ফের বাংলাদেশকে পূর্ব পাকিস্তানের রূপান্তরিত করতে মরিয়া ইউনুস। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দিন আহমেদ সহ ৭০ এর নির্বাচনে বিজয়ী ৪ শতাধিক রাজনীতিবিদ বিশেষত এমএনএ ও এমপিএ বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি কেড়ে নিয়েছে অন্তরবর্তী সরকার। এই আবহে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ সফরে যাবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সচিব তাদের উপঢৌকন হিসেবেই কি ইউনুসের এই সিদ্ধান্ত? সাম্প্রতিককালে পাকিস্তানি হাইকমিশনের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের একাধিক সাক্ষাৎকারের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই স্পষ্ট হয় ক্ষমতায় থাকতে কারা শক্তি জোগাচ্ছে!
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীসরকার গঠনের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আর কতটা নিচের নামতে পারে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার, প্রতিনিয়ত এখন সেটারই সাক্ষী থাকছে সে দেশের সাধারণ নাগরিক। প্রথমে সেদেশের জুলাই আন্দোলনকে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান অবমাননা করে দেশ ব্যাপী তাদের ভাস্কর্য ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং মুক্তিযুদ্ধের সুতিকাঘর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধুর বাসভবন বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে গুড়িয়ে ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছিল জুলাই আন্দোলনকারীরা। এতকিছু দেখার পর সে দেশের সাধারণ নাগরিক ভেবেছিল চমকে দেওয়ার মতন আর কিছুই হয়তো করার বাকি রইল না জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ও অন্তর্বর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠদের। কিন্তু না অন্তর্বর্তী সরকারের এই ষড়যন্ত্র এখানেই শেষ নয়। এবার মুক্তিযুদ্ধের মূল কান্ডারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ চার শত মুক্তিযোদ্ধাদের, মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি কেড়ে নিয়ে তাদের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগীতে রূপান্তরিত করলো, মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর সহ চার শত মুক্তিযোদ্ধা যারা বাঙালিকে নেতৃত্ব দিয়ে ৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে সশস্ত্র আন্দোলনে নেমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে ধরে যারা বাংলাদেশকে স্বাধীনতা এনে দিলেন তারা মুক্তিযোদ্ধা নয় তো কারা যুক্তিযোদ্ধা? মুক্তিযুদ্ধে সহযোগী বলতে তারা কাদেরই তা বোঝাতে চাইছে
যে কোন স্বাধীনতা যুদ্ধে দেখা গিয়েছে একদল মানুষ জাতিকে নেতৃত্ব দিয়ে যুদ্ধের দিকে ধাবিত করেছে, এবং যুদ্ধকালে রাজনৈতিক দিক থেকে নেতৃত্ব প্রদান করেও চলমান যুদ্ধে অস্ত্র হাতে ঢাল হয়েও দাঁড়ায় তারা। আর বাংলাদেশের হাজার বছরের যে পরাধীনতা সেখানে অনেকেই নেতৃত্ব প্রদান করে জাতিকে যুদ্ধের দিকে ধাবিত করলেও একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানী ছিলেন বিরল নেতৃত্বের অধিকারী তার কথায় জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতা যুদ্ধে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের জেল বন্দি করা হলে তাজউদ্দীন আহমেদ ভারতে গিয়ে এই যুদ্ধ পরিচালনা করে এবং জাতিকে নেতৃত্ব প্রদান করেন। কিন্তু তাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতিকে কেড়ে নেওয়ার খেলায় মত্ত হয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
জুলাই আন্দোলনের আগেই পাকিস্তান হাইকমিশনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দহরম মহরম বা সাক্ষাৎকারের ছবি স্পষ্ট করেছিল তাদের সহায়তায় জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা ক্ষমতায় আসতে সচেষ্ট হয়েছে। পাকিস্তান আইএসআই তৎপরতা, অস্ত্র ও অর্থ সবদিক থেকেই সহায়তা পেয়েছিল জুলাই আন্দোলনকারীরা। আর সেদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতায় এসেই পাকিস্তানের থেকে সন্দেহজনক জাহাজ ভর্তি অন্য দেশে সরবরাহ করাতে পরিষ্কারভাবেই বোঝা যায় পাকিস্তানের সমস্ত নির্দেশ মানতে বাধ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এবারও পাকিস্তানের নির্দেশ মতোই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দেশ থেকে মুছে ফেলতে উদ্যত বাংলাদেশের বর্তমান সরকার। যার ফলে একের পর এক মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সে দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত স্মৃতি মুছে ফের পূর্ব পাকিস্তানের স্মৃতি ফেরাতে মরিয়া প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস।












Discussion about this post