গত ২১ শে মে সেনাবাহিনীর অফিসার্স অ্যাড্রেসে সেনাপ্রধান সেনার সদস্যদের যে প্রশ্নের উত্তরগুলি দিয়েছিলেন সেগুলি তীব্র জল্পনা সৃষ্টি করেছে। তার মধ্যে যেমন রয়েছে দেশে দ্রুত নির্বাচন,করিডোর ইস্যু এবং মব তেমন উঠে এসেছে এক ভয়ঙ্কর প্রশ্ন। গত বছর জুলাই হত্যাকাণ্ডের রিপোর্ট পেশ করার আগে জাতিসংঘ সেনাবাহিনীর সঙ্গে কোনও আলোচনা করেনি কেন? উঠে এসেছিল এই প্রশ্ন। ওইদিন এই প্রশ্নে সেনাপ্রধানের যে উত্তর ছিল তার গুরুত্ব হয়তো বর্তমান পরিস্থিতিতে খুবই প্রাসঙ্গিক।
বাংলাদেশ সেনা সদরে অনুষ্ঠিত অফিসার্স অ্যড্রেস এর মাধ্যমে একাধিক সেনা সদস্যরা জাতিসংঘের রিপোর্টের যে অভিযোগ তুলে এনেছিল, সেই জাতিসংঘের প্রতিবেদন সম্পর্কে সেনাপ্রধান বলেন, জাতিসংঘ কর্তৃক জুলাই-আগস্ট বিষয়ে যে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে তাতে সেনাবাহিনীর কোনো বক্তব্য নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানতে পারেন, জাতিসংঘ সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলেও বর্তমান সরকার জাতিসংঘকে সে সুযোগ দেয়নি। সংস্কারসহ বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বা কীভাবে নিচ্ছে সে বিষয়ে দেশবাসীর পাশাপাশি তিনি এবং সেনাবাহিনী অবগত নয় বলে হতাশা ব্যক্ত করেন।
কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। কারণ সেনাপ্রধান এই বিষয়গুলি উত্থাপন করার পরই এগুলি প্রশ্নচিহ্নের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে কেন সরকার সেনাবাহিনীর সঙ্গে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমকে কথা বলতে দেয়নি? কি ছিল সরকারের উদ্দেশ্য?
এমনকি জুলাই আন্দোলনে সরকার পতনের যে সফলতা সেখানেও সেনাবাহিনীর ভূমিকা রয়েছে সেই হিসেবেও সেনাবাহিনীকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়নি বা তাদের সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়নি। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা শিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েম তিনি জাতিসংঘের ফ্ল্যাট ফাইন্ডিং কমিটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সহযোগিতায় ছিলেন, ফলে সেই কমিটির রিপোর্ট কতটা নিরপেক্ষ বা পক্ষপাত দুষ্ট হতে পারে তা হয়তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
এমনকি দাবি করা হচ্ছে যে জাতিসংঘ চেয়েছিল ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমস্ত রকম হত্যাকাণ্ড, অবিচার পুলিশের উপর আক্রমণ সবকিছুর তদন্ত করতে। কিন্তু সেটিতে বাঁধা দেয় সরকার। সরকারের তরফে ৫ অগাস্ট পর্যন্ত সমস্ত তদন্ত করা যাবে, কিন্তু জাতিসংঘের তরফে একাধিকবার দরকষাকষির পর শেষমেষ ১৫ ই আগস্ট পর্যন্ত এই তদন্ত প্রক্রিয়া চালানো হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু ১৫ ই আগস্ট পর্যন্ত জাতিসংঘের তরফে যদি ১৪০০ হত্যাকাণ্ডের রিপোর্ট সামনে আনা হয় তবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে গেজেট প্রকাশ করে জানানো হয়েছিল ৮৩৪টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে। বাকি হত্যাকান্ড গুলি ৫ই আগস্টের পর হয়েছে বলেই ধরে নিতে হবে। তাহলে ৫ই আগস্টে পরে হত্যাকাণ্ড গুলির বিচারের কি হবে? এই বিষয়গুলি প্রত্যক্ষ করার চেষ্টা করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ্জামান। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপস্টারের খেলায় যেভাবে মেতে উঠেছে জাতিসংঘ তাতে সেনাবাহিনী যদি রুখে দাঁড়ায় তার ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যদি সেনা সদস্যদের না নেয় সেই ভয় আর ভীত নয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেটাও স্পষ্ট সেনাবাহিনীর এই বক্তব্যে।












Discussion about this post