বাংলাদেশে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বাজেট পেশ হয়েছে। আর তাতে প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট কমিয়ে দিলেন মোহম্মদ ইউনূসের সরকার। নেপথ্যে কারণ কি? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আসলে সেনাবাহিনীকে দূর্বল করে দিতেই ইউনূসের এই প্রচেষ্টা। দেশের তিন বাহিনীকে ঠুঁটো জগন্নাথ বানানোর পরিকল্পনা। আসলে প্রধান উপদেষ্টা নাকি ভয়ঙ্কর খেলায় মেতেছেন। কিন্তু কেন সেনাবাহিনীর উপর রাগ তার? কি কারণ রয়েছে এর পিছনে?
বাংলাদেশ শাসন করছে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রায় ১০ মাস হতে চলল ক্ষমতার অলিন্দে রয়েছেন নোবেল জয়ী মোহম্মদ ইউনূস। কিন্তু দেশের বদল ঘটলো কি? অন্তত অর্থনীতিক বা সামরিক দিক থেকে দেশের পরিস্থিতি ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউনূসের দেশে উল্টো রাজনীতি। যখন দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার রাজনীতি অত্যন্ত সরগরম, আরাকান আর্মী ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে। তখন প্রত্যেকের নজর ছিল, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা বাজেট খাতের দিকে। আসলে কত টাকা বরাদ্দ করলেন বর্তমান সরকার? দেখা গেল, প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট কমিয়ে দিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করা হয়েছে। তারপরই প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দের অঙ্ক জানান। সেটি হল ৪০,৬৯৮ কোটি টাকা। এদিকে গত বছর প্রতিরক্ষা খাতে যে বাজেট পেশ করা হয়েছিল, তার অঙ্ক হল, ৪২,০১৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত বছরের থেকে ১,৩১৬ কোটি টাকার কম। আর এখানেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হঠাৎ কেন প্রতিরক্ষা খাতে এত টাকা কমিয়ে দিলেন মোহম্মদ ইউনূসের সরকার। নেপথ্যে কীসের ভয়? এখানেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি ভয়ানক তত্ত্ব খাড়া করছেন। আসলে সম্প্রতি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের দূরত্ব বেড়েছে। বিশেষত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। সেনাপ্রধান চেয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হোক। অন্যদিকে মহম্মদ ইউনূস চাইছেন, আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন করাতে। এটাকে কেন্দ্র করেই তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে সেনানিবাস এবং যমুনার মধ্যে। তার উপর চাপ সৃষ্টি করছে রাজনৈতিক দলগুলি।এখানেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে একটি জল্পনা বহু দিন ধরে চলেছে সামরিক শাসনকে কেন্দ্র করে। তবে কি দেশের তিন বাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত? এই মুহূর্তে এই প্রাসঙ্গিক প্রশ্নটাই উঠছে। এদিকে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা খাতে নয়,
প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও বাজেট কমিয়ে দিয়েছে সরকার। এদিকে বিদ্যুৎ খাতে
প্রায় ৯,০০০ কোটি টাকার মতো বরাদ্দ কাটছাঁট করা হয়েছে। তবে বাজেট বেড়েছে মাধ্যমিক এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় বরাদ্দে। তবে প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট কমানোকে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। এখন দেখার, শেষমেশ এই বিষয়ে কি ব্যাখ্যা দেন প্রধান উপদেষ্টা! পাশাপাশি দেশের সেনাপ্রধানের কি প্রতিক্রিয়া হয়!












Discussion about this post