরও যে কোন রকম উন্নতি হয়নি সেটা একেবারে স্পষ্ট। সচিবালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে যেভাবে আন্দোলন চলছে, তার প্রেক্ষিতেও সরকারের অবস্থান একেবারে অনড় রয়েছে। আবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তির সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস তিনি, নির্বাচন নিয়ে যে ডেডলাইন আগেই দিয়েছিলেন যে চলতি বছর ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে বাংলাদেশে পরবর্তী নির্বাচন হবে সেই অবস্থানেও অবিচল অন্তর্ভুক্তি সরকার। এর ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে।
সম্প্রতি এই প্রেক্ষিতে সেনা সদরের তরফ থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। ওই বিকৃতিতে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর সরকারের সঙ্গে কোন বিরোধ নেই তবে দেশের শান্তি স্থিতিশীলতা,সার্বভৌমত্ব ও করিডোর ইস্যুতে কোন আপোষ করা হবে না। অর্থাৎ সেনাবাহিনীর তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, বন্দর করিডোর সমস্ত বিষয়গুলিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র নির্বাচিত সরকারের। অর্থাৎ সরকারের সঙ্গে সেনাপ্রধানের কোন ব্যক্তিগত বিবাদ নেই তবে সেনাপ্রধান জানিয়েছেন ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের নির্বাচন করানোর ব্যবস্থা নিতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারকে এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে।
সেনাবাহিনী ও সরকারের মধ্যে দিয়ে যখন অন্তরদন্দ চলছে তখন জামাতের নেতারাও বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে নির্বাচন প্রসঙ্গে দেশের সংস্কার নিয়ে সড়কতা দেখা গেছে জামাতে ইসলামির নেতাদের। আর এই অবস্থায় গত শনিবার রাতে সেনানিবাসে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিলাম জামায়াতের শীর্ষ নেতারা।
এরপর সোমবার সংবাদমাধ্যমকে এই বৈঠক সম্পর্কে জামাত নেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আসলে এটা একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। আর সামগ্রিকভাবে বর্তমান পরিস্থিতির বিষয় কিছুটা আলোচনা হয়েছে।’
বর্তমান পরিস্থিতির কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে সেই প্রসঙ্গে জমাত নেতা জানিয়েছেন, সেনাপ্রধান বা সেনাবাহিনীর কারও সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিষয়ে আলোচনা হয়নি।
উল্লেখ্য যদিও এদিন সংবাদমাধ্যমকে নির্বাচন বা অন্যান্য রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনার বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয় রাজনৈতিক অঙ্গনে। প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের খবরে এই অস্থিরতা আরও ঘনীভূত হয়। এ প্রেক্ষাপটে সর্বদলীয় সংলাপের দাবি জানান জামায়াত আমির শফিকুর রহমান।
নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা স্থির করে দিতে কেন্দ্রীয় মজলিশে আলোচনা সভার আয়োজন করে জামায়াত। এই বৈঠকের পর,জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন নিয়ে যদি সরকারের বিপরীতে অবস্থান নেয় তবে কোন দিকে এগোয় বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ, তা সময়ই বলবে।












Discussion about this post