বাংলাদেশের রাজনীতির আঙ্গিনায় এখন নানা রকম জল্পনা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ঘিরে। এই আবহে সোমবার জামাত শীর্ষ নেতারা বৈঠক সারলেন সে দেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য স্পষ্ট না হলেও, উল্লেখযোগ্য ভাবে জানা গিয়েছে শনিবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পরেই জামাত নেতারা ছুটে গিয়েছে সেনা প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করতে। তবে এই বৈঠকে কি নিজে থেকেই উপস্থিত ছিলেন জামাত নেতারা? সবটাই কি পূর্বপরিকল্পিত? প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কি বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে তা জানানোর জন্য কি এই বৈঠক? নাকি সেনাপ্রধান তাদের ডেকেছিলেন বা এমন কি কোন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছিল যাতে জরুরী বৈঠক ডাকতে হলো জামাত নেতাদের? উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
শনিবার জামাতে ইসলামীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের আগে বিএনপির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস এর বৈঠক হয়। অর্থাৎ বিএনপি’র মনোভাব ও মহম্মদ ইউনুস কি বলছেন বৈঠকে সেখানে মধ্যস্থতা অবলম্বন করতে হয়েছিল জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের। তবে এই সংকটের সময় জামাত নেতৃত্ব অভিভাবকের মতো তাদের কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে। অর্থাৎ কোনরকম পক্ষে না গিয়ে সমঝতা খোঁজার চেষ্টা করে চলেছে। কিন্তু এরপর কি এমন বার্তা নিয়ে তারা সেনাবাহিনীতে বৈঠকে গেলেন। অর্থাৎ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপি’র বৈঠক এবং এরপর জামাতের বৈঠক। তবে এরপর বিএনপিকে বৈঠক করতে দেখা যায়নি সেনাপ্রধানের সঙ্গে। কিন্তু কি এমন ঘটল যে জামাত নেতাদের জরুরী বৈঠক ডাকতে হল সেনাপ্রধানের সঙ্গে? যদিও এর প্রকৃত উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।
এই বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে তাতে এইটুকু নিশ্চিত করা হয়েছে যে শনিবার রাতেই সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন জামাত শীর্ষ নেতারা। অর্থাৎ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পরেই ঐদিন রাতে সেনাপ্রধানের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন জামাত নেতারা। জামায়াতের আমির ও নায়েবে আমির দুজনে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পরে ই সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ তৈরি হয়েছে জামাত নেতাদের।
জামাতে ইসলামীর এই সাক্ষাতে আগ্রহ স্পষ্ট হলেও, তাদের প্রধান উদ্দেশ্য এখনো পর্যন্ত ধোঁয়াশায়। কিন্তু অনেকেই মনে করছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে গোটা বাংলাদেশ জুড়ে প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধানের মধ্যে একটি দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে যেটি অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক দু দিক থেকেই, তবে কি সেই দ্বন্দ্বের বিষয়েই সমঝোতা করতে সেনাপ্রধানের কাছে গিয়েছিলেন জামাত শীর্ষনেতারা। অর্থাৎ পরিস্থিতি যাতে বেগতিক না হয় বা এই সংঘাত তীব্রতর না হয় সেই বিষয় টিকেই নিশ্চিত করার নিরলস প্রচেষ্টা জামায়াতে ইসলামীর। জামাত নেতাদের মধ্যস্ততা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।












Discussion about this post