চতুর্থবর্ষের আইনের ছাত্রীর শর্মিষ্ঠা পালনির অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করল কলকাতা হাইকোর্ট। অনেকেই বলছেন কলকাতা হাইকোর্টের এই রায়ে মুখ পড়ল রাজ্যের শাসক দলের। পাশাপাশি সম্প্রতি অনুব্রত কাণ্ডের পর রাজ্য পুলিশের ব্যর্থতা আরো প্রকট হয়েছে, এবার পুলিশের মিথ্যাচারকে প্রকাশ্যে এনে, তোষণ নীতির মুখোশ খুললো উচ্চ আদালত।
সমাজ মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগে গ্রেফতার হন শর্মিষ্ঠা পানোলি। এবার এই ঘটনায় শর্মিষ্ঠার অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন মঞ্জুর করলেন বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী। দশ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। পাশাপাশি পুলিশকে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দেন বিচারপতি। তদন্তকারী অফিসারকে সাহায্য করা সহ একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে শর্মিষ্ঠাকে।
এদিন শুনানিতে পুলিশকে বিচারপতির প্রশ্ন কোন গ্রাউন্ডে গ্রেফতার? পুলিশকে সাহায্যের পরেও তাকে গুরগাঁও থেকে তুলে আনার প্রয়োজন কেন হল? মেয়েটিকে খুন ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হল যারা প্রকাশ্যে এই হুমকি দিল তাদের বিরুদ্ধে তাদের বিরুদ্ধে আপনাদের কি পদক্ষেপ? যে এই মেয়েটির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে সেই ওয়াজাদ খান হিন্দু ধর্ম নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করেছেন তাতেই বা আপনারা কি করেছেন? কিন্তু একটা প্রশ্নেরও জবাব নেই কলকাতা পুলিশের কাছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, নবান্নের ১৪ তলা ও তোষণ নীতিকে বাঁচিয়ে রাখতে কলকাতা পুলিশের এই ভূমিকা। যা আসন্ন ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফ্যাক্টর। একটা নির্দিষ্ট ধর্ম অর্থাৎ মুসলিম ধর্মকে খুশি করতেই শাসক দলের নির্দেশে নির্দোষ একজন আইনের ছাত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, এমনটাই দাবি।
অভিযুক্ত শর্মিষ্ঠা পালোনিকে জেলবন্দি রাখতেই আদালতে হাজির হয়েছিলেন অ্যাডভোকেট জেনারেল। এদিন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান কেস ডায়েরি আনা হয়েছে। কিন্তু শত্রু বলছে এই কেস ডাইরি দুদিন আগেও আদালতে পেশ করার কথা ছিল পুলিশের। যার ফলে দুদিন আগে আদালতের তরফে শর্মিষ্ঠা পানোলির জামিন খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল। এদিন কেস ডায়েরী আদলাতে পেশ করতেই জামিন মঞ্জুর কলকাতা হাইকোর্টের। এই মামলা প্রসঙ্গে আইনজীবীরা কি জানাচ্ছেন শুনুন,,,
বাইট
অভিযুক্ত শর্মিষ্ঠা পানোলির বাবা জানান এই ঘটনার পর, তারা লাল বাজারে গিয়েছিল এবং পুলিশের কথামতো ক্ষমা চাই সমাজের মাধ্যমে পোস্ট করেছিল শর্মিষ্ঠা। কিন্তু এরপরও যখন তার মেয়ের বিরুদ্ধে খুন ধর্ষণের নানা রকম হুমকি আসছিল তখন তারা পরিচয়ের উপর ভরসা করতে না পেরে গুরগাঁও যেতে বাধ্য হয়েছিল। অর্থাৎ তারা পালিয়ে যাননি। কিন্তু কলকাতা পুলিশ মানুষকে ভুল বোঝাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানায়, বহুবার পুলিশের তরফের নোটিশ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু তা দেওয়া সম্ভব হয়নি কারণ শর্মিষ্ঠা ও তার পরিবার পালিয়ে গিয়েছে। কিন্তু শর্মিষ্ঠার পরিবার জানাচ্ছে তারা লালবাজার থানায় গেছে আনন্দপুর থানায় গিয়েছিলো পুলিশের সাহায্য চাইতে যেহেতু তাদের মেয়েকে কোন ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। অর্থাৎ যখন পুলিশের তরফ থেকে কোনরকম সুরাহা পাওয়া গেল না তখনই তারা কলকাতার আনন্দপুরে থাকতে না পেরে গুরগাঁও চলে গিয়েছিলেন। এই ঘটনায় শর্মিষ্ঠা বানাবলীর বাবা কি বললেন, শুনুন এবার,,,
বাইট
অর্থাৎ কলকাতা পুলিশ মানুষকে ভুল বোঝাতে শর্মিষ্ঠা ও তার পরিবার পলাতক বলে দাবি জানিয়েছে এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য,এবার শর্মিষ্ঠা পানোলির পাশে দাঁড়াতে দেখা গেলো শ্রীরাম স্বাভিমান পরিষদের সম্পাদক সুরজ কুমার সিংকে, এই গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা করেন তিনি। পাশাপাশি তার বার্তা, “পরিষদ শর্মিষ্ঠার নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” শর্মিষ্ঠার পাশে দাঁড়িয়ে সুরজ সিং কি বললেন শুনুন,,
বাইট
সূত্রের খবর, গত ১৪ মে অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন শর্মিষ্ঠা। সেই ভিডিয়োয় এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। অনলাইনে তুমুল ক্ষোভের মুখে পড়েন। পরদিনই ১৫ মে গার্ডেনরিচ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই বিতর্কের জেরে ওই ভিডিয়ো ডিলিট করে দেন শর্মিষ্ঠা। ক্ষমাও চেয়ে নেন। কিন্তু এর পরবর্তীতে গুরগাঁও থেকে গ্রেফতার করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পেশ করা হয়েছিল শর্মিষ্ঠাকে। দেওয়া হয় তিনদিনের হেফাজতের নির্দেশ। ফের তাঁকে কলকাতায় আনা হয়। এরপর নিম্ন আদালতে জামিনের আর্জি খারিজ হয়ে যায় পরে কলকাতা হাইকোর্টেও এক দফায় খারিজ হয়েছিল শর্মিষ্ঠার জামিনের আর্জি। তবে শেষমেষ কলকাতা হাইকোর্ট থেকেই জামিনের স্বস্তি মিলল শর্মিষ্ঠার।












Discussion about this post